০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪
  • 151

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রাথমিকভাবে একথা ঠিক যে মায়ারা প্রধানত ছিল কৃষিজীবী। বনচাষ, শিকার, ভুট্টাচাষ, শস্যর নানারকম উৎপাদনকে কেন্দ্র করেই তাদের রুজি-রোজগার হত। কিন্তু অন্যরকম তথ্য থেকে একথাও আমরা জানতে পারি কেবলমাত্র কৃষির উপর নির্ভর করে থাকেনি মায়ারা। বিশেষত গ্রামে বসবাসকারী সাধারণ মানুষও প্রাক্-ক্লাসিক যুগে অন্যান্য কাজের মাধ্যমে দিন গুজরান করত।

শাসক ও অভিজাতরা সাধারণ মানুষকে অন্যান্য জনবসতি গড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরকম জনবসতির স্থল দক্ষিণ মালভূমির কামিনালজুইউ (Kaminaljuyu) এবং পেতেন-এর জঙ্গল। এইসঙ্গে তারা তৈরি করত পিরামিডের মত দেখতে মাটির ঢিবি। আবার কখনো তৈরি করত বেড়ার মত কিছু দিয়ে বাড়ি বা মন্দির। এই ধরনের ছোট ছোট মন্দির মায়ারা সাধারণত তৈরি করত এই ধরনের জনবসতির কেন্দ্রস্থলে।

এই মন্দিরে বসে পুরোহিতরা নানা ধরনের পূজা- অর্চনা করত। এই পূজার কাজের মধ্য দিয়ে জীবিকার ব্যবস্থাটি ভালভাবেই সম্পন্ন হত। তবে এই প্রসঙ্গে মূল কথাটি উল্লেখ করতে হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান থেকে আরো জানা যায় প্রাচীন মায়া গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় জমিতে চাষের কাজ (Farmers) করত। এই চাষের কাজটি তারা সমবেত বা সমবায় পদ্ধতিতে করত। ছোট ছোট গর্ত করে কাঠের ধারালো আগা দিয়ে জমি সাজিয়ে শস্যবীজ বুনত।

অবশ্য পরে তা গ্রিলে যুগে মায়ারা কৃষিকাজের কৌশল ও পদ্ধতি গ্রহণ করার ফলে নিরবচ্ছিন্ন চাষ এবং ঘূর্ণায়মান চাষ প্রথা (crop (otation) শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। সম্ভব হয়েছিল জমিতে সার দেওয়ার কাজ এবং এইসঙ্গে তারা তৈরি করতে পেরেছিল বাগান এবং জমিকে সুন্দর করে বানিয়ে এক ধরনের খুব বড় বারান্দা যা ছোটখাটো একটি এলাকার মত।

এই বাগান, ছোট সুন্দর জমি, জমিতে সার দেওয়ার কাজ, চাষের নানা স্তরের কাজ সব মিলিয়ে মায়াদের কাজের বৈচিত্র্য গড়ে উঠেছিল। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, রুটি-রোজগারের পদ্ধতিতে অনেক সময়েই একত্রিত বা সমবেত অংশগ্রহণ ছিল তাদের এক ধরনের নীতি। জীবনের মূল্যবোধ, সমাজিক জীবন এবং পেশা-জীবন একসূত্রে গাঁথা হয়ে থাকত। এই জীবনচর্চা এবং সমষ্টিগত মূল্যবোধ সম্ভব হওয়ার একটি প্রধান সহায়ক কারণ হিসেবে ছিল প্রথমদিকের কম জনসংখ্যা।

সমাজ-শাসন, প্রশাসন-এ একটি ধারাবাহিক শৃঙ্খল এবং শ্রেণিবিন্যাসের এক কঠোর কিন্তু সম্মত ব্যবস্থা। এক কথায় বলা যায় মায়া জনসমাজ যেমন তার নীতি-আচার, ধর্মীয় বিশ্বাস দিয়ে গড়া তেমনি তার অর্থনীতি, বাণিজ্য, পেশা এবং জীবিকা ব্যবস্থাও নানা বৈচিত্র্য নিয়ে সুন্দর। এই জীবিকা নির্বাহর মধ্যেও কখনো কখনো আচার-রীতির প্রভাব ছিল। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভুট্টাকে কেন্দ্র করে তাদের জীবনচর্চা।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৫)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৬)

