১১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে স্কটল্যান্ডে বড় বৈঠক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করলেন রাজা চার্লস ক্যানসার রোগীদের জীবনে বাড়তি সময়ের আশা, ইংল্যান্ডে NHS-এ মিলবে নতুন ওষুধ ব্রিটেনে ফিরেই নতুন সমীকরণে প্রিন্স হ্যারি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—রাজপরিবারে মর্যাদা কতটা? সমুদ্রের তলায় প্রবালের বাগান, ২১ হাজারের বেশি প্রবাল বাঁচানোর লড়াই বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস: জীবনভর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত হোক ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর ছেড়ে ৪৬ জনের দ্বীপে, বদলে গেল এক দম্পতির জীবন জাপানের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা, বেইজিং নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের সতর্কবার্তা রুশ জ্বালানি কেনায় চীনের ওপর চাপ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা অবস্থানে বেইজিং হালদওয়ানির ঘটনাই দেখাল, জাতিভিত্তিক অপমান ঠেকানোর আইনে কোথায় কাঠামোগত দুর্বলতা পাকিস্তান-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক: ভূরাজনীতির টানাপোড়েন পেরিয়ে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা

৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর ছেড়ে ৪৬ জনের দ্বীপে, বদলে গেল এক দম্পতির জীবন

স্কটল্যান্ডের ব্যস্ত শহর গ্লাসগো থেকে মাত্র ৪৬ জন মানুষের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে চলে যাওয়া—শুনতে যেন কোনো উপন্যাসের গল্প। কিন্তু সাংবাদিক এলি ডাফি ও তার স্বামীর জন্য এটি বাস্তব জীবন। দুই বছর আগে তারা শহরের পরিচিত ব্যস্ততা ছেড়ে স্কটল্যান্ডের আইল অব রাম-এ পাড়ি জমান। সঙ্গে ছিল তাদের পোষা বিড়াল। এরপর সেখানেই জন্ম নেয় তাদের সন্তান কাইলান।

এলি ডাফির জীবনের স্বপ্ন একসময় ছিল শহরকেন্দ্রিক। তিনি চেয়েছিলেন সম্প্রচার সাংবাদিকতায় কাজ করবেন, সঙ্গী ও পোষা বিড়াল নিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকবেন। ২০২৪ সালের মধ্যে তার সেই স্বপ্ন পূরণও হয়েছিল। গ্লাসগোতে বসবাস ও কাজ করছিলেন তিনি। টেলিভিশন প্রতিবেদনে কাজ করার পাশাপাশি নিজস্ব সন্ধ্যার সংবাদ অনুষ্ঠান তৈরির অভিজ্ঞতাও হয়েছিল তার।

কিন্তু একটি কাজের সূত্রে স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের ছোট্ট আইল অব রাম-এ যাওয়ার পর সবকিছু বদলে যায়। দ্বীপটি তাকে এতটাই আকৃষ্ট করে যে গ্লাসগোতে ফিরে এসেও সেটির কথা বারবার মনে পড়তে থাকে।

কয়েক মাস পর একটি সংবাদপত্রে দ্বীপটির হোস্টেল পরিচালনার জন্য এক দম্পতি খোঁজার বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। তখন তার মনে থাকা ‘যদি এমন হতো’ ধরনের ভাবনাগুলো আরও জোরালো হয়ে ওঠে। স্বামী আগে কখনো রামে যাননি। তবে স্ত্রীর তোলা ছবি দেখে তিনিও দ্বীপটির প্রতি আকৃষ্ট হন।

এক মঙ্গলবার বিকেলে তারা জানতে পারেন, হোস্টেল পরিচালনার কাজটি তারা পেয়েছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের ফ্ল্যাট গুছিয়ে ফেলেন তারা। পোষা বিড়ালকে ক্যারিয়ারে নিয়ে ফেরিতে চড়ে বসেন। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা পুরোপুরি না জেনেই শুরু হয় নতুন জীবন।

শহরের জীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা

প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর থেকে ৪৬ জনের দ্বীপে গিয়ে প্রথম ধাক্কাটা ছিল জীবনযাত্রার পার্থক্য। শহরে যেসব সুবিধা স্বাভাবিক বলে মনে হয়, রামে সেগুলোর অনেকটাই নির্ভর করে প্রকৃতি ও আবহাওয়ার ওপর।

দ্বীপটির জীবন অনেকটাই ফেরির ওপর নির্ভরশীল। বাতাসের একটি শক্তিশালী ঝাপটাও কখনো ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। তখন কয়েক দিনের জন্য মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

