০৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেঘনায় গোসল করতে নেমে যমজ দুই ভাইসহ ৩ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাজারে আলুর দাম কমায় হিমাগারে পচে নষ্ট ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার আলু তাইওয়ান ঘিরে চীনের চাপ, সমুদ্রের ‘নিয়ম’ বদলের শঙ্কা চীনে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি বানাবে টয়োটা, নজর দীর্ঘপথের যাত্রায় পল্লবীতে পার্কিং করে রাখা পরিস্থান পরিবহনের বাসে আগুন নিখোঁজের ছয় বছর পর মায়ের দেহাবশেষ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহে ফের গ্রেপ্তার ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের আগে লাহোরে ইমরান খানের বোন গ্রেপ্তার চীনের শুদ্ধি অভিযান: দুর্বলতার চিহ্ন নয়, ক্ষমতা ধরে রাখার এক দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা তিন ঘণ্টায় পরপর দুই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

মাদকপাচার ঠেকাতে পক প্রণালি হতে পারে ভারত-শ্রীলঙ্কা সহযোগিতার নতুন সেতু

ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিকভাবে যুক্ত করে রেখেছে পক প্রণালি। একই জলপথ আবার দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা ও বিরোধেরও উৎস। মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং অতীতের সংঘাতের উত্তরাধিকার এই অঞ্চলের সম্পর্ককে বহুবার জটিল করেছে। তবে এই একই ভূগোল এখন এমন একটি বিষয়ে দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনার সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তাদের স্বার্থ মূলত অভিন্ন—মাদকপাচার ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। কিন্তু তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত এবং মৎস্যজীবীদের বিরোধের কারণে আলাদা এক ধরনের সংবেদনশীলতা রয়ে গেছে।

এর মধ্যেই মাদক এমন একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে, যা কোনো সীমান্ত বা রাজনৈতিক বিভাজন মানে না।

শ্রীলঙ্কায় মাদকের বিস্তার এখন আর শুধু শহরাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সামাজিক অভিঘাত বহন করে চলা জাফনা ও উত্তরাঞ্চলেও তরুণদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ধরনের কৃত্রিম মাদক, বিশেষ করে ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন বা ‘আইস’-এর বিস্তার।

তামিলনাড়ুও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত পরিবহন নেটওয়ার্ক, বন্দর এবং শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মাদকপাচারের জন্য রাজ্যটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবহার ও আসক্তির সমস্যাও রয়েছে।

দুই অঞ্চলের পরিস্থিতি এক নয়। কিন্তু পক প্রণালির ভূগোল তাদের সমস্যাগুলোকে পুরোপুরি আলাদা করে দেখার সুযোগও দেয় না।

অভিন্ন সমস্যায় বাস্তব উদ্যোগ

মাদকবিরোধী লড়াই ইতোমধ্যে দুই পক্ষের রাজনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। শ্রীলঙ্কা মাদকবিরোধী অভিযানকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। তামিলনাড়ুতেও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। ফলে এখন একটি বাস্তব ও কার্যকর সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর প্রথম ধাপ হতে পারে শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাড়ুর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপ। ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ও অংশগ্রহণে এই আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।

এই কাঠামোর কর্মসূচি শুরুতেই নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং দুই পক্ষ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কোথায় সহযোগিতা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে পারে।

মাদকপাচারকারী নেটওয়ার্ক ও রুট সম্পর্কে তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সামুদ্রিক নজরদারি, সংগঠিত অপরাধের অর্থের উৎস অনুসরণ এবং মাদক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো পক্ষের অভ্যন্তরীণ মাদকনীতি অন্য পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং যে সমস্যাগুলো সীমান্ত পেরিয়ে দুই সমাজকেই প্রভাবিত করছে, সেগুলো মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় করা।

পক প্রণালির গুরুত্ব এখানেই সবচেয়ে বেশি। মাছ ধরা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার কারণে এই জলসীমা এমনিতেই নজরদারির আওতায় থাকে। কিন্তু একই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অপরাধী চক্রও নিজেদের সুবিধায় ব্যবহার করতে পারে।

এক দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য যদি অন্য দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে দ্রুত না পৌঁছায়, তাহলে সেই তথ্যের ঘাটতিকে কাজে লাগাতে পারে পাচারকারীরা। তাই দুই পাশের সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ গড়ে তোলা মাদকপাচারের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।The Palk Strait Link: Sri Lanka's Unresolved Question – Sri Lanka Guardian

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

এই উদ্যোগে তামিলনাড়ুর সরাসরি অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ছাড়া সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত পর্যায়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

মাদকপাচার শুধু একটি রাজ্য বা দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের বিষয় জড়িত। কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পৃক্ততা তামিলনাড়ুর স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতাকে ভারতের গোয়েন্দা সক্ষমতা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কার্যকর সমন্বয় কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব। শুরুতেই বড় কোনো আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। প্রথম প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাস্তব সহযোগিতা।

