০২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬০)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪
  • 151
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

রামমোহন দ্বারকানাথ প্রমুখ নব্য বাংলার নেতারা ১৮২৯ এর ১৫ই ডিসেম্বর টাউনহলের সভায় নীলচাষ সমর্থন করেছিলেন এবং মন্তব্য করেছিলেন নীলচাষহীন এলাকার তুলনায় নীলচাষের এলাকার চাষিদের আর্থিক অবস্থা ভালো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীলচাষের ফলে কৃষকরা উপকৃত হয়েছে। সে যুগটা ছিল দেভিড হেয়ার বেথুনের যুগ-বড় ইংরেজ-এর উদারতার কথা ভেবে আশ্বস্ত হয়েছিলেন নব্য বাংলা।

অগ্রপথিকরা কিন্তু শীঘ্রই তাদের সেই ঘোর কাটল। অবশ্য নীলকর সাহেবদের প্রজাহিতৈষণার ব্যাপারে যে দাবি সে যুগে করা হয়েছিল তা সবটা মেনে না নিলেও কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের জনকল্যাণমূলক দিককে অস্বীকার করা যায় না। জমিদারদের তুঘলকি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করেছিল এবং অনাবৃষ্টি বা দুর্যোগের দিনে চাষিকে কিছু কিছু কিছু বি সাহায্য করার সংবাদ জানা যায়।

মুন্সিগঞ্জের Thomas Levi এবং ঢাকার Pagosee স্থানীয় মানুষদের কাছে শ্রদ্ধার আসন পেয়েছিলেন। কোনও রকমের অত্যাচারের সঙ্গে এরা জড়িত ছিলেন না। ঝিঙেরগাছার ম্যাকেঞ্জি সাহেব নিজে অত্যাচারী হলেও Baptist Missionery Society এর পক্ষে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেছিলেন। ১৩০ ছাত্র নিয়ে একটা ইংরেজি স্কুল চালু করেন। যশোরের মাগুরা মহকুমায় নীলকর সাহেবরা দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তুলেছিলেন।

রুদ্রপুর নীল কনসার্ন-এ অধিকর্তা ডেভিডসন বাদুড়িয়া এল. এম. এস. বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নীল বিদ্রোহে নীলকর সাহেবদের নেতৃত্ব দেন James Farlong কিন্তু ১৮৪২ খ্রীঃ ফার্লং দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করেন। এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়, সেদিন তারা সমাজজীবনে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল দাতব্য চিকিৎসালয়ের বিনামূল্যের ঔষধ তা দূর করতে পারে না।

ব্রিটিশ বণিকরা নিজের দেশের ক্ষেত্রে প্রগতিশীল ভূমিকা নিলেও উপনিবেশের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে পারে না- এটা আমরা সেদিন বুঝতে পারিনি-এই ভুল পরবর্তীকালে জাতীয় জীবনে বিষবৃক্ষের সৃষ্টি করল-১৮৫০ এর মধ্যে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের সামনে তা ধীরে ধীরে উদ্‌ঘাটিত হল। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের শিল্পসাম্রাজ্য মুখ থুবড়ে পড়ল কার টেগোর কোম্পানির পতন ঘটল। এ কেবল একজন ব্যক্তি বা তার পরিবারের আর্থিক বুনিয়াদে ফাটল ধরা নয়- একটা জাতির সমগ্র আশা-আকাঙক্ষা মুখ থুবড়ে পড়ল। আমাদের দেশের আদার ব্যাপারীরা জাহাজের খবর রাখতে গিয়ে Partner in Empire হবার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু উপনিবেশের বিরুদ্ধ পরিবেশে তা সম্ভব নয়-এটা বাস্তব হয়ে উঠল।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬০)

১২:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

রামমোহন দ্বারকানাথ প্রমুখ নব্য বাংলার নেতারা ১৮২৯ এর ১৫ই ডিসেম্বর টাউনহলের সভায় নীলচাষ সমর্থন করেছিলেন এবং মন্তব্য করেছিলেন নীলচাষহীন এলাকার তুলনায় নীলচাষের এলাকার চাষিদের আর্থিক অবস্থা ভালো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীলচাষের ফলে কৃষকরা উপকৃত হয়েছে। সে যুগটা ছিল দেভিড হেয়ার বেথুনের যুগ-বড় ইংরেজ-এর উদারতার কথা ভেবে আশ্বস্ত হয়েছিলেন নব্য বাংলা।

অগ্রপথিকরা কিন্তু শীঘ্রই তাদের সেই ঘোর কাটল। অবশ্য নীলকর সাহেবদের প্রজাহিতৈষণার ব্যাপারে যে দাবি সে যুগে করা হয়েছিল তা সবটা মেনে না নিলেও কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের জনকল্যাণমূলক দিককে অস্বীকার করা যায় না। জমিদারদের তুঘলকি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করেছিল এবং অনাবৃষ্টি বা দুর্যোগের দিনে চাষিকে কিছু কিছু কিছু বি সাহায্য করার সংবাদ জানা যায়।

মুন্সিগঞ্জের Thomas Levi এবং ঢাকার Pagosee স্থানীয় মানুষদের কাছে শ্রদ্ধার আসন পেয়েছিলেন। কোনও রকমের অত্যাচারের সঙ্গে এরা জড়িত ছিলেন না। ঝিঙেরগাছার ম্যাকেঞ্জি সাহেব নিজে অত্যাচারী হলেও Baptist Missionery Society এর পক্ষে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেছিলেন। ১৩০ ছাত্র নিয়ে একটা ইংরেজি স্কুল চালু করেন। যশোরের মাগুরা মহকুমায় নীলকর সাহেবরা দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে তুলেছিলেন।

রুদ্রপুর নীল কনসার্ন-এ অধিকর্তা ডেভিডসন বাদুড়িয়া এল. এম. এস. বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নীল বিদ্রোহে নীলকর সাহেবদের নেতৃত্ব দেন James Farlong কিন্তু ১৮৪২ খ্রীঃ ফার্লং দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করেন। এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়, সেদিন তারা সমাজজীবনে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল দাতব্য চিকিৎসালয়ের বিনামূল্যের ঔষধ তা দূর করতে পারে না।

ব্রিটিশ বণিকরা নিজের দেশের ক্ষেত্রে প্রগতিশীল ভূমিকা নিলেও উপনিবেশের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে পারে না- এটা আমরা সেদিন বুঝতে পারিনি-এই ভুল পরবর্তীকালে জাতীয় জীবনে বিষবৃক্ষের সৃষ্টি করল-১৮৫০ এর মধ্যে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের সামনে তা ধীরে ধীরে উদ্‌ঘাটিত হল। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের শিল্পসাম্রাজ্য মুখ থুবড়ে পড়ল কার টেগোর কোম্পানির পতন ঘটল। এ কেবল একজন ব্যক্তি বা তার পরিবারের আর্থিক বুনিয়াদে ফাটল ধরা নয়- একটা জাতির সমগ্র আশা-আকাঙক্ষা মুখ থুবড়ে পড়ল। আমাদের দেশের আদার ব্যাপারীরা জাহাজের খবর রাখতে গিয়ে Partner in Empire হবার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু উপনিবেশের বিরুদ্ধ পরিবেশে তা সম্ভব নয়-এটা বাস্তব হয়ে উঠল।