০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী? নেপালে ভয়াবহ বন্যায় টেলিযোগাযোগ বিপর্যয়, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের পুরোনো কৌশলই কি ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি? নেপালের বন্যা শুধু দুর্যোগ নয়, জলবায়ু ন্যায়ের কঠিন পরীক্ষা আশির কোঠাতেও মানুষের পাশে, সেবাকেই তারুণ্যের রহস্য বলছেন দুই স্বেচ্ছাসেবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজ বাড়ছে, কিন্তু বেতন নয়—এশিয়ার তরুণ কর্মীদের নতুন দুশ্চিন্তা গুদামে সার, মাঠে সংকট: বাংলাদেশের বোরো কি বৈশ্বিক সার-যুদ্ধের নতুন ঝুঁকিতে? প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণায় বদল, তরুণদের মধ্যে বাড়ছে রক্ষণশীল মানসিকতা

বাবাদের ছুটি দিলেই হবে না, কর্মক্ষেত্রের মানসিকতাও বদলাতে হবে

সন্তানের জন্মের পর বাবাদের জন্য ছুটি বাড়ানো হলেও শুধু ছুটি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন বাবা সত্যিই কাজ থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে থেকে পরিবারকে সময় দিতে পারেন। কারণ কাগজে-কলমে ছুটি থাকলেও কাজের চাপ, সহকর্মীদের প্রত্যাশা এবং অফিসের বার্তা অনেক সময় বাবাকে মানসিকভাবে কর্মস্থলেই আটকে রাখে।

১০ সপ্তাহের ছুটিতেও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা যায়নি

দুই সন্তানের বাবা জ্যান্ডার ওংয়ের অভিজ্ঞতাই বিষয়টি স্পষ্ট করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তিনি ১০ সপ্তাহের অভিভাবকত্বকালীন ছুটি নেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় এই ছুটি পাওয়া সম্ভব হলেও কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না।

বছরের শেষ সময় হওয়ায় তাঁর কয়েকজন সহকর্মীও ছুটিতে ছিলেন। কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং কিছু প্রকল্প পিছিয়ে দেওয়ার পরও এমন কিছু সিদ্ধান্ত সামনে আসে, যেগুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হয়।

ফলে পরিবারের সঙ্গে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও তাঁর মন পড়ে থাকত কর্মস্থলে। কখনো সন্তানদের দেখাশোনার মাঝেই কাজের বিষয় মেটাতে হয়েছে। এমনকি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও মাথায় ঘুরেছে অফিসের নানা দায়িত্ব।

এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে থাকা মানে শুধু একই জায়গায় উপস্থিত থাকা নয়; মানসিকভাবেও সেখানে উপস্থিত থাকা জরুরি।

বাবাদের ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও অনেকে এখনও পিছিয়ে

সিঙ্গাপুরে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে বাবাদের জন্য চার সপ্তাহের সরকারি অর্থায়নে পিতৃত্বকালীন ছুটি আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। ২০২৪ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া বাবাদের ৬১ শতাংশ এই ছুটি নিয়েছেন, যা ২০১৬ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া বাবাদের ক্ষেত্রে ছিল ৪৭ শতাংশ।

Paternity leave: The hidden barriers keeping men at work

তবে এখনও প্রায় ১০ জনের মধ্যে চারজন বাবা কোনো পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি।

এর পেছনে নানা বাস্তব কারণ রয়েছে। অনেক বাবা ভাবেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলাবেন কে, কাজ কীভাবে চলবে, কিংবা পরিবার ও কর্মস্থলের দুই দিকের চাহিদা একসঙ্গে কীভাবে সামলাবেন। স্বনিয়োজিত বাবাদের কেউ কেউ তাঁদের জন্য থাকা সরকারি সহায়তার বিষয়েও যথেষ্ট অবগত নন।

তবে ব্যক্তিগত ও বাস্তব সমস্যার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিও বড় ভূমিকা রাখে।

ছুটি থাকলেও অফিসের চাপ থেকে যায়

অনেক প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকত্বকালীন ছুটি ও নমনীয় কর্মব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপক বা সহকর্মীদের আচরণ অনেক সময় সেই সুযোগকে অর্থহীন করে দিতে পারে।

