মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার এক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিক সফরে আমন্ত্রণ জানাতে তিনি প্রস্তুত। তবে শর্ত একটি। জান্তা সরকারকে হাজার হাজার শরণার্থী ফেরত নিতে হবে। এই তালিকায় রয়েছেন রোহিঙ্গারাও, যারা এখন মালয়েশিয়ায় আশ্রয়ে আছেন। ডিভিবি ইংলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি মিয়ানমারের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নিয়েছেন।
এই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তাব এমন সময়ে এলো, যখন মিয়ানমার সংকট নিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়েছেন। তাদের বড় অংশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। বাকিরা ছড়িয়ে পড়েছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক শরণার্থী মর্যাদা দেয়নি। ফলে সেখানে তাদের আইনি অবস্থান বরাবরই অনিশ্চিত। বছরের পর বছর কাজের অনুমতি ও শিক্ষার সুযোগ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন তারা।
আনোয়ারের এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ। এটি মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। জান্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু দেশ জান্তার সঙ্গে বাস্তবমুখী সম্পর্ক রাখার পক্ষে। আবার কিছু দেশ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে সরব। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে অবস্থিত। সেখানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা বছরের পর বছর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঢাকা বারবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দ্রুত ও নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে এসেছে। কোনো দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি মডেল তৈরি করতে পারলে তা বাংলাদেশের প্রচেষ্টার জন্য নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এক মার্কিন নাগরিকের খবরও এসেছে, যা জান্তার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর জটিল সম্পর্কের আরেকটি দিক তুলে ধরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