খাবার সরবরাহ, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, অতিথিদের আসা কিংবা হোস্টেল পরিচালনা—সবকিছুতেই আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে। ফলে দ্বীপে থাকার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করে চলতে হয়।

প্রথম শীতের আগে এলি ও তার স্বামী ঘরের আলমারি ও ফ্রিজারে প্রয়োজনীয় খাবার মজুত করে রাখেন। এত বেশি চা-পাতা ও চায়ের ব্যাগ কিনেছিলেন যে প্রায় দুই বছর পরও সেগুলোর কিছু ব্যবহার করা বাকি ছিল।

তবু সব ধরনের প্রস্তুতির পরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ধীরে ধীরে তারা শিখেছেন, এই জীবনে সবকিছু নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে—এমন আশা করা ঠিক নয়। বরং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরস্থির হওয়াই এখানে টিকে থাকার অন্যতম উপায়।

ছোট্ট দ্বীপেই তৈরি হলো বড় পরিবার

আইল অব রামের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু পাহাড়, সবুজ ঘাস, ঝরনা বা বন্যপ্রাণী নয়—এর মানুষজনও।

দ্বীপটির বাসিন্দাদের অধিকাংশই কিনলক নামের ছোট্ট এলাকায় বসবাস করেন। প্রায় এক মাইলজুড়ে থাকা এই গ্রামেই রয়েছে দ্বীপটির একমাত্র দোকান, প্রাথমিক বিদ্যালয়, পর্যটকদের থাকার জায়গা এবং অধিকাংশ মানুষের বাড়ি।

এত ছোট জায়গায় বসবাস করার অর্থ হলো, কেউই খুব বেশি অচেনা থাকতে পারেন না। নতুন বাসিন্দা হিসেবে এলি ও তার স্বামীর শুরুতে কিছুটা উদ্বেগ ছিল—প্রতিবেশীরা তাদের কীভাবে নেবেন? তারাও বা নতুন পরিবেশের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন?

কিন্তু দ্বীপে পৌঁছানোর পর সেই ভয় দ্রুত কেটে যায়। ফেরি দুটির যাত্রার মাঝখানে মাত্র দুই ঘণ্টার যে সময় পাওয়া গিয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যেই পুরো দ্বীপের মানুষ তাদের মালপত্র নামাতে সাহায্য করতে হাজির হয়েছিলেন।

এরপর প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বও হয়ে যায় সহজেই। একই মানুষদের প্রতিদিন দেখা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতা। নিয়মিত একসঙ্গে খাবার খাওয়া, মৌসুমি উৎসব এবং গ্রামের চত্বরে সামাজিক আয়োজন দ্বীপের মানুষদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।

এই পরিবেশেই পৃথিবীতে এলো তাদের সন্তান

এই ঘনিষ্ঠ সামাজিক পরিবেশই এলি ও তার স্বামীকে দ্বীপে পরিবার শুরু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তখন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন শিশু ছিল। তাদের সেখানে যাওয়ার আগে কয়েক বছর ধরে দ্বীপে কোনো শিশু জন্ম নেয়নি।

দ্বীপে আসার কয়েক মাস পর এলি অন্তঃসত্ত্বা হন। ফেরি থেকে সেই ঝড়ো অক্টোবরের দিনে দ্বীপে পা রাখার প্রায় এক বছর পর তাদের ছেলে কাইলানের জন্ম হয়। ছোট্ট দ্বীপের জন্য ঘটনাটি ছিল বিশেষ আনন্দের।

কাইলান এখন প্রায় এক বছরের। আর এলি ও তার স্বামী রামে বসবাসের দ্বিতীয় বছর পূর্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এর মধ্যে দ্বীপে আরও কয়েকটি শিশুর জন্ম হয়েছে। ফলে নতুন অভিভাবকদের নিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি ছোট্ট শিশুদলও।

সবকিছুই যে সহজ, তা নয়

তবে এলি মনে করেন না যে দ্বীপের জীবন মানেই স্থায়ী ছুটি। এখানে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য আছে, তেমনি রয়েছে কঠিন বাস্তবতাও।

আবহাওয়া কখনো অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে ওঠে। দ্বীপে নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অসুবিধা হয়। আবার শহরের মতো হঠাৎ কোনো পরিকল্পনা করে কোথাও বেরিয়ে পড়ার সুযোগও নেই।

মাঝেমধ্যে এলির শহুরে জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততা মনে পড়ে। কিন্তু শহরের যে ব্যস্ততা ও সবসময় তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকার অনুভূতি ছিল, সেটি তিনি মোটেও মিস করেন না।