ছুটিতে থাকা অবস্থায় সভায় যোগ দেওয়ার অনুরোধ, কাজের বার্তা পাঠানো কিংবা কথাবার্তায় সূক্ষ্ম অসন্তোষ—এসব একজন বাবাকে এমন বার্তা দিতে পারে যে পরিবারকে অগ্রাধিকার দিলে হয়তো তাঁকে কম দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে দেখা হবে।

ফলে আইন ও নীতিমালায় যতই সুবিধা দেওয়া হোক, কর্মক্ষেত্রে বাবাদের যত্নশীল অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে সেই সুবিধার পুরো সুফল পাওয়া কঠিন।

এর প্রভাব আবার নারীদের ওপরও পড়ে। বাবারা যদি সন্তান পালনের দায়িত্ব থেকে দূরে থাকেন, তাহলে মায়ের ওপরই পরিবারের প্রধান পরিচর্যাকারীর ভূমিকা আরও বেশি চাপিয়ে যায়।

শিশুর যত্নে বাবার উপস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ

সন্তানের জীবনের শুরুর দিনগুলোতে বাবার সক্রিয় উপস্থিতি শুধু মাকে সহায়তা করে না, বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কও গভীর করে।

সকালের হাঁটা, সন্তানের সঙ্গে খেলা কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে গল্প বা বই পড়ার মতো সাধারণ মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের শক্ত ভিত তৈরি করে।

কিন্তু বাবা যখন সন্তানের পাশে থেকেও অফিসের কাজ নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন, তখন সেই মুহূর্তগুলোর আনন্দ ও গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে যায়।

তাই ছুটির প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধু কর্মস্থলে না যাওয়া নয়, বরং পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য মানসিক জায়গা তৈরি করা।

Employee asks for 6 months of paternity leave to support wife; boss  dismisses it as a joke until one remark changes his mind - The Economic  Times

ছুটির আগে দরকার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা

অভিভাবকত্বকালীন ছুটি নেওয়ার আগে কর্মস্থলে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরি। কে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন কাজ অপেক্ষা করতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে ছুটিতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে—এসব আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত।

ছুটিতে যাওয়ার কয়েক মাস আগে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করাও সহায়ক হতে পারে। এতে কাজ ভাগ করে দেওয়া, প্রকল্পের সময়সূচি পরিবর্তন করা এবং বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঠিক করা সহজ হয়।

তবে শুধু বাবার নিজের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। কর্মস্থলকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন দরকার

কোনো বাবা ছুটিতে গেলে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় কর্মসংক্রান্ত বার্তা থেকে দূরে রাখা উচিত। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করা, প্রয়োজনীয় কাজ অন্যদের মধ্যে সঠিকভাবে ভাগ করে দেওয়া এবং ফিরে আসার পর অতিরিক্ত কাজের পাহাড় তাঁর সামনে না রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে অভিভাবকত্বকালীন ছুটি নেওয়ার কারণে যেন কোনো কর্মীর মূল্যায়ন, পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যবস্থাপকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা বাবাদের ছুটির আবেদন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং ছুটির সময়টিকে কর্মীর অধিকার হিসেবে সম্মান করেন।

নেতৃত্বের আচরণই সবচেয়ে বড় বার্তা

Workplace Fathers: The Unsung Heroes of the Workplace for Emerging and  Seasoned Leaders

কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি তৈরিতে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নেতা যদি নিজের পরিবারকে সময় দেওয়াকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখান এবং তাঁর অধীনস্থ বাবাদের ছুটিকে সুরক্ষা দেন, তাহলে অন্য কর্মীরাও একই বার্তা পান।

অন্যদিকে নীতিমালায় ছুটি থাকলেও নেতৃত্ব যদি নিয়মিত ছুটিতে থাকা কর্মীর কাছে কাজের খবর জানতে চান, তাহলে কর্মীদের কাছে সেই নীতিমালার বাস্তব মূল্য কমে যায়।

তাই পরিবারবান্ধব কর্মক্ষেত্র গড়তে নীতিমালার পাশাপাশি নেতৃত্বের উদাহরণও প্রয়োজন।

সন্তান বড় করার দায়িত্ব সবার

একটি শিশুকে বড় করতে শুধু পরিবার নয়, সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। কর্মস্থলও সেই সামাজিক পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাবারা যাতে সন্তানের জীবনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারেন, সে জন্য তাঁদের সময়, মানসিক অবকাশ এবং কর্মক্ষেত্রের সমর্থন—তিনটিই প্রয়োজন।

