০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যু, শোকে ওসলো বিতর্ক পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় র‍্যাচেল জেগলার, এবার ব্রডওয়েতে ইভা পেরন শিল্পের নতুন প্রভাবশালীদের খোঁজে টাইম, ৫০ বছর পর প্রচ্ছদে জীবিত চিত্রশিল্পী ৯/১১-এর ২৫ বছর: যে ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এক প্রজন্ম নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ছায়ায় চীনে কি দক্ষ মানুষের দেশত্যাগ বাড়ছে?

চীনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে শুধু দুর্নীতি দমন বা প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানের দৃষ্টিতে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পাশাপাশি এমন অভিযান ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা থেকে বেসরকারি খাতের প্রভাবশালী উদ্যোক্তা—কেউই যখন ভবিষ্যৎ তদন্তের ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন না, তখন অর্থনীতিতে আস্থার প্রশ্নটি সামনে আসে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। বছরের পর বছর ধরে এই অভিযানে দলীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও তদন্তের আওতায় এসেছেন। সাম্প্রতিক সময়েও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

এই অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট—দলীয় শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। কিন্তু অর্থনীতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও জটিল।

অনিশ্চয়তাই বড় ঝুঁকি

চীনের আর্থিক ও করপোরেট জগতে একটি বড় সমস্যা হলো—কোন আচরণ ভবিষ্যতে তদন্তের কারণ হয়ে উঠবে, তা সব সময় বাইরে থেকে স্পষ্ট নয়। ফলে শুধু দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিই নয়, নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন।

এই পরিস্থিতি সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। কঠোর রাজনৈতিক শৃঙ্খলার পরিবেশে অনেক কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে চলাকে বেশি নিরাপদ মনে করতে পারেন। এতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হলেও নীতিনির্ধারণে উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং খোলামেলা মতামতের জায়গা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একজন উদ্যোক্তা যদি মনে করেন, আজকের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভিন্ন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, তাহলে তিনি বড় বিনিয়োগের বদলে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।China's crackdown on corruption is Communist Party's 'New Long March' | South China Morning Post

দক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ কোথায়

চীনের অর্থনীতির জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অন্যতম বড় সম্পদ হলো দক্ষ মানবসম্পদ। সংস্কার ও উন্মুক্ততার সময়ে বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে আসা একটি প্রজন্ম চীনের প্রশাসন, আইন, অর্থনীতি ও ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তখন বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে আসাকে অনেকেই নিজেদের পেশাগত ভবিষ্যতের স্বাভাবিক পথ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিবেশে নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের সামনে প্রশ্নটি ভিন্ন।

দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ও আইনি ঝুঁকি যদি অতিরিক্ত অনিশ্চিত মনে হয়, তাহলে উচ্চ দক্ষতার মানুষ বিদেশে সুযোগ খুঁজবেন—এটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক আচরণ। একইভাবে কোনো উদ্যোক্তা যদি মনে করেন, প্রয়োজনে তার সম্পদ দেশের বাইরে নেওয়া কঠিন হতে পারে, তাহলে তিনি দেশীয় বিনিয়োগের ব্যাপারেও সতর্ক হয়ে উঠতে পারেন।

অর্থাৎ পুঁজি যেমন নিরাপত্তা খোঁজে, মানুষও তেমনই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চয়তা খোঁজে।

দুর্নীতি দমন বনাম আস্থার সংকট

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেকোনো অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ক্ষেত্রেও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের একটি বড় উপাদান হয়ে উঠেছে।

কিন্তু দুর্নীতি দমন এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করা একই বিষয় নয়।

চীনের সামনে তাই শুধু কতজন কর্মকর্তাকে তদন্তের আওতায় আনা হলো, সেই প্রশ্ন নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এমন একটি পরিবেশ কীভাবে তৈরি করা যায়, যেখানে সৎ কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাবেন না, উদ্যোক্তা ব্যবসা সম্প্রসারণে দ্বিধা করবেন না এবং দক্ষ তরুণেরা ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দেশ ছাড়াকে একমাত্র নিরাপদ পথ মনে করবেন না।

চীনের অর্থনীতি যখন সম্পত্তিখাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার মতো সমস্যার মুখোমুখি, তখন মানবসম্পদ ও পুঁজির আস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের অর্থনৈতিক শক্তি শুধু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা বিপুল পুঁজির ওপর নির্ভর করে না। এর বড় ভিত্তি উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগকারী এবং দক্ষ প্রশাসকদের সম্মিলিত সক্ষমতা।

তাই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শেষ পর্যন্ত একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করবে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর থাকা, একই সঙ্গে আইন ও নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা।

কারণ পুঁজি অনিশ্চিত হলে অপেক্ষা করতে পারে। মানুষ অনিশ্চিত হলে চলে যেতে পারে। আর একটি দেশের দক্ষ মানুষ ও পুঁজি—দুটিই যদি ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা হারায়, তাহলে তার প্রভাব শুধু করপোরেট খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি গতিপথেও প্রতিফলিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ছায়ায় চীনে কি দক্ষ মানুষের দেশত্যাগ বাড়ছে?

