১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪
  • 113

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়া জনসমাজের অন্যতম প্রধান জীবিকা বা দিনগুজরানের উপায় হল ভুট্টা চাষ। এ সম্পর্কে আরো তথ্য আছে। মায়া-সভ্যতারই এক কিংবদন্তী বিষয় হল এই ভুট্টা (Maize)। ভুট্টা জীবিকার সীমানা ছাড়িয়ে জীবনচর্চা ও জীবনচর্চার উপাদানে পরিণত হয়েছিল। ভুট্টা চাষের অন্যতম আবেদন ছিল সমবেত বা সমবায় সুলভ। প্রথমে একটি অঞ্চল নির্বাচন করে জমির বিরাট ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।

এই জমি নির্বাচনের পর শুরু হয় চাষ করার বিভিন্ন স্তর। প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার এই ভুট্টা চাষের কাজটি তারা খুব মন ও শ্রম দিয়ে করে। কেননা তাঁরা খুব ভাল করেই জানে এই ভুট্টা চাষের উপরই তাদের সারা বছরের দিনগুজরানের ব্যবস্থা হয়। জমি মনোনয়নের পরই ভুট্টার বীজ জমিতে পোঁতার কাজ। এই বীজ বপনের সময় কিছু লৌকিক আচারও পালন করে। (এই লৌকিক আচার আগের অধ্যায়ে বর্ণিত) বীজ বপন করার কাজে এক একটি পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।

এই কাজের ক্ষেত্রে সবাই নিজে জমির মালিক নয়। অনেক সময়েই গ্রামের অভিজাত বা পুরোহিত সম্প্রদায়ের লোক ঐ জমির মালিক। সেইদিক থেকে বলা যায় গ্রাম, আধা শহরের কৃষিজীবীরা কৃষি-শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু পরিবার একত্রে সমবেত হয়ে নিজস্ব জমির ব্যবস্থা করে। এই জমিতেও মায়ারা সমান একাগ্রতা নিয়ে কাজ করে এবং ভুট্টার ফসল ঘরে তোলে।

ভুট্টাশস্য চাষ এবং জীবিকার সুযোগ: মায়াদের মধ্যে যেমন ভুট্টার চাষকে কেন্দ্র করে জীবিকার ব্যবস্থা হয় তেমনি অন্য একটি শস্য চাষের ব্যবস্থাও খুব জনপ্রিয়। এই চাষের নাম মিলপা (Milpa)। মিলপা চাষের কাজটিও খুব সুক্ষ্ম ও কায়দা-কৌশল নির্ভর। কেননা এই চাষ করার জন্য বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট সময়চক্র অনুসরণ করতে হয়। এই সময়চক্র সঠিকভাবে এসেছে কিনা তা বিচার করার কাজে ভুল হলে পরবর্তী চাষ-প্রক্রিয়াতেও এটি ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

মিলপা চাষের সঙ্গে মায়াদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলের এক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত থাকে। মিলপার মধ্যে কেবল ভুট্টার ধারণা থাকে এমন নয়। অন্যান্য শস্য, দানা জাতীয় উপাদানও এই মিলপা চাষের সঙ্গে যোগ করা হয়। এই অন্যান্য ধরনের শস্যবীজ বপন এবং পর্যায়ক্রম চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকে মায়া জনজাতির অনেক সাধারণ মানুষ। অনেক অঞ্চলে এই কৃষকশ্রেণি শস্য বা ভুট্টার চাষের মাধ্যমেই তাদের দিন গুজরান করত।মায়া-সভ্যতার মধ্যে মেক্সিকোসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুয়াতেমালা, হন্ডুরাসের বিভিন্ন শহরে শস্য চাষ এবং ফসলের পরিমাণ জমি ও জল-হাওয়ার কারণে ভিন্নতর হত। কিন্তু মূলত সব অঞ্চলেই ভুট্টাসহ অন্যান্য শস্য চাষই ছিল প্রধান জীবিকা।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৭)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৭)

