ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে রুশ রাজধানী মস্কোর একটি তেল শোধনাগারেও কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
রাশিয়া ও ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের হামলা বন্ধে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান। তবে এরপরও উভয় পক্ষের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন রোববার তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, শনিবার থেকে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক হাজার ৬০০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সোবিয়ানিনের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ড্রোন মস্কোর তেল শোধনাগারের এলাকায় পৌঁছে যায়। এর মধ্যে একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনেও আঘাত করে। তবে মস্কো শহরের ভেতরে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান মেয়র।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলার সময় নিয়ে সোবিয়ানিন বলেন, এটি ছিল ‘নজিরবিহীন’ হামলা এবং এর লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকে ব্যাহত করা। তার দাবি, হামলাকারীরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
ইউক্রেন এখন পর্যন্ত এসব হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই সাধারণত দাবি করে আসছে, তাদের হামলার লক্ষ্য বেসামরিক মানুষ নয়।

তবে মস্কো শহরের বাইরে বিস্তৃত মস্কো অঞ্চলে হামলার প্রভাব আরও গুরুতর হয়েছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, রামেনস্কোয়ে জেলার একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন শিশু রয়েছে।
হামলায় ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান গভর্নর। একই ঘটনায় মস্কো অঞ্চলে দুইজন নিহত হওয়ার কথাও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কো ও আশপাশের এলাকায় এই বড় আকারের ড্রোন হামলার ঘটনা যুদ্ধের নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাকে ঘিরে হামলা অব্যাহত থাকায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি বা হামলা বন্ধের ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















