জাপানে অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিকদের কাজ করার প্রবণতা ঠেকাতে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। আগামী অক্টোবর থেকেই সংশ্লিষ্ট সরকারি পরিদর্শকদের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন নির্মাণ ও স্থাপনা ভাঙার এলাকায় অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।
মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ
জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা নির্মাণ ও ভবন ভাঙার স্থানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অভিযান পরিচালিত হলেও বিদেশি শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই করার আইনি ক্ষমতা স্থানীয় কর্মকর্তাদের নেই।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার কর্মকর্তাদের এসব অভিযানে যুক্ত করা হবে। জাপানের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও শরণার্থী স্বীকৃতি আইনের আওতায় দেশটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের সবসময় আবাসিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। অভিবাসন কর্মকর্তারা এসব পরিচয়পত্র দেখানোর নির্দেশ দিতে পারেন। ফলে যৌথ অভিযানের সময় সন্দেহভাজন বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছর নির্বাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া বিদেশিদের ৭০ শতাংশের বেশি অবৈধভাবে কাজ করেছিলেন বলে অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার তথ্য বলছে। এই পরিস্থিতিতে অবৈধ শ্রম বন্ধে সরকারের নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে।

অবৈধ শ্রমের ঝুঁকিতে নির্মাণ ও বর্জ্য খাত
গত মে মাসে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ‘শূন্য অবৈধ অভিবাসী’ লক্ষ্য সামনে রেখে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে অবৈধ শ্রমে বিদেশিদের নিয়োগ দেওয়া বা এ ধরনের কাজ সহজ করে দেওয়া ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
নতুন উদ্যোগের আওতায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও সমন্বয় করতে চায় অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। বিশেষ করে বর্জ্য প্লাস্টিক ও স্ক্র্যাপ ধাতু সংরক্ষণের খোলা জায়গাগুলোতে অবৈধ শ্রমের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব স্থাপনাকে অবৈধ শ্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের নিজস্ব বিধি রয়েছে এমন এলাকায় যৌথ পরিদর্শনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কৃষি খাতেও নজরদারি বাড়বে
কৃষি খাতকে অবৈধ শ্রমের আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বীজ বপন ও ফসল কাটার ব্যস্ত মৌসুমে অবৈধ শ্রমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এ কারণে কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার এই বহুমুখী উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রগুলোতে সরাসরি নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















