০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল তিমি শিকারের দীর্ঘ ছায়া: বয়স্ক পুরুষ তিমিরা এখন প্রজনন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বাজি: বিগ টেকের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা এআই যুগকে নতুন রূপ দিচ্ছে নেটফ্লিক্সে আসছে কোরিয়ান গুপ্তচর থ্রিলার ‘হিউমিন্ট’, সঙ্গে বিটিএস ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড লুসাকায় আধা টন হাতির দাঁত জব্দ: জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক হাতির দাঁত পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭১)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০২৪
  • 80

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘দোহাই তোর, জোর করিস না’ অসহায় ভঙ্গিতে মুরাদ বললে, ‘আজ আর কিছু ভালো লাগছে না!’
‘তুই আমার রাত্রির ঘুম নষ্ট করছিস!’
‘তোর তো রাত্রে ঘুমই হয় না-‘
‘খচড়ামি রেখে কি বলতে চেয়েছিলি বল, ভণিতার কি দরকার।’
‘তুই আমাকে জোর করছিস, কিন্তু আমি জানি শুনলে তোর মন খারাপ হ’য়ে যাবে। তবু তোকে বলা দরকার, সেই জন্যেই যেতে চাচ্ছিলাম তোর কাছে।’
‘বুঝলাম তো, তারপর?’ খোকা বড় বড় চোখে মুরাদের দিকে তাকালো। অবসন্ন মনে হয় মুরাদকে; মানসিক শ্রান্তিতে একটু একটু ক’রে ভেঙে পড়ছে সে।
‘তোর মন খারাপ হ’য়ে যাবে খোকা, বরং শুনে কাজ নেই—’
‘প্যানপ্যানানি রেখে খুলে বল যা বলার।’
‘কথা দে, সব শুনে আমাকে ঘৃণা করবি না!’
‘ব্যাপার কি, সিফিলিস নাকি?’
‘কি যা-তা বলছিস!’
‘সিফিলিস যা-তা ব্যাপার হ’লো? বোদলেয়রের ছিলো না?’
‘আমি তো আর বোদলেয়র নই।’
‘হ’তে কতোক্ষণ! এই যে এতো ভ্যারেন্ডা ভাজলাম তাতেও কি তুই বুঝতে পারিসনি যে বোদলেয়রের সঙ্গে আদতেই তোর কোনো তফাত নেই। আর এভাবে যদি দেখতে কষ্ট হয় তাহলে খোলা চোখেও মিল খুঁজে পাবি। এটা বরং তোর পক্ষে আরো সহজ। বোদলেয়র যা যা করতো তুই-ও তাই করিস। তুই কবিতা লিখিস, দু’একবার পাড়ায় গিয়েছিস, ড্রিংক করিস, অনুবাদেও হাত দিয়েছিস। বোদলেয়রের মতো তোর শুধু লেপ্টে থাকা ধুমসো ভেনাস নেই, যে তোকে ফতুর ক’রে ছাড়বে। তা ওটা তুই নিজেই ম্যানেজ ক’রে নিতে পারবি, সে গুণ তোর আছে।
আজকাল তোর যে চালচলন দেখছি তাতে বুঝতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না ঐসব জিনিশ লটকাবার জন্যে দিনরাত হন্যের মতো ঘুরছিস তুই। চেহারাটাও মালখোর মালখোর টাইপের হ’য়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তা জুটিয়েছিস নাকি এক আধটা ঢাউস জিনিশ? তোর তো আবার গম্বুজমার্কা পেল্লায় পেল্লায় জিনিশের খায়েশ হয়; নৌকোর দুলুনিতে গা গোলায়, চিরকালই তুই ইস্টিমারে চাপা পছন্দ করিস। কিবে, হুব্বার মতো জিভ কামড়ে ব’সে আছিস কেন, মাল ছাড়! মাল ছাড়!’
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭১)

০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘দোহাই তোর, জোর করিস না’ অসহায় ভঙ্গিতে মুরাদ বললে, ‘আজ আর কিছু ভালো লাগছে না!’
‘তুই আমার রাত্রির ঘুম নষ্ট করছিস!’
‘তোর তো রাত্রে ঘুমই হয় না-‘
‘খচড়ামি রেখে কি বলতে চেয়েছিলি বল, ভণিতার কি দরকার।’
‘তুই আমাকে জোর করছিস, কিন্তু আমি জানি শুনলে তোর মন খারাপ হ’য়ে যাবে। তবু তোকে বলা দরকার, সেই জন্যেই যেতে চাচ্ছিলাম তোর কাছে।’
‘বুঝলাম তো, তারপর?’ খোকা বড় বড় চোখে মুরাদের দিকে তাকালো। অবসন্ন মনে হয় মুরাদকে; মানসিক শ্রান্তিতে একটু একটু ক’রে ভেঙে পড়ছে সে।
‘তোর মন খারাপ হ’য়ে যাবে খোকা, বরং শুনে কাজ নেই—’
‘প্যানপ্যানানি রেখে খুলে বল যা বলার।’
‘কথা দে, সব শুনে আমাকে ঘৃণা করবি না!’
‘ব্যাপার কি, সিফিলিস নাকি?’
‘কি যা-তা বলছিস!’
‘সিফিলিস যা-তা ব্যাপার হ’লো? বোদলেয়রের ছিলো না?’
‘আমি তো আর বোদলেয়র নই।’
‘হ’তে কতোক্ষণ! এই যে এতো ভ্যারেন্ডা ভাজলাম তাতেও কি তুই বুঝতে পারিসনি যে বোদলেয়রের সঙ্গে আদতেই তোর কোনো তফাত নেই। আর এভাবে যদি দেখতে কষ্ট হয় তাহলে খোলা চোখেও মিল খুঁজে পাবি। এটা বরং তোর পক্ষে আরো সহজ। বোদলেয়র যা যা করতো তুই-ও তাই করিস। তুই কবিতা লিখিস, দু’একবার পাড়ায় গিয়েছিস, ড্রিংক করিস, অনুবাদেও হাত দিয়েছিস। বোদলেয়রের মতো তোর শুধু লেপ্টে থাকা ধুমসো ভেনাস নেই, যে তোকে ফতুর ক’রে ছাড়বে। তা ওটা তুই নিজেই ম্যানেজ ক’রে নিতে পারবি, সে গুণ তোর আছে।
আজকাল তোর যে চালচলন দেখছি তাতে বুঝতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না ঐসব জিনিশ লটকাবার জন্যে দিনরাত হন্যের মতো ঘুরছিস তুই। চেহারাটাও মালখোর মালখোর টাইপের হ’য়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তা জুটিয়েছিস নাকি এক আধটা ঢাউস জিনিশ? তোর তো আবার গম্বুজমার্কা পেল্লায় পেল্লায় জিনিশের খায়েশ হয়; নৌকোর দুলুনিতে গা গোলায়, চিরকালই তুই ইস্টিমারে চাপা পছন্দ করিস। কিবে, হুব্বার মতো জিভ কামড়ে ব’সে আছিস কেন, মাল ছাড়! মাল ছাড়!’