মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়েকে ঘাঁটি বানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সেখান থেকে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা জোরদার করেছে তারা। মিয়ানমার নাউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয়রা বলছেন সাম্প্রতিক অভিযানে দুটি মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়েছে। এই সিত্তওয়ে হামলা মূলত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাখাইন রাজ্য দীর্ঘদিন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৩ সালে জান্তা ও আরাকান আর্মির যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে এই অঞ্চলে সহিংসতা নিয়মিত ঘটনা। আরাকান আর্মি ইতিমধ্যে রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। জান্তা বাহিনী সিত্তওয়েসহ কিছু কৌশলগত পয়েন্ট ধরে রাখার চেষ্টা করছে। উপকূলীয় এই শহর জান্তার জন্য সরবরাহ ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সিত্তওয়ে হামলা প্রমাণ করে জান্তার কৌশল এখনো আক্রমণাত্মক, প্রতিরক্ষামূলক নয়।
এই সংঘাত সরাসরি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। রাখাইনে সহিংসতা বাড়লে সীমান্তের ওপারে নতুন করে মানুষ পালিয়ে আসার আশঙ্কা বাড়ে। জেলে সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মাছ ধরাই রাখাইনের বহু মানুষের একমাত্র জীবিকা। নৌকা ধ্বংস হওয়া মানে জীবিকা হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়া। এমন মানুষ শেষে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারেন।
জান্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। মিয়ানমারে চলমান তথ্য অবরোধের এটি একটি সাধারণ চিত্র। স্বাধীন সাংবাদিকদের রাখাইনে প্রবেশাধিকার নেই। তাই স্থানীয়দের বয়ানই এখন তথ্যের প্রধান উৎস। এই তথ্য যাচাই করা কঠিন হলেও উপেক্ষা করার মতো নয়, কারণ একই ধরনের বিবরণ একাধিক স্থানীয় সূত্র থেকে আসছে।
কক্সবাজারে আশ্রিত দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য রাখাইনের প্রতিটি সংঘাতের খবর নতুন উদ্বেগ বয়ে আনে। তাদের নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা এতে আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। সিত্তওয়ে হামলার মতো ঘটনা রাখাইনকে প্রত্যাবাসনের জন্য আরও অনিরাপদ করে তুলছে বলে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