দুই বছর আগে তিনি ভেবেছিলেন, রামে চলে যাওয়ার অর্থ হয়তো জীবনের অনেক কিছু ছেড়ে দেওয়া। এখন তার উপলব্ধি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তার কাছে স্কটল্যান্ডের এই প্রত্যন্ত দ্বীপটি কিছু কেড়ে নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কিছু দিয়েছে—প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ, ধীরগতির জীবন, একটি ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ও পরিবারের জন্য নতুন এক ধরনের জীবন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে স্কটল্যান্ডে বড় বৈঠক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করলেন রাজা চার্লস

৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর ছেড়ে ৪৬ জনের দ্বীপে, বদলে গেল এক দম্পতির জীবন

১০:১৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কটল্যান্ডের ব্যস্ত শহর গ্লাসগো থেকে মাত্র ৪৬ জন মানুষের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে চলে যাওয়া—শুনতে যেন কোনো উপন্যাসের গল্প। কিন্তু সাংবাদিক এলি ডাফি ও তার স্বামীর জন্য এটি বাস্তব জীবন। দুই বছর আগে তারা শহরের পরিচিত ব্যস্ততা ছেড়ে স্কটল্যান্ডের আইল অব রাম-এ পাড়ি জমান। সঙ্গে ছিল তাদের পোষা বিড়াল। এরপর সেখানেই জন্ম নেয় তাদের সন্তান কাইলান।

এলি ডাফির জীবনের স্বপ্ন একসময় ছিল শহরকেন্দ্রিক। তিনি চেয়েছিলেন সম্প্রচার সাংবাদিকতায় কাজ করবেন, সঙ্গী ও পোষা বিড়াল নিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকবেন। ২০২৪ সালের মধ্যে তার সেই স্বপ্ন পূরণও হয়েছিল। গ্লাসগোতে বসবাস ও কাজ করছিলেন তিনি। টেলিভিশন প্রতিবেদনে কাজ করার পাশাপাশি নিজস্ব সন্ধ্যার সংবাদ অনুষ্ঠান তৈরির অভিজ্ঞতাও হয়েছিল তার।

কিন্তু একটি কাজের সূত্রে স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের ছোট্ট আইল অব রাম-এ যাওয়ার পর সবকিছু বদলে যায়। দ্বীপটি তাকে এতটাই আকৃষ্ট করে যে গ্লাসগোতে ফিরে এসেও সেটির কথা বারবার মনে পড়তে থাকে।

কয়েক মাস পর একটি সংবাদপত্রে দ্বীপটির হোস্টেল পরিচালনার জন্য এক দম্পতি খোঁজার বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। তখন তার মনে থাকা ‘যদি এমন হতো’ ধরনের ভাবনাগুলো আরও জোরালো হয়ে ওঠে। স্বামী আগে কখনো রামে যাননি। তবে স্ত্রীর তোলা ছবি দেখে তিনিও দ্বীপটির প্রতি আকৃষ্ট হন।

এক মঙ্গলবার বিকেলে তারা জানতে পারেন, হোস্টেল পরিচালনার কাজটি তারা পেয়েছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের ফ্ল্যাট গুছিয়ে ফেলেন তারা। পোষা বিড়ালকে ক্যারিয়ারে নিয়ে ফেরিতে চড়ে বসেন। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা পুরোপুরি না জেনেই শুরু হয় নতুন জীবন।

শহরের জীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা

প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর থেকে ৪৬ জনের দ্বীপে গিয়ে প্রথম ধাক্কাটা ছিল জীবনযাত্রার পার্থক্য। শহরে যেসব সুবিধা স্বাভাবিক বলে মনে হয়, রামে সেগুলোর অনেকটাই নির্ভর করে প্রকৃতি ও আবহাওয়ার ওপর।

দ্বীপটির জীবন অনেকটাই ফেরির ওপর নির্ভরশীল। বাতাসের একটি শক্তিশালী ঝাপটাও কখনো ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। তখন কয়েক দিনের জন্য মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

খাবার সরবরাহ, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, অতিথিদের আসা কিংবা হোস্টেল পরিচালনা—সবকিছুতেই আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে। ফলে দ্বীপে থাকার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করে চলতে হয়।

প্রথম শীতের আগে এলি ও তার স্বামী ঘরের আলমারি ও ফ্রিজারে প্রয়োজনীয় খাবার মজুত করে রাখেন। এত বেশি চা-পাতা ও চায়ের ব্যাগ কিনেছিলেন যে প্রায় দুই বছর পরও সেগুলোর কিছু ব্যবহার করা বাকি ছিল।

