০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করতে বিরল সফরে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত অন্তত তিন, বন্দুকধারীও নিহত উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, নিহত ১৬ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান, মালয়েশিয়াকে সতর্ক করল ফরটিফাই রাইটস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীদের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকি ম্যাচে ভুলে বাজল উত্তর কোরিয়ার সংগীত আরাকানে রোহিঙ্গাদের ভূমি দখল নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিবেদনে নতুন তথ্য রাখাইনে সিত্তওয়ে ঘিরে মিয়ানমার সেনার হামলা, দুই নৌকা ধ্বংস রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ ‘দ্য হোলস’-এ পুরুষের একাকিত্বের অন্ধকারে ঢুকছেন ম্যাক্স উলফ ফ্রিডলিখ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ

 

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার এক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিক সফরে আমন্ত্রণ জানাতে তিনি প্রস্তুত। তবে শর্ত একটি। জান্তা সরকারকে হাজার হাজার শরণার্থী ফেরত নিতে হবে। এই তালিকায় রয়েছেন রোহিঙ্গারাও, যারা এখন মালয়েশিয়ায় আশ্রয়ে আছেন। ডিভিবি ইংলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি মিয়ানমারের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নিয়েছেন।

এই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তাব এমন সময়ে এলো, যখন মিয়ানমার সংকট নিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়েছেন। তাদের বড় অংশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। বাকিরা ছড়িয়ে পড়েছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক শরণার্থী মর্যাদা দেয়নি। ফলে সেখানে তাদের আইনি অবস্থান বরাবরই অনিশ্চিত। বছরের পর বছর কাজের অনুমতি ও শিক্ষার সুযোগ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন তারা।

আনোয়ারের এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ। এটি মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। জান্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু দেশ জান্তার সঙ্গে বাস্তবমুখী সম্পর্ক রাখার পক্ষে। আবার কিছু দেশ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে সরব। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য এই খবর সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে অবস্থিত। সেখানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা বছরের পর বছর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঢাকা বারবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দ্রুত ও নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে এসেছে। কোনো দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি মডেল তৈরি করতে পারলে তা বাংলাদেশের প্রচেষ্টার জন্য নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এক মার্কিন নাগরিকের খবরও এসেছে, যা জান্তার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর জটিল সম্পর্কের আরেকটি দিক তুলে ধরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করতে বিরল সফরে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ

০৬:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার এক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিক সফরে আমন্ত্রণ জানাতে তিনি প্রস্তুত। তবে শর্ত একটি। জান্তা সরকারকে হাজার হাজার শরণার্থী ফেরত নিতে হবে। এই তালিকায় রয়েছেন রোহিঙ্গারাও, যারা এখন মালয়েশিয়ায় আশ্রয়ে আছেন। ডিভিবি ইংলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি মিয়ানমারের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নিয়েছেন।

এই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তাব এমন সময়ে এলো, যখন মিয়ানমার সংকট নিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়েছেন। তাদের বড় অংশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। বাকিরা ছড়িয়ে পড়েছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক শরণার্থী মর্যাদা দেয়নি। ফলে সেখানে তাদের আইনি অবস্থান বরাবরই অনিশ্চিত। বছরের পর বছর কাজের অনুমতি ও শিক্ষার সুযোগ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন তারা।

আনোয়ারের এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ। এটি মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। জান্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু দেশ জান্তার সঙ্গে বাস্তবমুখী সম্পর্ক রাখার পক্ষে। আবার কিছু দেশ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে সরব। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য এই খবর সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে অবস্থিত। সেখানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা বছরের পর বছর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঢাকা বারবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দ্রুত ও নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে এসেছে। কোনো দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি মডেল তৈরি করতে পারলে তা বাংলাদেশের প্রচেষ্টার জন্য নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এক মার্কিন নাগরিকের খবরও এসেছে, যা জান্তার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর জটিল সম্পর্কের আরেকটি দিক তুলে ধরে।