১০:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে শুধু দুর্নীতি দমন বা প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানের দৃষ্টিতে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পাশাপাশি এমন অভিযান ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা থেকে বেসরকারি খাতের প্রভাবশালী উদ্যোক্তা—কেউই যখন ভবিষ্যৎ তদন্তের ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন না, তখন অর্থনীতিতে আস্থার প্রশ্নটি সামনে আসে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। বছরের পর বছর ধরে এই অভিযানে দলীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও তদন্তের আওতায় এসেছেন। সাম্প্রতিক সময়েও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

এই অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট—দলীয় শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। কিন্তু অর্থনীতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও জটিল।

অনিশ্চয়তাই বড় ঝুঁকি

চীনের আর্থিক ও করপোরেট জগতে একটি বড় সমস্যা হলো—কোন আচরণ ভবিষ্যতে তদন্তের কারণ হয়ে উঠবে, তা সব সময় বাইরে থেকে স্পষ্ট নয়। ফলে শুধু দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিই নয়, নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন।

এই পরিস্থিতি সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। কঠোর রাজনৈতিক শৃঙ্খলার পরিবেশে অনেক কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে চলাকে বেশি নিরাপদ মনে করতে পারেন। এতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হলেও নীতিনির্ধারণে উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং খোলামেলা মতামতের জায়গা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একজন উদ্যোক্তা যদি মনে করেন, আজকের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভিন্ন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, তাহলে তিনি বড় বিনিয়োগের বদলে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।China's crackdown on corruption is Communist Party's 'New Long March' | South China Morning Post

দক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ কোথায়

চীনের অর্থনীতির জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অন্যতম বড় সম্পদ হলো দক্ষ মানবসম্পদ। সংস্কার ও উন্মুক্ততার সময়ে বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে আসা একটি প্রজন্ম চীনের প্রশাসন, আইন, অর্থনীতি ও ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তখন বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে আসাকে অনেকেই নিজেদের পেশাগত ভবিষ্যতের স্বাভাবিক পথ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিবেশে নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীদের সামনে প্রশ্নটি ভিন্ন।

দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ও আইনি ঝুঁকি যদি অতিরিক্ত অনিশ্চিত মনে হয়, তাহলে উচ্চ দক্ষতার মানুষ বিদেশে সুযোগ খুঁজবেন—এটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক আচরণ। একইভাবে কোনো উদ্যোক্তা যদি মনে করেন, প্রয়োজনে তার সম্পদ দেশের বাইরে নেওয়া কঠিন হতে পারে, তাহলে তিনি দেশীয় বিনিয়োগের ব্যাপারেও সতর্ক হয়ে উঠতে পারেন।

অর্থাৎ পুঁজি যেমন নিরাপত্তা খোঁজে, মানুষও তেমনই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চয়তা খোঁজে।

দুর্নীতি দমন বনাম আস্থার সংকট

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেকোনো অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ক্ষেত্রেও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের একটি বড় উপাদান হয়ে উঠেছে।

কিন্তু দুর্নীতি দমন এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করা একই বিষয় নয়।

চীনের সামনে তাই শুধু কতজন কর্মকর্তাকে তদন্তের আওতায় আনা হলো, সেই প্রশ্ন নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এমন একটি পরিবেশ কীভাবে তৈরি করা যায়, যেখানে সৎ কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাবেন না, উদ্যোক্তা ব্যবসা সম্প্রসারণে দ্বিধা করবেন না এবং দক্ষ তরুণেরা ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দেশ ছাড়াকে একমাত্র নিরাপদ পথ মনে করবেন না।

চীনের অর্থনীতি যখন সম্পত্তিখাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার মতো সমস্যার মুখোমুখি, তখন মানবসম্পদ ও পুঁজির আস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের অর্থনৈতিক শক্তি শুধু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা বিপুল পুঁজির ওপর নির্ভর করে না। এর বড় ভিত্তি উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগকারী এবং দক্ষ প্রশাসকদের সম্মিলিত সক্ষমতা।

তাই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শেষ পর্যন্ত একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করবে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর থাকা, একই সঙ্গে আইন ও নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা।

কারণ পুঁজি অনিশ্চিত হলে অপেক্ষা করতে পারে। মানুষ অনিশ্চিত হলে চলে যেতে পারে। আর একটি দেশের দক্ষ মানুষ ও পুঁজি—দুটিই যদি ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা হারায়, তাহলে তার প্রভাব শুধু করপোরেট খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি গতিপথেও প্রতিফলিত হতে পারে।