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৮)

০৬:০০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়া জনসমাজের অন্যতম প্রধান জীবিকা বা দিনগুজরানের উপায় হল ভুট্টা চাষ। এ সম্পর্কে আরো তথ্য আছে। মায়া-সভ্যতারই এক কিংবদন্তী বিষয় হল এই ভুট্টা (Maize)। ভুট্টা জীবিকার সীমানা ছাড়িয়ে জীবনচর্চা ও জীবনচর্চার উপাদানে পরিণত হয়েছিল। ভুট্টা চাষের অন্যতম আবেদন ছিল সমবেত বা সমবায় সুলভ। প্রথমে একটি অঞ্চল নির্বাচন করে জমির বিরাট ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।

এই জমি নির্বাচনের পর শুরু হয় চাষ করার বিভিন্ন স্তর। প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার এই ভুট্টা চাষের কাজটি তারা খুব মন ও শ্রম দিয়ে করে। কেননা তাঁরা খুব ভাল করেই জানে এই ভুট্টা চাষের উপরই তাদের সারা বছরের দিনগুজরানের ব্যবস্থা হয়। জমি মনোনয়নের পরই ভুট্টার বীজ জমিতে পোঁতার কাজ। এই বীজ বপনের সময় কিছু লৌকিক আচারও পালন করে। (এই লৌকিক আচার আগের অধ্যায়ে বর্ণিত) বীজ বপন করার কাজে এক একটি পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।

এই কাজের ক্ষেত্রে সবাই নিজে জমির মালিক নয়। অনেক সময়েই গ্রামের অভিজাত বা পুরোহিত সম্প্রদায়ের লোক ঐ জমির মালিক। সেইদিক থেকে বলা যায় গ্রাম, আধা শহরের কৃষিজীবীরা কৃষি-শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু পরিবার একত্রে সমবেত হয়ে নিজস্ব জমির ব্যবস্থা করে। এই জমিতেও মায়ারা সমান একাগ্রতা নিয়ে কাজ করে এবং ভুট্টার ফসল ঘরে তোলে।

ভুট্টাশস্য চাষ এবং জীবিকার সুযোগ: মায়াদের মধ্যে যেমন ভুট্টার চাষকে কেন্দ্র করে জীবিকার ব্যবস্থা হয় তেমনি অন্য একটি শস্য চাষের ব্যবস্থাও খুব জনপ্রিয়। এই চাষের নাম মিলপা (Milpa)। মিলপা চাষের কাজটিও খুব সুক্ষ্ম ও কায়দা-কৌশল নির্ভর। কেননা এই চাষ করার জন্য বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট সময়চক্র অনুসরণ করতে হয়। এই সময়চক্র সঠিকভাবে এসেছে কিনা তা বিচার করার কাজে ভুল হলে পরবর্তী চাষ-প্রক্রিয়াতেও এটি ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

মিলপা চাষের সঙ্গে মায়াদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলের এক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত থাকে। মিলপার মধ্যে কেবল ভুট্টার ধারণা থাকে এমন নয়। অন্যান্য শস্য, দানা জাতীয় উপাদানও এই মিলপা চাষের সঙ্গে যোগ করা হয়। এই অন্যান্য ধরনের শস্যবীজ বপন এবং পর্যায়ক্রম চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকে মায়া জনজাতির অনেক সাধারণ মানুষ। অনেক অঞ্চলে এই কৃষকশ্রেণি শস্য বা ভুট্টার চাষের মাধ্যমেই তাদের দিন গুজরান করত।মায়া-সভ্যতার মধ্যে মেক্সিকোসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুয়াতেমালা, হন্ডুরাসের বিভিন্ন শহরে শস্য চাষ এবং ফসলের পরিমাণ জমি ও জল-হাওয়ার কারণে ভিন্নতর হত। কিন্তু মূলত সব অঞ্চলেই ভুট্টাসহ অন্যান্য শস্য চাষই ছিল প্রধান জীবিকা।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৭)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৭)