০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী? নেপালে ভয়াবহ বন্যায় টেলিযোগাযোগ বিপর্যয়, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের পুরোনো কৌশলই কি ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি? নেপালের বন্যা শুধু দুর্যোগ নয়, জলবায়ু ন্যায়ের কঠিন পরীক্ষা আশির কোঠাতেও মানুষের পাশে, সেবাকেই তারুণ্যের রহস্য বলছেন দুই স্বেচ্ছাসেবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজ বাড়ছে, কিন্তু বেতন নয়—এশিয়ার তরুণ কর্মীদের নতুন দুশ্চিন্তা গুদামে সার, মাঠে সংকট: বাংলাদেশের বোরো কি বৈশ্বিক সার-যুদ্ধের নতুন ঝুঁকিতে? প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণায় বদল, তরুণদের মধ্যে বাড়ছে রক্ষণশীল মানসিকতা

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরে উত্তেজনা, কুয়েত-বাহরাইনে ড্রোন-মিসাইল প্রতিহত

যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলার পর টানা দ্বিতীয় রাতের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়

বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। ঘটনাটিকে মন্ত্রণালয় ‘নির্লজ্জ ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাহরাইনও জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে। তবে হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

Iran IRGC launches missile, drone attacks targeting Kuwait and Bahrain  hours after US conducted strikes - India Today

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির সামরিক বাহিনী বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান হামলা হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ছোট শহর কুহেস্তাকে একটি বাড়িতে আঘাত হানে। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় দুই নারী ও ৪ এবং ১৬ বছর বয়সী দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৮ জন। হামলার পর প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর আহমাদ নাফিসি ইরানি টেলিভিশনে পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে কেন নিহতের সংখ্যা চারজনে সংশোধন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ইরান কেন হরমুজের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চাচ্ছে, শুধুই কি রাজস্ব নাকি অন্য  কিছু

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ ঘটনার খবর সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে। তবে তাদের দাবি, মার্কিন বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত তীব্র

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। রোববার হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মাইন পেতে ওই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান।

এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানে চালানো তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং সামুদ্রিক সামরিক সম্পদও ছিল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরে উত্তেজনা, কুয়েত-বাহরাইনে ড্রোন-মিসাইল প্রতিহত

১১:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলার পর টানা দ্বিতীয় রাতের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়

বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। ঘটনাটিকে মন্ত্রণালয় ‘নির্লজ্জ ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাহরাইনও জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে। তবে হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

Iran IRGC launches missile, drone attacks targeting Kuwait and Bahrain  hours after US conducted strikes - India Today

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির সামরিক বাহিনী বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান হামলা হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ছোট শহর কুহেস্তাকে একটি বাড়িতে আঘাত হানে। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় দুই নারী ও ৪ এবং ১৬ বছর বয়সী দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৮ জন। হামলার পর প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর আহমাদ নাফিসি ইরানি টেলিভিশনে পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে কেন নিহতের সংখ্যা চারজনে সংশোধন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ইরান কেন হরমুজের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চাচ্ছে, শুধুই কি রাজস্ব নাকি অন্য  কিছু

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ ঘটনার খবর সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে। তবে তাদের দাবি, মার্কিন বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত তীব্র

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। রোববার হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মাইন পেতে ওই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান।

এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানে চালানো তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং সামুদ্রিক সামরিক সম্পদও ছিল।