১২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে ফের উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, আর্কটিকের দায়িত্ব নেবে ন্যাটো ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষের দাবি দুই রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরে সরে বার্তা পাইপলাইন হামলার পর উপসাগরীয় পথে সৌদির তেল রপ্তানি বাড়ছে গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি আজ ইসলামাবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পিটিআইয়ের মিছিলে যাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ পিংক বাসে যাত্রী নেই, প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান জাতিসংঘে তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয়: হুমায়ূন কবির নেতানিয়াহুর নজিরবিহীন সংক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নেই ৯৮ বছরে ইন্তেকাল গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জাঞ্জানি, শোকে ইরান ও শিয়া বিশ্ব

১২২ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১১টি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল

বাংলাদেশের ১২২টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে মাত্র ১১টিকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থ বিভাগ। এ চিত্র দেশের সরকারি খাতের বড় একটি অংশের আর্থিক দুর্বলতা, ঋণনির্ভরতা ও লোকসানের চাপকে সামনে এনেছে।

অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই ১১ প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ ও তারল্যসম্পদ তাদের মোট ঋণের চেয়ে বেশি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নিট ঋণ ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, যা আর্থিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বচ্ছল ১১ প্রতিষ্ঠান

মূল্যায়নে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, যমুনা সার কারখানা, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ, পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি, রাজশাহী ওয়াসা, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং টিএসপি কমপ্লেক্স।

অর্থ বিভাগের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান শাখার বৃহত্তর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১২২টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আর্থিক কার্যক্রম, ঋণের পরিমাণ, সম্ভাব্য দায় এবং পরিচালনব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৌশলগত পণ্য ও সেবা সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতেও এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের শক্ত অবস্থান

এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও তহবিল ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও নীতি সহায়তা, যোগাযোগ ও ব্র্যান্ডিং) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার পেছনে সতর্ক ও সুশৃঙ্খল তহবিল ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের প্রায় ৯০ শতাংশ তহবিল সরকারি ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগ থেকে প্রায় ১২ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের আদায় হারও প্রায় ১০০ শতাংশ বলে জানান তিনি। তার মতে, ঋণগ্রহীতাদের শক্তিশালী ঋণ পরিশোধের শৃঙ্খলা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসেও স্থিতিশীলতা

ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্সের কোম্পানি সচিব আবু মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থানের পেছনে সুশাসন, শক্তিশালী গ্রাহকভিত্তি এবং বাজারে স্থিতিশীল চাহিদাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের পণ্য বাজারজাত করে। একই সঙ্গে অল্পসংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও করে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস করপোরেট সুশাসন বজায় রেখে বাজারে প্রতিযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক চাপ

অর্থ বিভাগের এই মূল্যায়ন এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন দেশের বহু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্রমবর্ধমান লোকসান ও ঋণের বোঝার কারণে এখনো সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১১টির সম্পদ ও তারল্য তাদের মোট ঋণের চেয়ে বেশি হওয়া সরকারি খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যকেই তুলে ধরেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে ফের উত্তেজনা

১২২ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১১টি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল

১১:৫৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ১২২টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে মাত্র ১১টিকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থ বিভাগ। এ চিত্র দেশের সরকারি খাতের বড় একটি অংশের আর্থিক দুর্বলতা, ঋণনির্ভরতা ও লোকসানের চাপকে সামনে এনেছে।

অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই ১১ প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ ও তারল্যসম্পদ তাদের মোট ঋণের চেয়ে বেশি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নিট ঋণ ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, যা আর্থিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বচ্ছল ১১ প্রতিষ্ঠান

মূল্যায়নে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, যমুনা সার কারখানা, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ, পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি, রাজশাহী ওয়াসা, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং টিএসপি কমপ্লেক্স।

অর্থ বিভাগের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান শাখার বৃহত্তর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই মূল্যায়ন করা হয়। এতে ১২২টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আর্থিক কার্যক্রম, ঋণের পরিমাণ, সম্ভাব্য দায় এবং পরিচালনব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৌশলগত পণ্য ও সেবা সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতেও এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের শক্ত অবস্থান

এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও তহবিল ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও নীতি সহায়তা, যোগাযোগ ও ব্র্যান্ডিং) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার পেছনে সতর্ক ও সুশৃঙ্খল তহবিল ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের প্রায় ৯০ শতাংশ তহবিল সরকারি ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগ থেকে প্রায় ১২ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের আদায় হারও প্রায় ১০০ শতাংশ বলে জানান তিনি। তার মতে, ঋণগ্রহীতাদের শক্তিশালী ঋণ পরিশোধের শৃঙ্খলা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসেও স্থিতিশীলতা

ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্সের কোম্পানি সচিব আবু মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থানের পেছনে সুশাসন, শক্তিশালী গ্রাহকভিত্তি এবং বাজারে স্থিতিশীল চাহিদাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের পণ্য বাজারজাত করে। একই সঙ্গে অল্পসংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও করে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস করপোরেট সুশাসন বজায় রেখে বাজারে প্রতিযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক চাপ

অর্থ বিভাগের এই মূল্যায়ন এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন দেশের বহু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্রমবর্ধমান লোকসান ও ঋণের বোঝার কারণে এখনো সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১১টির সম্পদ ও তারল্য তাদের মোট ঋণের চেয়ে বেশি হওয়া সরকারি খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যকেই তুলে ধরেছে।