০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
অন্ধকার থেকে আলো—ব্যক্তিগত সংগ্রামকে হাসিতে বদলে নতুন মঞ্চে অ্যাঞ্জেলা ড্রাভিড ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশল গড়ছে উত্তর কোরিয়া, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের প্রযুক্তি কৌশলই অনুসরণ করছে স্টিভি ওয়ান্ডারের জিনিয়াসের এক ঝলক: ‘পার্ট-টাইম লাভার’ দিয়ে শুরু হোক অমর সংগীতযাত্রা গায়কের বিরুদ্ধে কিশোরী হত্যার অভিযোগ, সম্পর্ক ফাঁস ঠেকাতে নৃশংস পরিকল্পনা অর্থনীতির চাপে নিত্যদিন কঠিন হচ্ছে জীবন, বাড়ছে খরচ কমছে স্বস্তি ব্যাটসম্যানদের দাপটে আইপিএল, বোলারদের টিকে থাকতে বদলাতে হবে কৌশল যুদ্ধের মাঝেই বদলে গেছে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র, শক্তিশালী হচ্ছে বিপ্লবী গার্ড সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার তলব, আসাম মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৬১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 135

শ্রী নিখিলনাথ রায়

১৭৬৩ খৃঃ অব্দের ১৯শে জুলাই কাটোয়ার পর পারে পলাশীর নিকট মহম্মদ তকী খাঁর সহিত ইংরেজদিগের যুদ্ধ হয়; এই যুদ্ধে মহম্মদ তকী খাঁকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হইয়াছিল। ২৩শে মুর্শিদাবাদের মোতি- ঝিলের নিকট নবাবসৈন্য পরাজিত হইয়া সূতীতে পলায়ন করে। ২৫শে ইংরেজেরা মীরজাফরকে পুনর্ব্বার সিংহাসনে উপবেশন করান। ‘১লা আগষ্ট গিরিয়া সমরক্ষেত্রে ইংরেজ ও নবাবসৈন্যের মধ্যে ঘোরতর যুদ্ধ ঘটে; তাহাতে নবাবসৈন্য পরাজিত হইয়া, উধুয়ানালায় উপস্থিত হয়। উধুয়ানালায় পূর্ব্ব হইতেই নবাবের শিবির সন্নিবেশিত হইয়াছিল। পরাজিত সৈন্যগণ সেই শিবিরে আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করে। উধুয়ানালার সুন্দর অবস্থানের জন্য মীর কাশেম সেইস্থানে শিবির সন্নিবেশের আজ্ঞা দেন।

নবাবশিবির দক্ষিণ-পূর্ব্বদিকে সম্মুখ করিয়া অবস্থিতি করিতেছিল। পূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে যে, মীর কাশেমের শিবিরের পশ্চাদ্ভাগে উধুয়ানালা প্রবাহিত হইতেছিল। উধুয়ানালা রাজ- মহল পৰ্ব্বতশ্রেণী হইতে বৃহির্গত হইয়া উধুয়ার নিকট একটি বিলে পড়িয়া পরে গঙ্গার সহিত মিলিত হইয়াছে। নবাবশিবিরের বাম পার্শ্বে নিজে গঙ্গা পরিখারূপে অবস্থিত, দক্ষিণ পার্শ্বেও কতকগুলি পর্বত প্রাচীররূপে দণ্ডায়মান। শিবিরের সম্মুখভাগে গঙ্গা হইতে পরিখা খনন করিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম মুখে প্রায় অর্দ্ধক্রোশ দূরে একটি একক পর্ব্বতের অঙ্গে সম্মিলিত করা হইয়াছিল।

এই পর্ব্বতটিকে এক্ষণে পীর পাহাড় কহে। পীরপাহাড় হইতে পুনর্ব্বার পরিখা নিখাত হইয়া, তাহা দক্ষিণদিকে পাহাড়ের নিকটস্থ বাদসাহী সড়ক অতিক্রম করিয়া, কতকগুলি পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পীরপাহাড়কে সুরক্ষিত করিয়া তথায় প্রহরী নিযুক্ত করা হইয়াছিল। এই পরিখাকে বিভাগ করিয়া একটি ঝিল বা দাঁড়া বর্ষার জলপ্লাবনে স্ফীত হইয়া পরিখাভ্যন্তরস্থ অনেক ভূভাগ সলিলাবরণে আবৃত করিয়া রাখিয়াছিল। ঐ ঝিলকে এক্ষণে বকাইয়ের দাঁড়া কহে। পরিখার পার্শ্বে সৃৎপ্রাচীর ও বুরুজ নির্মাণ করিয়া তাহাতে প্রায় একশতটি কামান সুসজ্জিত কর। হইয়া- ছিল। মুর্শিদাবাদ হইতে বিহারে গমন করিতে হইলে, তৎকালে একমাত্র সুপ্রসিদ্ধ বাদসাহী সড়ক দিয়া যাইতে হইত।

উক্ত সড়ক অষ্টা- দশ শতাব্দীতে গঙ্গার তীরে তীরেই অবস্থিত ছিল। ও ফুদকিপুর নামক গ্রামের উত্তর হইতে তাহার কিন্তু উধুয়ার দক্ষিণ আর একটি শাখা প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম, পরে পশ্চিম, অবশেষে উত্তর-পূর্ব্ব মুখে উধুয়ার পর্ব্বতশ্রেণীর নিকট দিয়া রাজমহলে গঙ্গাতীরস্থ প্রধান সড়কের সহিত মিলিত হয়। রেনেলের জঙ্গলতেরাই বিভাগের মানচিত্র হইতে এই বাদসাহী সড়কের সুন্দর অবস্থান বুঝা যায়। মীর কাশেমের শিবির এই উভয় সড়কই অধিকার করিয়া অবস্থিত ছিল। উধুয়ানালা……..