পিতৃত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য বাবাকে শুধু ছুটি দিলেই হবে না; এমন কর্মপরিবেশও তৈরি করতে হবে, যেখানে ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি সত্যিই পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। কারণ একজন বাবা যখন সন্তানের পাশে থাকার সুযোগ পান, তখন তার সুফল শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজই পায়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২

বাবাদের ছুটি দিলেই হবে না, কর্মক্ষেত্রের মানসিকতাও বদলাতে হবে

১১:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তানের জন্মের পর বাবাদের জন্য ছুটি বাড়ানো হলেও শুধু ছুটি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন বাবা সত্যিই কাজ থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে থেকে পরিবারকে সময় দিতে পারেন। কারণ কাগজে-কলমে ছুটি থাকলেও কাজের চাপ, সহকর্মীদের প্রত্যাশা এবং অফিসের বার্তা অনেক সময় বাবাকে মানসিকভাবে কর্মস্থলেই আটকে রাখে।

১০ সপ্তাহের ছুটিতেও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা যায়নি

দুই সন্তানের বাবা জ্যান্ডার ওংয়ের অভিজ্ঞতাই বিষয়টি স্পষ্ট করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তিনি ১০ সপ্তাহের অভিভাবকত্বকালীন ছুটি নেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় এই ছুটি পাওয়া সম্ভব হলেও কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না।

বছরের শেষ সময় হওয়ায় তাঁর কয়েকজন সহকর্মীও ছুটিতে ছিলেন। কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং কিছু প্রকল্প পিছিয়ে দেওয়ার পরও এমন কিছু সিদ্ধান্ত সামনে আসে, যেগুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হয়।

ফলে পরিবারের সঙ্গে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও তাঁর মন পড়ে থাকত কর্মস্থলে। কখনো সন্তানদের দেখাশোনার মাঝেই কাজের বিষয় মেটাতে হয়েছে। এমনকি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও মাথায় ঘুরেছে অফিসের নানা দায়িত্ব।

এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে থাকা মানে শুধু একই জায়গায় উপস্থিত থাকা নয়; মানসিকভাবেও সেখানে উপস্থিত থাকা জরুরি।

বাবাদের ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও অনেকে এখনও পিছিয়ে

সিঙ্গাপুরে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে বাবাদের জন্য চার সপ্তাহের সরকারি অর্থায়নে পিতৃত্বকালীন ছুটি আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। ২০২৪ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া বাবাদের ৬১ শতাংশ এই ছুটি নিয়েছেন, যা ২০১৬ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া বাবাদের ক্ষেত্রে ছিল ৪৭ শতাংশ।

Paternity leave: The hidden barriers keeping men at work

তবে এখনও প্রায় ১০ জনের মধ্যে চারজন বাবা কোনো পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি।

এর পেছনে নানা বাস্তব কারণ রয়েছে। অনেক বাবা ভাবেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলাবেন কে, কাজ কীভাবে চলবে, কিংবা পরিবার ও কর্মস্থলের দুই দিকের চাহিদা একসঙ্গে কীভাবে সামলাবেন। স্বনিয়োজিত বাবাদের কেউ কেউ তাঁদের জন্য থাকা সরকারি সহায়তার বিষয়েও যথেষ্ট অবগত নন।

তবে ব্যক্তিগত ও বাস্তব সমস্যার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিও বড় ভূমিকা রাখে।

ছুটি থাকলেও অফিসের চাপ থেকে যায়

অনেক প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকত্বকালীন ছুটি ও নমনীয় কর্মব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপক বা সহকর্মীদের আচরণ অনেক সময় সেই সুযোগকে অর্থহীন করে দিতে পারে।

ছুটিতে থাকা অবস্থায় সভায় যোগ দেওয়ার অনুরোধ, কাজের বার্তা পাঠানো কিংবা কথাবার্তায় সূক্ষ্ম অসন্তোষ—এসব একজন বাবাকে এমন বার্তা দিতে পারে যে পরিবারকে অগ্রাধিকার দিলে হয়তো তাঁকে কম দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে দেখা হবে।

ফলে আইন ও নীতিমালায় যতই সুবিধা দেওয়া হোক, কর্মক্ষেত্রে বাবাদের যত্নশীল অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে সেই সুবিধার পুরো সুফল পাওয়া কঠিন।

