০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে চীনা স্যাটেলাইটের প্রভাব, নতুন শক্তির ভারসাম্যে বদল চীনবিরোধী বিক্ষোভে কারাদণ্ড: কাজাখস্তানে ১১ জনের সাজা, মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক ভারতের শহরে হর্নের দাপট: শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনীতির ক্ষতি বাড়ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শঙ্কা: ট্রাম্প ঘিরে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সেনাপ্রধান আসিম মুনির জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে ধস, এক মাসে বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে জ্বালানি সংকটে ধস মোটরসাইকেল বাজারে, গ্রামে বিক্রি কমেছে ৭০-৮০ শতাংশ বাংলাদেশে হাম ঝুঁকি এখনও উচ্চ, জরুরি টিকাদান জোরদারের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৪৩)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪
  • 135

শশাঙ্ক মণ্ডল

শিল্প-বাণিজ্য

তৃতীয় অধ্যায়

কার্পাসের চাষ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই-বিলাতি সুতার প্রচলন ঘটে গেছে। আমাদের দেশে মোহিনী মিল, দিশারী কটন মিলের মোটা সুতা তাঁতিরা ব্যবহার করত। আড়তদার পাইকাররা তাঁতিদের অগ্রিম সুতা দাদন দিত। তাঁতিরা কাপড় বুনে মহাজনকে কাপড় দিলে তবেই তাঁতিরা মজুরি পেত। ১৯১০-১১ খ্রীষ্টাব্দে একসের চালের দাম ছিল দুই আনা। এ সময়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। ফলে তাঁতিদের জীবনযাত্রা কঠোর হয়ে পড়ে। দৈনিক খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতেই তাদের মজুরি ব্যয়িত হত। উদ্বৃত্ত সম্পদ বলতে থাকত না। (১০) ২৪ পরগনার জেলা গেজেটিয়রে এ সময়ে বিভিন্ন স্তরের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির হিসাব লক্ষ করা যাচ্ছে নিম্নরূপ-

১৯২০-৩০ এর দশকে ভাঙর, হাড়োয়া এলাকার গামছার মজুরি হিসাবে তাঁতিরা একজোড়া গামছার জন্য মজুরি হিসাবে তিন আনা পেত তখন একজন সাধারণ মজুর চাষের কাজে ৬ আনা মজুরি পেত।

একজন তাঁতি বাড়ির মেয়েদের সাহায্য নিয়ে সপ্তাহে ১৫/১৬ জোড়া গামছা তৈরি করতে পারত। তার ফলে সপ্তাহে মজুরি হিসাবে একটা তাঁতিপরিবার একখানা তাঁতে ৩ টাকার বেশি পেত না। সাধারণ তাঁতিদের আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ হয়ে দাঁড়ায়। বরিশালের গৌরনদী, খুলনার বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিদের একই করুণ চিত্র সেদিন লক্ষ করা গেছে। তাঁতিদের দুরবস্থা নিয়ে সে যুগে বিভিন্ন পত্রিকায় দু-একটা সংবাদও লক্ষ করা যাচ্ছে। স্বদেশি আন্দোলন যতটা আলোড়ন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছিল বাস্তবে কার্পাস শিল্পের ক্ষেত্রে ততটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তাঁতবস্ত্রের চাহিদা সৃষ্টিতে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারেনি গরিব কৃষিজীবী মানুষরা যতটুকু পরিধেয় সংগ্রহ করতে পেরেছে তা সস্তার বিলাতি কাপড়ের ওপর নির্ভরশীল থেকেছে। পরবর্তীকালে মোহিনী মিলস্, বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস্ এবং স্বদেশি অন্যান্য মিলের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে; প্রকৃতপক্ষে তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ ভাগেও তেমন অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তের তাঁতি অধ্যুষিত এলাকার মানুষরা বেশি বেশি করে তাদের শিল্পের জগৎ থেকে নির্বাসিত হয়ে অন্য পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। (১৬)

চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৪৩)

১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

শিল্প-বাণিজ্য

তৃতীয় অধ্যায়

কার্পাসের চাষ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই-বিলাতি সুতার প্রচলন ঘটে গেছে। আমাদের দেশে মোহিনী মিল, দিশারী কটন মিলের মোটা সুতা তাঁতিরা ব্যবহার করত। আড়তদার পাইকাররা তাঁতিদের অগ্রিম সুতা দাদন দিত। তাঁতিরা কাপড় বুনে মহাজনকে কাপড় দিলে তবেই তাঁতিরা মজুরি পেত। ১৯১০-১১ খ্রীষ্টাব্দে একসের চালের দাম ছিল দুই আনা। এ সময়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। ফলে তাঁতিদের জীবনযাত্রা কঠোর হয়ে পড়ে। দৈনিক খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতেই তাদের মজুরি ব্যয়িত হত। উদ্বৃত্ত সম্পদ বলতে থাকত না। (১০) ২৪ পরগনার জেলা গেজেটিয়রে এ সময়ে বিভিন্ন স্তরের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির হিসাব লক্ষ করা যাচ্ছে নিম্নরূপ-

১৯২০-৩০ এর দশকে ভাঙর, হাড়োয়া এলাকার গামছার মজুরি হিসাবে তাঁতিরা একজোড়া গামছার জন্য মজুরি হিসাবে তিন আনা পেত তখন একজন সাধারণ মজুর চাষের কাজে ৬ আনা মজুরি পেত।

একজন তাঁতি বাড়ির মেয়েদের সাহায্য নিয়ে সপ্তাহে ১৫/১৬ জোড়া গামছা তৈরি করতে পারত। তার ফলে সপ্তাহে মজুরি হিসাবে একটা তাঁতিপরিবার একখানা তাঁতে ৩ টাকার বেশি পেত না। সাধারণ তাঁতিদের আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ হয়ে দাঁড়ায়। বরিশালের গৌরনদী, খুলনার বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিদের একই করুণ চিত্র সেদিন লক্ষ করা গেছে। তাঁতিদের দুরবস্থা নিয়ে সে যুগে বিভিন্ন পত্রিকায় দু-একটা সংবাদও লক্ষ করা যাচ্ছে। স্বদেশি আন্দোলন যতটা আলোড়ন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছিল বাস্তবে কার্পাস শিল্পের ক্ষেত্রে ততটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তাঁতবস্ত্রের চাহিদা সৃষ্টিতে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারেনি গরিব কৃষিজীবী মানুষরা যতটুকু পরিধেয় সংগ্রহ করতে পেরেছে তা সস্তার বিলাতি কাপড়ের ওপর নির্ভরশীল থেকেছে। পরবর্তীকালে মোহিনী মিলস্, বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলস্ এবং স্বদেশি অন্যান্য মিলের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে; প্রকৃতপক্ষে তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ ভাগেও তেমন অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তের তাঁতি অধ্যুষিত এলাকার মানুষরা বেশি বেশি করে তাদের শিল্পের জগৎ থেকে নির্বাসিত হয়ে অন্য পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। (১৬)