অন্ধকার থেকে আলো—ব্যক্তিগত সংগ্রামকে হাসিতে বদলে নতুন মঞ্চে অ্যাঞ্জেলা ড্রাভিড

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৬১)

১১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

১৭৬৩ খৃঃ অব্দের ১৯শে জুলাই কাটোয়ার পর পারে পলাশীর নিকট মহম্মদ তকী খাঁর সহিত ইংরেজদিগের যুদ্ধ হয়; এই যুদ্ধে মহম্মদ তকী খাঁকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হইয়াছিল। ২৩শে মুর্শিদাবাদের মোতি- ঝিলের নিকট নবাবসৈন্য পরাজিত হইয়া সূতীতে পলায়ন করে। ২৫শে ইংরেজেরা মীরজাফরকে পুনর্ব্বার সিংহাসনে উপবেশন করান। ‘১লা আগষ্ট গিরিয়া সমরক্ষেত্রে ইংরেজ ও নবাবসৈন্যের মধ্যে ঘোরতর যুদ্ধ ঘটে; তাহাতে নবাবসৈন্য পরাজিত হইয়া, উধুয়ানালায় উপস্থিত হয়। উধুয়ানালায় পূর্ব্ব হইতেই নবাবের শিবির সন্নিবেশিত হইয়াছিল। পরাজিত সৈন্যগণ সেই শিবিরে আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করে। উধুয়ানালার সুন্দর অবস্থানের জন্য মীর কাশেম সেইস্থানে শিবির সন্নিবেশের আজ্ঞা দেন।

নবাবশিবির দক্ষিণ-পূর্ব্বদিকে সম্মুখ করিয়া অবস্থিতি করিতেছিল। পূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে যে, মীর কাশেমের শিবিরের পশ্চাদ্ভাগে উধুয়ানালা প্রবাহিত হইতেছিল। উধুয়ানালা রাজ- মহল পৰ্ব্বতশ্রেণী হইতে বৃহির্গত হইয়া উধুয়ার নিকট একটি বিলে পড়িয়া পরে গঙ্গার সহিত মিলিত হইয়াছে। নবাবশিবিরের বাম পার্শ্বে নিজে গঙ্গা পরিখারূপে অবস্থিত, দক্ষিণ পার্শ্বেও কতকগুলি পর্বত প্রাচীররূপে দণ্ডায়মান। শিবিরের সম্মুখভাগে গঙ্গা হইতে পরিখা খনন করিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম মুখে প্রায় অর্দ্ধক্রোশ দূরে একটি একক পর্ব্বতের অঙ্গে সম্মিলিত করা হইয়াছিল।

এই পর্ব্বতটিকে এক্ষণে পীর পাহাড় কহে। পীরপাহাড় হইতে পুনর্ব্বার পরিখা নিখাত হইয়া, তাহা দক্ষিণদিকে পাহাড়ের নিকটস্থ বাদসাহী সড়ক অতিক্রম করিয়া, কতকগুলি পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পীরপাহাড়কে সুরক্ষিত করিয়া তথায় প্রহরী নিযুক্ত করা হইয়াছিল। এই পরিখাকে বিভাগ করিয়া একটি ঝিল বা দাঁড়া বর্ষার জলপ্লাবনে স্ফীত হইয়া পরিখাভ্যন্তরস্থ অনেক ভূভাগ সলিলাবরণে আবৃত করিয়া রাখিয়াছিল। ঐ ঝিলকে এক্ষণে বকাইয়ের দাঁড়া কহে। পরিখার পার্শ্বে সৃৎপ্রাচীর ও বুরুজ নির্মাণ করিয়া তাহাতে প্রায় একশতটি কামান সুসজ্জিত কর। হইয়া- ছিল। মুর্শিদাবাদ হইতে বিহারে গমন করিতে হইলে, তৎকালে একমাত্র সুপ্রসিদ্ধ বাদসাহী সড়ক দিয়া যাইতে হইত।

উক্ত সড়ক অষ্টা- দশ শতাব্দীতে গঙ্গার তীরে তীরেই অবস্থিত ছিল। ও ফুদকিপুর নামক গ্রামের উত্তর হইতে তাহার কিন্তু উধুয়ার দক্ষিণ আর একটি শাখা প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম, পরে পশ্চিম, অবশেষে উত্তর-পূর্ব্ব মুখে উধুয়ার পর্ব্বতশ্রেণীর নিকট দিয়া রাজমহলে গঙ্গাতীরস্থ প্রধান সড়কের সহিত মিলিত হয়। রেনেলের জঙ্গলতেরাই বিভাগের মানচিত্র হইতে এই বাদসাহী সড়কের সুন্দর অবস্থান বুঝা যায়। মীর কাশেমের শিবির এই উভয় সড়কই অধিকার করিয়া অবস্থিত ছিল। উধুয়ানালা……..