ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো কালিমান্তানের বনের আগুন নেভাতে মালয়েশিয়ার সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, জাকার্তায় মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই সম্মতি দেন। জাহিদের চার দিনের জাকার্তা সফরে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আরও আলোচনা হয়েছে। প্রাবোও এই আগুনকে জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফলে প্রতিবেশী দেশের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি দেরি করেননি। আগুনের ধোঁয়া দুই দেশের বাতাসের মান খারাপ করায় বিষয়টি শুধু ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার থাকেনি। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, জাহিদ সফর শেষে বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সবুজ সংকেত মিলেছে।
মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে রয়েছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান, তিনটি হেলিকপ্টার এবং ৫২ জনের একটি দল। মালয় মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলে থাকবেন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্সের সদস্যরা। প্রাবোও বলেছেন, এটি এমন এক পরিবেশগত সমস্যা যা অনেক পক্ষকে প্রভাবিত করে। আগুন ইন্দোনেশিয়ায় লাগলেও তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে যায়, তাই প্রতিবেশীরা সাহায্য করতে চাইছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এর আগে জাপানও সহায়তা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ধোঁয়ার প্রভাব ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় পড়েছে। মালয় মেইলের তথ্য অনুযায়ী, সারাওয়াকে বায়ুমান সূচকে সাতবার অস্বাস্থ্যকর মাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। ক্লাং উপত্যকায় এ সংখ্যা চার এবং জোহরে তিন। ক্লাং উপত্যকায় রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা রয়েছে, তাই সেখানকার অস্বাস্থ্যকর বাতাস বহু মানুষকে প্রভাবিত করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাং উপত্যকায় মেঘে বৃষ্টি ঝরানোর অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের খবর অনুযায়ী, বিমান বাহিনীর বিমান ব্যবহার করে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার নেতৃত্বে এই অভিযান চলবে। তবে ঘোলাটে বাতাস কমাতে কালিমান্তানের বনের আগুন নেভানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
এই সহায়তার পেছনে আঞ্চলিক দায়ও কাজ করছে। কালিমান্তানের বনের আগুন এবং তার ধোঁয়া একাধিক প্রতিবেশী দেশের বাতাসকে দূষিত করে। একটি দেশ একা এই সংকট সামলাতে পারে না, প্রাবোওর সম্মতিতে সেই বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়েছে। জাকার্তা ও কুয়ালালামপুর সরাসরি সমন্বয়ে নামায় মাঠপর্যায়ের অভিযানে গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আগুন কতদিনে নিয়ন্ত্রণে আসবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা জানা যায়নি। ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালার মতো সমস্যা বাড়ে, তাই আগুন নেভানোর গতি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। জাপানও আগেই সহায়তা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ছোট কাঠামো তৈরি হয়েছে বলা যায়। তবে কোন দেশ কত দ্রুত ও কতটা সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত নেই।
বাংলাদেশের জন্যও এই ঘটনায় একটি বার্তা আছে। শীতে ঢাকার বাতাস নিয়মিত বিশ্বের সবচেয়ে দূষিতদের তালিকায় ওঠে। সীমান্ত পেরোনো ধোঁয়া ও ধুলোর প্রভাব নিয়ে আঞ্চলিক আলোচনার প্রয়োজনও তাই সহজে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রাবোও যখন মালয়েশিয়া ও জাপানের সহায়তা নিচ্ছেন, তখন প্রশ্ন ওঠে, আমাদের অঞ্চলে কে কার পাশে দাঁড়াবে। সারাওয়াক, ক্লাং উপত্যকা ও জোহরের অস্বাস্থ্যকর সূচক নেমে আসে কি না, সেটাই এখন প্রথম পরীক্ষা। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের জন্যও এটি ইতিবাচক সংকেত, কারণ জাহিদের সফরে হালাল শিল্পসহ নানা খাতের সহযোগিতা নিয়েও কথা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















