১১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে স্কটল্যান্ডে বড় বৈঠক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করলেন রাজা চার্লস ক্যানসার রোগীদের জীবনে বাড়তি সময়ের আশা, ইংল্যান্ডে NHS-এ মিলবে নতুন ওষুধ ব্রিটেনে ফিরেই নতুন সমীকরণে প্রিন্স হ্যারি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—রাজপরিবারে মর্যাদা কতটা? সমুদ্রের তলায় প্রবালের বাগান, ২১ হাজারের বেশি প্রবাল বাঁচানোর লড়াই বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস: জীবনভর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত হোক ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর ছেড়ে ৪৬ জনের দ্বীপে, বদলে গেল এক দম্পতির জীবন জাপানের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা, বেইজিং নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের সতর্কবার্তা রুশ জ্বালানি কেনায় চীনের ওপর চাপ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা অবস্থানে বেইজিং হালদওয়ানির ঘটনাই দেখাল, জাতিভিত্তিক অপমান ঠেকানোর আইনে কোথায় কাঠামোগত দুর্বলতা পাকিস্তান-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক: ভূরাজনীতির টানাপোড়েন পেরিয়ে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা

ব্রিটেনে ফিরেই নতুন সমীকরণে প্রিন্স হ্যারি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—রাজপরিবারে মর্যাদা কতটা?

যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর এবার ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি। স্ত্রী মেগান মার্কেলকে নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর এতদিন অনেকটাই আড়ালে ছিলেন সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস। তবে চলতি সপ্তাহে হ্যারির একাধিক জনসম্মুখে উপস্থিতি ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে তাঁর নিরাপত্তা, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজকীয় মর্যাদার প্রশ্ন।

হ্যারি ও মেগান গত ২৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। তাঁরা এখন ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলের কটসওল্ডস এলাকায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে নিজেদের নতুন ঠিকানা বা সন্তানদের স্কুল সম্পর্কে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে মেগান তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরিবারের নতুন জীবনের কিছু ঝলক প্রকাশ করেছেন। সেখানে ছেলে আর্চি, মেয়ে লিলিবেট এবং পরিবারের দুই কুকুরকে ইংল্যান্ডের গ্রামীণ পরিবেশে সময় কাটাতে দেখা যায়। প্রিন্স হ্যারির ৪২তম জন্মদিনের সময় এসব ছবি ও ভিডিও সামনে আসে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনের একটি রেকর্ডিং স্টুডিওতে হ্যারিকে দেখা গিয়েছিল। এরপর এবার তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি আরও বাড়তে যাচ্ছে।

ইনভিক্টাস গেমস ও ওয়েলচাইল্ড অনুষ্ঠানে হ্যারি

যুদ্ধাহত ও আহত সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য কাজ করা হ্যারির দাতব্য সংস্থা ইনভিক্টাস গেমসের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে চলতি সপ্তাহে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ওয়েলচাইল্ড অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক।

ফলে দীর্ঘদিন পর ব্রিটেনে হ্যারির প্রকাশ্য কার্যক্রম আবারও সংবাদমাধ্যমের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। হ্যারি ও মেগানের সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের খবরও সম্প্রতি সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের উদ্বেগের কারণেই স্কুল বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগের স্কুলে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো এবং পথে ব্যাপক যানজট থাকত বলে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

আবার কি সরকারি নিরাপত্তা পাবেন হ্যারি?

হ্যারির যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে তাঁর পুলিশি নিরাপত্তা।

ব্রিটেনে কোন রাজপরিবারের সদস্য, রাজনীতিক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারি অর্থে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাধীন একটি সংস্থা তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় সরকারি অর্থে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার হারানোর পর হ্যারি দীর্ঘ আইনি লড়াই করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা ফিরে পাননি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তিনি আগে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনাও নাকচ করেছিলেন।

২০২০ সালে হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাজ্য থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। ওই সিদ্ধান্তের পর রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কেও তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়।

সময়ের সঙ্গে বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বড় ভাই ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে ধারণা করা হয়।

রাজপরিবারের ‘কর্মরত সদস্য’ নন হ্যারি-মেগান

হ্যারি-মেগানের আকস্মিক যুক্তরাজ্য প্রত্যাবর্তন রাজপরিবারকেও কিছুটা অপ্রস্তুত করেছে বলে রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এড ওওয়েন্স মনে করেন।

এর মধ্যেই বাকিংহাম প্যালেস চলতি মাসে তাঁদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেনের একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, হ্যারি ও মেগানকে রাজপরিবারের ‘কর্মরত সদস্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

রাজপরিবারবিষয়ক সাবেক বিবিসি সংবাদদাতা জেনি বন্ডের মতে, এটি ছিল একটি সরাসরি এবং স্পষ্ট বার্তা। তাঁর ভাষায়, সাসেক্স দম্পতির কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ফিরে আসার সম্ভাবনার দরজা এখনো বন্ধ।

তিনি মনে করেন, শুধু যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁদের মর্যাদায় পরিবর্তন আনবেন—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে হ্যারি ও মেগান তাঁদের হাতে ওই নির্দেশনা পৌঁছানোর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রকাশ্যে আসায় বিস্মিত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিটিশদের কতটা সমর্থন আছে?

হ্যারি-মেগানের সম্ভাব্য রাজকীয় দায়িত্বে ফেরার বিষয়েও ব্রিটিশ জনমত খুব একটা উৎসাহী নয়।

সাম্প্রতিক ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক তাঁদের আবার কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দেখতে চান। বিপরীতে প্রায় অর্ধেক মানুষ এমন প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য না হলেও তাঁদের কর্মকাণ্ড ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

হ্যারির বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ইনভিক্টাস গেমস, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাজ্যে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের আলোচনাকেও নতুন করে সামনে আনতে পারে।

ইনভিক্টাস গেমস নিয়েও তৈরি হয়েছিল অস্বস্তি

হ্যারি ও রাজপরিবারের মধ্যকার এই অস্বস্তির একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ দেখা গেছে ইনভিক্টাস গেমসে উগান্ডার অংশগ্রহণ ঘিরে।

উগান্ডার সামরিক প্রধান জেনারেল মুওহুজি কাইনারুগাবা দেশটির গেমস থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি এমন কোনো অবস্থান নিতে চাননি, যাতে মনে হতে পারে উগান্ডা রাজা তৃতীয় চার্লসের বিরোধিতা করছে।

পরে অবশ্য সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজা চার্লসের প্রধান ব্যক্তিগত সচিব উগান্ডার পক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আশ্বস্ত করেন যে, রাজা উগান্ডার ইনভিক্টাস গেমসে অংশগ্রহণে কোনো সমস্যা দেখছেন না।

সব মিলিয়ে, হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তন আপাতত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাঁরা দেশটিতে ফিরে এলেও রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় তাঁদের অবস্থান বদলায়নি। সামনে হ্যারির প্রকাশ্য কর্মসূচি যত বাড়বে, ততই নিরাপত্তা, রাজকীয় মর্যাদা এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে স্কটল্যান্ডে বড় বৈঠক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করলেন রাজা চার্লস

ব্রিটেনে ফিরেই নতুন সমীকরণে প্রিন্স হ্যারি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—রাজপরিবারে মর্যাদা কতটা?

১০:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর এবার ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি। স্ত্রী মেগান মার্কেলকে নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর এতদিন অনেকটাই আড়ালে ছিলেন সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস। তবে চলতি সপ্তাহে হ্যারির একাধিক জনসম্মুখে উপস্থিতি ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে তাঁর নিরাপত্তা, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজকীয় মর্যাদার প্রশ্ন।

হ্যারি ও মেগান গত ২৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। তাঁরা এখন ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলের কটসওল্ডস এলাকায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে নিজেদের নতুন ঠিকানা বা সন্তানদের স্কুল সম্পর্কে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে মেগান তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরিবারের নতুন জীবনের কিছু ঝলক প্রকাশ করেছেন। সেখানে ছেলে আর্চি, মেয়ে লিলিবেট এবং পরিবারের দুই কুকুরকে ইংল্যান্ডের গ্রামীণ পরিবেশে সময় কাটাতে দেখা যায়। প্রিন্স হ্যারির ৪২তম জন্মদিনের সময় এসব ছবি ও ভিডিও সামনে আসে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনের একটি রেকর্ডিং স্টুডিওতে হ্যারিকে দেখা গিয়েছিল। এরপর এবার তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি আরও বাড়তে যাচ্ছে।

ইনভিক্টাস গেমস ও ওয়েলচাইল্ড অনুষ্ঠানে হ্যারি

যুদ্ধাহত ও আহত সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য কাজ করা হ্যারির দাতব্য সংস্থা ইনভিক্টাস গেমসের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে চলতি সপ্তাহে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ওয়েলচাইল্ড অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক।

ফলে দীর্ঘদিন পর ব্রিটেনে হ্যারির প্রকাশ্য কার্যক্রম আবারও সংবাদমাধ্যমের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। হ্যারি ও মেগানের সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের খবরও সম্প্রতি সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের উদ্বেগের কারণেই স্কুল বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগের স্কুলে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো এবং পথে ব্যাপক যানজট থাকত বলে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

আবার কি সরকারি নিরাপত্তা পাবেন হ্যারি?

হ্যারির যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে তাঁর পুলিশি নিরাপত্তা।

ব্রিটেনে কোন রাজপরিবারের সদস্য, রাজনীতিক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারি অর্থে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাধীন একটি সংস্থা তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় সরকারি অর্থে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার হারানোর পর হ্যারি দীর্ঘ আইনি লড়াই করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধা ফিরে পাননি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তিনি আগে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনাও নাকচ করেছিলেন।

২০২০ সালে হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাজ্য থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। ওই সিদ্ধান্তের পর রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কেও তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়।

সময়ের সঙ্গে বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বড় ভাই ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে ধারণা করা হয়।

রাজপরিবারের ‘কর্মরত সদস্য’ নন হ্যারি-মেগান

হ্যারি-মেগানের আকস্মিক যুক্তরাজ্য প্রত্যাবর্তন রাজপরিবারকেও কিছুটা অপ্রস্তুত করেছে বলে রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এড ওওয়েন্স মনে করেন।

এর মধ্যেই বাকিংহাম প্যালেস চলতি মাসে তাঁদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেনের একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, হ্যারি ও মেগানকে রাজপরিবারের ‘কর্মরত সদস্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

রাজপরিবারবিষয়ক সাবেক বিবিসি সংবাদদাতা জেনি বন্ডের মতে, এটি ছিল একটি সরাসরি এবং স্পষ্ট বার্তা। তাঁর ভাষায়, সাসেক্স দম্পতির কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ফিরে আসার সম্ভাবনার দরজা এখনো বন্ধ।

তিনি মনে করেন, শুধু যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁদের মর্যাদায় পরিবর্তন আনবেন—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে হ্যারি ও মেগান তাঁদের হাতে ওই নির্দেশনা পৌঁছানোর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রকাশ্যে আসায় বিস্মিত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিটিশদের কতটা সমর্থন আছে?

হ্যারি-মেগানের সম্ভাব্য রাজকীয় দায়িত্বে ফেরার বিষয়েও ব্রিটিশ জনমত খুব একটা উৎসাহী নয়।

সাম্প্রতিক ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক তাঁদের আবার কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দেখতে চান। বিপরীতে প্রায় অর্ধেক মানুষ এমন প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য না হলেও তাঁদের কর্মকাণ্ড ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

হ্যারির বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ইনভিক্টাস গেমস, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাজ্যে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের আলোচনাকেও নতুন করে সামনে আনতে পারে।

ইনভিক্টাস গেমস নিয়েও তৈরি হয়েছিল অস্বস্তি

হ্যারি ও রাজপরিবারের মধ্যকার এই অস্বস্তির একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ দেখা গেছে ইনভিক্টাস গেমসে উগান্ডার অংশগ্রহণ ঘিরে।

উগান্ডার সামরিক প্রধান জেনারেল মুওহুজি কাইনারুগাবা দেশটির গেমস থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি এমন কোনো অবস্থান নিতে চাননি, যাতে মনে হতে পারে উগান্ডা রাজা তৃতীয় চার্লসের বিরোধিতা করছে।

পরে অবশ্য সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজা চার্লসের প্রধান ব্যক্তিগত সচিব উগান্ডার পক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আশ্বস্ত করেন যে, রাজা উগান্ডার ইনভিক্টাস গেমসে অংশগ্রহণে কোনো সমস্যা দেখছেন না।

সব মিলিয়ে, হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তন আপাতত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাঁরা দেশটিতে ফিরে এলেও রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় তাঁদের অবস্থান বদলায়নি। সামনে হ্যারির প্রকাশ্য কর্মসূচি যত বাড়বে, ততই নিরাপত্তা, রাজকীয় মর্যাদা এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।