বৃষ্টির পর ঢাকার বাতাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রোববার সকালে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ভিজে যাওয়ার পর শহরের বায়ুমান ‘মধ্যম’ পর্যায়ে নেমে আসে। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ৬১।
শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত বায়ুদূষণের কারণে ঢাকার বাতাসের মান প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসে ভাসমান ধুলা ও ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় সাধারণত বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। এবারের বৃষ্টিও রাজধানীর বাতাসের মান উন্নত করতে ভূমিকা রেখেছে।
রোববার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৩৬তম। ওই সময় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ১৭২ একিউআই নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল। এরপর ভারতের দিল্লির একিউআই ছিল ১৬৭ এবং মালয়েশিয়ার কুচিংয়ের ১৬৫।

বায়ুমান সূচকে শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত মাত্রাকে ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত বায়ু সাধারণত ‘মধ্যম’ মানের হিসেবে ধরা হয়। তবে দূষণের মাত্রা বাড়লে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে থাকে।
কণাদূষণের ক্ষেত্রে একিউআই ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ হলে বাতাস অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ বা তার বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের বাতাস দীর্ঘ সময় শ্বাস নেওয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বায়ুমান সূচক মূলত কোনো এলাকার বাতাস কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সেই দূষণের কারণে মানুষের কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশে বায়ুমান সূচক নির্ধারণে পাঁচ ধরনের দূষক বিবেচনায় নেওয়া হয়। এগুলো হলো—ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন।
ঢাকার বায়ুদূষণ দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং অন্যান্য উৎস থেকে দূষণ বেড়ে যায়। বিপরীতে বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টির কারণে বাতাসে থাকা অনেক ক্ষুদ্র কণা নিচে নেমে আসে। ফলে এ সময় রাজধানীর বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি দেখা যায়।
রোববারের বৃষ্টিও তাই ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনেছে। তবে বৃষ্টির পর বায়ুমানের এই উন্নতি স্থায়ী নয়। বৃষ্টি থেমে গেলে এবং শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে এলে আবারও বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















