আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা বেসামরিক নাগরিকরা জান্তা ও আরাকান আর্মি উভয়ের হাতে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ডিভিবি ইংলিশে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে সাংবাদিক শফিউর রহমান লিখেছেন, আরাকান আর্মি উত্তর আরাকানে রোহিঙ্গা ভূমি দখল চালাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এতে রয়েছে অ-রোহিঙ্গা বসতি স্থাপন, বাড়িঘর জোরপূর্বক ভাঙা এবং পূর্বপুরুষের গ্রামের নাম বদল।
নিবন্ধে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার তথা এনইউজির সমালোচনা করা হয়েছে। লেখকের যুক্তি, এনইউজির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত আউং কিয়াও মোয়ে এই রোহিঙ্গা ভূমি দখল নিয়ে যথেষ্ট সরব নন। এনইউজি নিজেকে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে থাকে। নিবন্ধের এই নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আউং কিয়াও মোয়ের প্রকৃত অবস্থান সরাসরি মূল প্রতিবেদন পড়ে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রাপ্ত সারাংশ এ বিষয়ে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এই অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলো এনইউজিকে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিনিধি হিসেবে দেখে। তাদের অনেকে এনইউজিকে কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তাও দিয়ে থাকে। এনইউজিও রোহিঙ্গা প্রশ্নে জান্তার মতো উদাসীন থাকতে পারে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক রূপান্তর যেভাবেই হোক, তাতে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাবে।
বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা ভূমি দখলের এই খবর সরাসরি প্রাসঙ্গিক। উত্তর আরাকানে জনবিন্যাস স্থায়ীভাবে বদলে গেলে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিজস্ব গ্রাম বা ভূমি আর অবশিষ্ট থাকবে না। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কথা বলে আসছে। রোহিঙ্গা ভূমি দখলের এই প্রবণতা সেই দাবির ভিত্তিকেই দুর্বল করছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন এই দখলের ধরন নিশ্চিত করলে তা ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য নতুন যুক্তি হতে পারে।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো বিস্তারিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এটুকু স্পষ্ট যে রাখাইনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন স্বস্তি আনেনি, বরং তাদের ফেরার পথ আরও কঠিন করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