সহযোগিতা হতে পারে আস্থার নতুন ভিত্তি

এই ধরনের সহযোগিতার সুফল মাদকবিরোধী লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারত ও শ্রীলঙ্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। তবে তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের সংঘাত এবং মৎস্যবিরোধ যে সংবেদনশীলতা তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।

একটি অভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে বাস্তব সহযোগিতা সেই সম্পর্কের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মাদকবিরোধী উদ্যোগের একটি বিশেষ সুবিধা হলো—এখানে কোনো পক্ষের ভূখণ্ডগত দাবি নিয়ে বিতর্ক নেই। কোনো ঐতিহাসিক বিরোধের সমাধানকে সহযোগিতার পূর্বশর্তও করতে হবে না। উভয় পক্ষই চায় তাদের জলসীমা ও ভূখণ্ড অপরাধী চক্রের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহৃত না হোক। উভয় পক্ষই চায় তরুণ প্রজন্ম মাদকের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত থাকুক।

এখন মাদকপাচারের ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম মাদকের বিস্তার এবং আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিস্থিতিকে জটিল করছে। অপরাধীরা যেভাবে সীমান্তের বাইরে দ্রুত অর্থ, তথ্য ও যোগাযোগ স্থানান্তর করতে পারছে, রাষ্ট্রগুলোকেও সেভাবেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুধু একটি চালান আটকানো বা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পাচারকারী নেটওয়ার্কের কাঠামো, অর্থের প্রবাহ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে সমন্বিত ধারণা তৈরি করা।

তাই উদ্যোগটি খুব উচ্চাভিলাষী হওয়ারও প্রয়োজন নেই। ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনে শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাড়ুর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ এবং তার ভিত্তিতে একটি যৌথ সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। এরপর যারা সরাসরি মাদকবিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত, তারাই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারে।

সফল হলে এই উদ্যোগ পক প্রণালির দুই পাড়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অতীতের জটিল প্রশ্নগুলোতে তাৎক্ষণিক সমঝোতা ছাড়াই দুই সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিন্ন বিষয়ে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

পক প্রণালিকে এতদিন মূলত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বিভাজনের জলসীমা হিসেবে দেখা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং মৎস্যবিরোধ ভবিষ্যতেও সম্পর্কের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু কোনো সম্পর্ক শুধু অতীতের অভিজ্ঞতা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নতুন সহযোগিতার অভিজ্ঞতাও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

মাদকবিরোধী যৌথ লড়াই সেই নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা হতে পারে।

মাদক দুই সমাজের জন্যই গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে এই হুমকিই হয়তো পক প্রণালির দুই পাড়কে নতুন ধরনের সহযোগিতার একটি অপ্রত্যাশিত সেতুতে পরিণত করতে পারে।

*মিলিন্দ মোরাগোদা শ্রীলঙ্কার সাবেক মন্ত্রী ও কূটনীতিক এবং পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। মূল লেখাটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনায় গোসল করতে নেমে যমজ দুই ভাইসহ ৩ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

মাদকপাচার ঠেকাতে পক প্রণালি হতে পারে ভারত-শ্রীলঙ্কা সহযোগিতার নতুন সেতু

০৬:২১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিকভাবে যুক্ত করে রেখেছে পক প্রণালি। একই জলপথ আবার দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা ও বিরোধেরও উৎস। মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং অতীতের সংঘাতের উত্তরাধিকার এই অঞ্চলের সম্পর্ককে বহুবার জটিল করেছে। তবে এই একই ভূগোল এখন এমন একটি বিষয়ে দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনার সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তাদের স্বার্থ মূলত অভিন্ন—মাদকপাচার ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। কিন্তু তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত এবং মৎস্যজীবীদের বিরোধের কারণে আলাদা এক ধরনের সংবেদনশীলতা রয়ে গেছে।

এর মধ্যেই মাদক এমন একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে, যা কোনো সীমান্ত বা রাজনৈতিক বিভাজন মানে না।

শ্রীলঙ্কায় মাদকের বিস্তার এখন আর শুধু শহরাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সামাজিক অভিঘাত বহন করে চলা জাফনা ও উত্তরাঞ্চলেও তরুণদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ধরনের কৃত্রিম মাদক, বিশেষ করে ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন বা ‘আইস’-এর বিস্তার।

তামিলনাড়ুও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত পরিবহন নেটওয়ার্ক, বন্দর এবং শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মাদকপাচারের জন্য রাজ্যটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবহার ও আসক্তির সমস্যাও রয়েছে।

দুই অঞ্চলের পরিস্থিতি এক নয়। কিন্তু পক প্রণালির ভূগোল তাদের সমস্যাগুলোকে পুরোপুরি আলাদা করে দেখার সুযোগও দেয় না।

অভিন্ন সমস্যায় বাস্তব উদ্যোগ

মাদকবিরোধী লড়াই ইতোমধ্যে দুই পক্ষের রাজনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। শ্রীলঙ্কা মাদকবিরোধী অভিযানকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। তামিলনাড়ুতেও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। ফলে এখন একটি বাস্তব ও কার্যকর সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর প্রথম ধাপ হতে পারে শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাড়ুর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপ। ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ও অংশগ্রহণে এই আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।