তবু সব ধরনের প্রস্তুতির পরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ধীরে ধীরে তারা শিখেছেন, এই জীবনে সবকিছু নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে—এমন আশা করা ঠিক নয়। বরং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরস্থির হওয়াই এখানে টিকে থাকার অন্যতম উপায়।

ছোট্ট দ্বীপেই তৈরি হলো বড় পরিবার

আইল অব রামের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু পাহাড়, সবুজ ঘাস, ঝরনা বা বন্যপ্রাণী নয়—এর মানুষজনও।

দ্বীপটির বাসিন্দাদের অধিকাংশই কিনলক নামের ছোট্ট এলাকায় বসবাস করেন। প্রায় এক মাইলজুড়ে থাকা এই গ্রামেই রয়েছে দ্বীপটির একমাত্র দোকান, প্রাথমিক বিদ্যালয়, পর্যটকদের থাকার জায়গা এবং অধিকাংশ মানুষের বাড়ি।

এত ছোট জায়গায় বসবাস করার অর্থ হলো, কেউই খুব বেশি অচেনা থাকতে পারেন না। নতুন বাসিন্দা হিসেবে এলি ও তার স্বামীর শুরুতে কিছুটা উদ্বেগ ছিল—প্রতিবেশীরা তাদের কীভাবে নেবেন? তারাও বা নতুন পরিবেশের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন?

কিন্তু দ্বীপে পৌঁছানোর পর সেই ভয় দ্রুত কেটে যায়। ফেরি দুটির যাত্রার মাঝখানে মাত্র দুই ঘণ্টার যে সময় পাওয়া গিয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যেই পুরো দ্বীপের মানুষ তাদের মালপত্র নামাতে সাহায্য করতে হাজির হয়েছিলেন।

এরপর প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বও হয়ে যায় সহজেই। একই মানুষদের প্রতিদিন দেখা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতা। নিয়মিত একসঙ্গে খাবার খাওয়া, মৌসুমি উৎসব এবং গ্রামের চত্বরে সামাজিক আয়োজন দ্বীপের মানুষদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।

এই পরিবেশেই পৃথিবীতে এলো তাদের সন্তান

এই ঘনিষ্ঠ সামাজিক পরিবেশই এলি ও তার স্বামীকে দ্বীপে পরিবার শুরু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তখন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন শিশু ছিল। তাদের সেখানে যাওয়ার আগে কয়েক বছর ধরে দ্বীপে কোনো শিশু জন্ম নেয়নি।

দ্বীপে আসার কয়েক মাস পর এলি অন্তঃসত্ত্বা হন। ফেরি থেকে সেই ঝড়ো অক্টোবরের দিনে দ্বীপে পা রাখার প্রায় এক বছর পর তাদের ছেলে কাইলানের জন্ম হয়। ছোট্ট দ্বীপের জন্য ঘটনাটি ছিল বিশেষ আনন্দের।

কাইলান এখন প্রায় এক বছরের। আর এলি ও তার স্বামী রামে বসবাসের দ্বিতীয় বছর পূর্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এর মধ্যে দ্বীপে আরও কয়েকটি শিশুর জন্ম হয়েছে। ফলে নতুন অভিভাবকদের নিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি ছোট্ট শিশুদলও।

সবকিছুই যে সহজ, তা নয়

তবে এলি মনে করেন না যে দ্বীপের জীবন মানেই স্থায়ী ছুটি। এখানে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য আছে, তেমনি রয়েছে কঠিন বাস্তবতাও।

আবহাওয়া কখনো অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে ওঠে। দ্বীপে নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অসুবিধা হয়। আবার শহরের মতো হঠাৎ কোনো পরিকল্পনা করে কোথাও বেরিয়ে পড়ার সুযোগও নেই।

মাঝেমধ্যে এলির শহুরে জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততা মনে পড়ে। কিন্তু শহরের যে ব্যস্ততা ও সবসময় তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকার অনুভূতি ছিল, সেটি তিনি মোটেও মিস করেন না।

দুই বছর আগে তিনি ভেবেছিলেন, রামে চলে যাওয়ার অর্থ হয়তো জীবনের অনেক কিছু ছেড়ে দেওয়া। এখন তার উপলব্ধি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তার কাছে স্কটল্যান্ডের এই প্রত্যন্ত দ্বীপটি কিছু কেড়ে নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কিছু দিয়েছে—প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ, ধীরগতির জীবন, একটি ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ও পরিবারের জন্য নতুন এক ধরনের জীবন।