এর প্রভাব আবার নারীদের ওপরও পড়ে। বাবারা যদি সন্তান পালনের দায়িত্ব থেকে দূরে থাকেন, তাহলে মায়ের ওপরই পরিবারের প্রধান পরিচর্যাকারীর ভূমিকা আরও বেশি চাপিয়ে যায়।

শিশুর যত্নে বাবার উপস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ

সন্তানের জীবনের শুরুর দিনগুলোতে বাবার সক্রিয় উপস্থিতি শুধু মাকে সহায়তা করে না, বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কও গভীর করে।

সকালের হাঁটা, সন্তানের সঙ্গে খেলা কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে গল্প বা বই পড়ার মতো সাধারণ মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের শক্ত ভিত তৈরি করে।

কিন্তু বাবা যখন সন্তানের পাশে থেকেও অফিসের কাজ নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন, তখন সেই মুহূর্তগুলোর আনন্দ ও গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে যায়।

তাই ছুটির প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধু কর্মস্থলে না যাওয়া নয়, বরং পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য মানসিক জায়গা তৈরি করা।

Employee asks for 6 months of paternity leave to support wife; boss  dismisses it as a joke until one remark changes his mind - The Economic  Times

ছুটির আগে দরকার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা

অভিভাবকত্বকালীন ছুটি নেওয়ার আগে কর্মস্থলে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরি। কে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন কাজ অপেক্ষা করতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে ছুটিতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে—এসব আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত।

ছুটিতে যাওয়ার কয়েক মাস আগে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করাও সহায়ক হতে পারে। এতে কাজ ভাগ করে দেওয়া, প্রকল্পের সময়সূচি পরিবর্তন করা এবং বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঠিক করা সহজ হয়।

তবে শুধু বাবার নিজের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। কর্মস্থলকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন দরকার

কোনো বাবা ছুটিতে গেলে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় কর্মসংক্রান্ত বার্তা থেকে দূরে রাখা উচিত। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করা, প্রয়োজনীয় কাজ অন্যদের মধ্যে সঠিকভাবে ভাগ করে দেওয়া এবং ফিরে আসার পর অতিরিক্ত কাজের পাহাড় তাঁর সামনে না রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে অভিভাবকত্বকালীন ছুটি নেওয়ার কারণে যেন কোনো কর্মীর মূল্যায়ন, পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যবস্থাপকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা বাবাদের ছুটির আবেদন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং ছুটির সময়টিকে কর্মীর অধিকার হিসেবে সম্মান করেন।

নেতৃত্বের আচরণই সবচেয়ে বড় বার্তা

Workplace Fathers: The Unsung Heroes of the Workplace for Emerging and  Seasoned Leaders

কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি তৈরিতে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নেতা যদি নিজের পরিবারকে সময় দেওয়াকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখান এবং তাঁর অধীনস্থ বাবাদের ছুটিকে সুরক্ষা দেন, তাহলে অন্য কর্মীরাও একই বার্তা পান।

অন্যদিকে নীতিমালায় ছুটি থাকলেও নেতৃত্ব যদি নিয়মিত ছুটিতে থাকা কর্মীর কাছে কাজের খবর জানতে চান, তাহলে কর্মীদের কাছে সেই নীতিমালার বাস্তব মূল্য কমে যায়।

তাই পরিবারবান্ধব কর্মক্ষেত্র গড়তে নীতিমালার পাশাপাশি নেতৃত্বের উদাহরণও প্রয়োজন।

সন্তান বড় করার দায়িত্ব সবার

একটি শিশুকে বড় করতে শুধু পরিবার নয়, সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। কর্মস্থলও সেই সামাজিক পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাবারা যাতে সন্তানের জীবনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারেন, সে জন্য তাঁদের সময়, মানসিক অবকাশ এবং কর্মক্ষেত্রের সমর্থন—তিনটিই প্রয়োজন।

পিতৃত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য বাবাকে শুধু ছুটি দিলেই হবে না; এমন কর্মপরিবেশও তৈরি করতে হবে, যেখানে ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি সত্যিই পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। কারণ একজন বাবা যখন সন্তানের পাশে থাকার সুযোগ পান, তখন তার সুফল শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজই পায়।