রোববার ভোরের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে, আবার কোথাও গণপরিবহনের সংকটে রিকশা কিংবা হেঁটেই গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোর ৪টার পর রাজধানীতে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল ৮টার দিকে বৃষ্টি থামলেও এর প্রভাব থেকে যায় বিভিন্ন সড়কে। রাত ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, গ্রিন রোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, জিগাতলা, ধানমন্ডি, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, পল্টন ও মাদারবাগসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়।
জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় বিভিন্ন এলাকায় যানজটও তৈরি হয়। অন্যদিকে পথচারীদের অনেক জায়গায় জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে যায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বাড্ডা থেকে মৌচাকে অফিসে যাচ্ছিলেন জামাল হোসেন। তিনি জানান, মালিবাগ রেলগেটে বাস থেকে নামার পর গন্তব্যে পৌঁছাতে তাকে হাঁটুপানি পেরিয়ে যেতে হয়েছে। মালিবাগ রেলগেট থেকে মৌচাক পর্যন্ত পুরো সড়কই পানিতে ডুবে ছিল।
তিনি আরও জানান, রামপুরা টিভি সেন্টার থেকে আবুল হোটেল মোড় পর্যন্ত সড়কেও তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে বৃষ্টির কারণে তৈরি হওয়া ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও রিকশার পাদানির কাছ পর্যন্ত পানি উঠে যায়। জলাবদ্ধ সড়কে রিকশা চলাচলও ধীর হয়ে পড়ে।

বৃষ্টির কারণে বাসের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে রিকশার ওপর নির্ভর করেন। আবার অনেকে পানির মধ্য দিয়েই হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সুযোগে কিছু রিকশাচালক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া নেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে বলে যাত্রীরা জানান।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের এক-দুই জায়গাতেও বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
এদিকে সিলেট বিভাগ এবং গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বরিশাল জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাজধানীতে ভোরের বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে স্বস্তি এলেও জলাবদ্ধতা ও যানজট নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