০৮:০০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রাথমিকভাবে একথা ঠিক যে মায়ারা প্রধানত ছিল কৃষিজীবী। বনচাষ, শিকার, ভুট্টাচাষ, শস্যর নানারকম উৎপাদনকে কেন্দ্র করেই তাদের রুজি-রোজগার হত। কিন্তু অন্যরকম তথ্য থেকে একথাও আমরা জানতে পারি কেবলমাত্র কৃষির উপর নির্ভর করে থাকেনি মায়ারা। বিশেষত গ্রামে বসবাসকারী সাধারণ মানুষও প্রাক্-ক্লাসিক যুগে অন্যান্য কাজের মাধ্যমে দিন গুজরান করত।

শাসক ও অভিজাতরা সাধারণ মানুষকে অন্যান্য জনবসতি গড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরকম জনবসতির স্থল দক্ষিণ মালভূমির কামিনালজুইউ (Kaminaljuyu) এবং পেতেন-এর জঙ্গল। এইসঙ্গে তারা তৈরি করত পিরামিডের মত দেখতে মাটির ঢিবি। আবার কখনো তৈরি করত বেড়ার মত কিছু দিয়ে বাড়ি বা মন্দির। এই ধরনের ছোট ছোট মন্দির মায়ারা সাধারণত তৈরি করত এই ধরনের জনবসতির কেন্দ্রস্থলে।

এই মন্দিরে বসে পুরোহিতরা নানা ধরনের পূজা- অর্চনা করত। এই পূজার কাজের মধ্য দিয়ে জীবিকার ব্যবস্থাটি ভালভাবেই সম্পন্ন হত। তবে এই প্রসঙ্গে মূল কথাটি উল্লেখ করতে হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান থেকে আরো জানা যায় প্রাচীন মায়া গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় জমিতে চাষের কাজ (Farmers) করত। এই চাষের কাজটি তারা সমবেত বা সমবায় পদ্ধতিতে করত। ছোট ছোট গর্ত করে কাঠের ধারালো আগা দিয়ে জমি সাজিয়ে শস্যবীজ বুনত।

অবশ্য পরে তা গ্রিলে যুগে মায়ারা কৃষিকাজের কৌশল ও পদ্ধতি গ্রহণ করার ফলে নিরবচ্ছিন্ন চাষ এবং ঘূর্ণায়মান চাষ প্রথা (crop (otation) শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। সম্ভব হয়েছিল জমিতে সার দেওয়ার কাজ এবং এইসঙ্গে তারা তৈরি করতে পেরেছিল বাগান এবং জমিকে সুন্দর করে বানিয়ে এক ধরনের খুব বড় বারান্দা যা ছোটখাটো একটি এলাকার মত।

এই বাগান, ছোট সুন্দর জমি, জমিতে সার দেওয়ার কাজ, চাষের নানা স্তরের কাজ সব মিলিয়ে মায়াদের কাজের বৈচিত্র্য গড়ে উঠেছিল। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, রুটি-রোজগারের পদ্ধতিতে অনেক সময়েই একত্রিত বা সমবেত অংশগ্রহণ ছিল তাদের এক ধরনের নীতি। জীবনের মূল্যবোধ, সমাজিক জীবন এবং পেশা-জীবন একসূত্রে গাঁথা হয়ে থাকত। এই জীবনচর্চা এবং সমষ্টিগত মূল্যবোধ সম্ভব হওয়ার একটি প্রধান সহায়ক কারণ হিসেবে ছিল প্রথমদিকের কম জনসংখ্যা।

সমাজ-শাসন, প্রশাসন-এ একটি ধারাবাহিক শৃঙ্খল এবং শ্রেণিবিন্যাসের এক কঠোর কিন্তু সম্মত ব্যবস্থা। এক কথায় বলা যায় মায়া জনসমাজ যেমন তার নীতি-আচার, ধর্মীয় বিশ্বাস দিয়ে গড়া তেমনি তার অর্থনীতি, বাণিজ্য, পেশা এবং জীবিকা ব্যবস্থাও নানা বৈচিত্র্য নিয়ে সুন্দর। এই জীবিকা নির্বাহর মধ্যেও কখনো কখনো আচার-রীতির প্রভাব ছিল। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভুট্টাকে কেন্দ্র করে তাদের জীবনচর্চা।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৫)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৫)