মানবাধিকার সংগঠন ফরটিফাই রাইটস মালয়েশিয়া সরকারকে একটি আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বলেছে তারা। ডিভিবি ইংলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রায় দেড় হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে। সরকারের মূল পরিকল্পনায় আগামী কয়েক মাসে পাঁচ হাজার শরণার্থী ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।
সংগঠনটি মালয়েশিয়াকে রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক শরণার্থী মর্যাদা দিতে আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বৈধ অবস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে সেখানে রোহিঙ্গাদের আইনি সুরক্ষা বরাবরই দুর্বল। কাজের অনুমতি না থাকায় অনেকে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করতে বাধ্য হন।
এই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের ঘটনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। একই সময়ে মালয়েশিয়া জান্তাপ্রধানকে সরাসরি সফরের আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আমন্ত্রণ আসছে প্রত্যাবাসন চুক্তির বিনিময়ে। অর্থাৎ কূটনৈতিক পর্যায়ে বড় চুক্তির প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মাঠপর্যায়ে জোরপূর্বক ফেরতের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়। এটি একটি আঞ্চলিক মানবিক সংকট। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের পথে হাঁটলে এবং তা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়লে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের আলোচনার ক্ষেত্রেও তা নেতিবাচক নজির হতে পারে।
ফরটিফাই রাইটসের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি ও মালয়েশিয়া সরকারের প্রতিক্রিয়া বিস্তারিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ২৯ সেপ্টেম্বরের তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