এই কাঠামোর কর্মসূচি শুরুতেই নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং দুই পক্ষ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কোথায় সহযোগিতা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে পারে।

মাদকপাচারকারী নেটওয়ার্ক ও রুট সম্পর্কে তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সামুদ্রিক নজরদারি, সংগঠিত অপরাধের অর্থের উৎস অনুসরণ এবং মাদক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো পক্ষের অভ্যন্তরীণ মাদকনীতি অন্য পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং যে সমস্যাগুলো সীমান্ত পেরিয়ে দুই সমাজকেই প্রভাবিত করছে, সেগুলো মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় করা।

পক প্রণালির গুরুত্ব এখানেই সবচেয়ে বেশি। মাছ ধরা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার কারণে এই জলসীমা এমনিতেই নজরদারির আওতায় থাকে। কিন্তু একই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অপরাধী চক্রও নিজেদের সুবিধায় ব্যবহার করতে পারে।

এক দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য যদি অন্য দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে দ্রুত না পৌঁছায়, তাহলে সেই তথ্যের ঘাটতিকে কাজে লাগাতে পারে পাচারকারীরা। তাই দুই পাশের সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ গড়ে তোলা মাদকপাচারের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।The Palk Strait Link: Sri Lanka's Unresolved Question – Sri Lanka Guardian

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

এই উদ্যোগে তামিলনাড়ুর সরাসরি অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ছাড়া সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত পর্যায়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

মাদকপাচার শুধু একটি রাজ্য বা দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের বিষয় জড়িত। কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পৃক্ততা তামিলনাড়ুর স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতাকে ভারতের গোয়েন্দা সক্ষমতা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কার্যকর সমন্বয় কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব। শুরুতেই বড় কোনো আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। প্রথম প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাস্তব সহযোগিতা।

সহযোগিতা হতে পারে আস্থার নতুন ভিত্তি

এই ধরনের সহযোগিতার সুফল মাদকবিরোধী লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারত ও শ্রীলঙ্কার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। তবে তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের সংঘাত এবং মৎস্যবিরোধ যে সংবেদনশীলতা তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।

একটি অভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে বাস্তব সহযোগিতা সেই সম্পর্কের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মাদকবিরোধী উদ্যোগের একটি বিশেষ সুবিধা হলো—এখানে কোনো পক্ষের ভূখণ্ডগত দাবি নিয়ে বিতর্ক নেই। কোনো ঐতিহাসিক বিরোধের সমাধানকে সহযোগিতার পূর্বশর্তও করতে হবে না। উভয় পক্ষই চায় তাদের জলসীমা ও ভূখণ্ড অপরাধী চক্রের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহৃত না হোক। উভয় পক্ষই চায় তরুণ প্রজন্ম মাদকের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত থাকুক।

এখন মাদকপাচারের ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম মাদকের বিস্তার এবং আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিস্থিতিকে জটিল করছে। অপরাধীরা যেভাবে সীমান্তের বাইরে দ্রুত অর্থ, তথ্য ও যোগাযোগ স্থানান্তর করতে পারছে, রাষ্ট্রগুলোকেও সেভাবেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুধু একটি চালান আটকানো বা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পাচারকারী নেটওয়ার্কের কাঠামো, অর্থের প্রবাহ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে সমন্বিত ধারণা তৈরি করা।

তাই উদ্যোগটি খুব উচ্চাভিলাষী হওয়ারও প্রয়োজন নেই। ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনে শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাড়ুর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ এবং তার ভিত্তিতে একটি যৌথ সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। এরপর যারা সরাসরি মাদকবিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত, তারাই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারে।

সফল হলে এই উদ্যোগ পক প্রণালির দুই পাড়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অতীতের জটিল প্রশ্নগুলোতে তাৎক্ষণিক সমঝোতা ছাড়াই দুই সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিন্ন বিষয়ে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

পক প্রণালিকে এতদিন মূলত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বিভাজনের জলসীমা হিসেবে দেখা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং মৎস্যবিরোধ ভবিষ্যতেও সম্পর্কের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু কোনো সম্পর্ক শুধু অতীতের অভিজ্ঞতা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নতুন সহযোগিতার অভিজ্ঞতাও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

মাদকবিরোধী যৌথ লড়াই সেই নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা হতে পারে।

মাদক দুই সমাজের জন্যই গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে এই হুমকিই হয়তো পক প্রণালির দুই পাড়কে নতুন ধরনের সহযোগিতার একটি অপ্রত্যাশিত সেতুতে পরিণত করতে পারে।

*মিলিন্দ মোরাগোদা শ্রীলঙ্কার সাবেক মন্ত্রী ও কূটনীতিক এবং পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। মূল লেখাটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত।