০১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ফ্লেমিঙ্গো ছানার জীবনচক্র ও গোলাপি রঙে বদলের অবাক করা রহস্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় থাই হসপিটালিটি জায়ান্ট ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রে একের পর এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে উপকূলজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়: ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা ও স্লিপার সেল আতঙ্কে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি ২৩ কোটি রিঙ্গিত আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: এনজিও কেলেঙ্কারিতে বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ হরমুজ সংকটে ভারতে গ্যাসের তীব্র সংকট, রাস্তায় নেমেছে শ্রমিকদের ক্ষোভ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৩)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 82

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পণ্ডিতদিগকে মহারাজের কারাগৃহ দেখাইলে, তাঁহারা বলেন যে, মহারাজ নন্দকুমার এরূপ স্থলে আহার করিতে পারেন না; যদি করেন, তাহাতে তাঁহার জাতি যাইবে না, কিন্তু প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে। পণ্ডিতদিগের এইরূপ অদ্ভুত ব্যবস্থায় নন্দকুমারকে কারাযন্ত্রণাই ভোগ করিতে হইল। তিনি জামিনে নিষ্কৃতি পাইলেন না। হায়! বঙ্গদেশে চিরকালই কি ‘পলিটিকাল পণ্ডিত’ পাওয়া যাইত? নন্দকুমারের কারাবাসে ও মিথ্যা মোকদ্দমায় ক্লেভারিং, মন্সন ও ফ্রান্সিস অত্যন্ত বিচলিত হইলেন। নন্দকুমার, ফাউক প্রভৃতির নামে মোকদ্দমা উপস্থিত হইলে, তাঁহারা নন্দকুমারের বাটীতে গমন করিয়া তাঁহাকে একবার উৎসাহিত করিয়া আসেন।

এদিকে জজদিগের সহিত যোগ দিয়া হেষ্টিংস নন্দকুমারের সর্ব্বনাশে প্রবৃত্ত হইলেন। পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে, ষড়যন্ত্রের মোকদ্দমার প্রাথমিক অনুসন্ধান হইতেছিল। জালকরা অভিযোগ উপস্থিত হইলে, তাহার পরবর্তী দাওরায় ষড়যন্ত্রের মোকদ্দমার পূর্ব্বেই জালকরা মোকদ্দমার দিন পড়িল। ধন্য ন্যায়পর ব্রিটিশ বিচারকগণ! তোমরা হেষ্টিংসের জন্য বিচারালয়ের নিয়ম পর্যন্তও লঙ্ঘন করিতে ত্রুটি কর নাই!

১৭৭৫ খৃঃ অব্দের ৮ই জুন হইতে কলিকাতার সুপ্রীমকোর্টে মহারাজ নন্দকুমারের জালকরা অভিযোগের বিচার আরম্ভ হয়। ৯ই জুন এডওয়ার্ড স্কট, রবার্ট ম্যাকফালিন, টমাস স্মিথ, এডওয়ার্ড এলারিংটন, যোসেফ বার্ণার্ত স্মিথ, জন রবিন্সন, জন ফার্গুসন, আর্থার আডি, জন কলিস, সামুয়েল টাউচেট, এডওয়ার্ড সাটারথোয়েট এবং চার্লস ওয়েইন এই দ্বাদশ জন জুরী স্থির হন।

তাঁহাদের মধ্যে জন রবিন্সনকে জুরীপতি নির্ব্বাচিত করা হয়। সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইম্পে সাহের চেম্বার্স, হাইড ও লেমষ্টেয়ার জজত্রয়ের সহিত জুরীদিগকে লইয়া বিচারে প্রবৃত্ত হইলেন। পূর্ব্বোল্লিখিত ইলিয়ট সাহেব দ্বিভাষীর কার্য্যে নিযুক্ত হন। নন্দকুমারের পক্ষে জারেট আটর্ণী ও ফ্যারার কৌন্সিলি নিযুক্ত হইয়া যথারীতি মোকদ্দমা চালাইতে লাগিলেন। পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে এ অভিযোগে স্বয়ং সরকার বা ইংলণ্ডাধিপ ফরিয়াদী। বিচার প্রথানু- যায়ী অন্যান্য কার্য্যের পর ফরিয়াদী পক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দী গৃহীত হইল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৩)

১১:০০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পণ্ডিতদিগকে মহারাজের কারাগৃহ দেখাইলে, তাঁহারা বলেন যে, মহারাজ নন্দকুমার এরূপ স্থলে আহার করিতে পারেন না; যদি করেন, তাহাতে তাঁহার জাতি যাইবে না, কিন্তু প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে। পণ্ডিতদিগের এইরূপ অদ্ভুত ব্যবস্থায় নন্দকুমারকে কারাযন্ত্রণাই ভোগ করিতে হইল। তিনি জামিনে নিষ্কৃতি পাইলেন না। হায়! বঙ্গদেশে চিরকালই কি ‘পলিটিকাল পণ্ডিত’ পাওয়া যাইত? নন্দকুমারের কারাবাসে ও মিথ্যা মোকদ্দমায় ক্লেভারিং, মন্সন ও ফ্রান্সিস অত্যন্ত বিচলিত হইলেন। নন্দকুমার, ফাউক প্রভৃতির নামে মোকদ্দমা উপস্থিত হইলে, তাঁহারা নন্দকুমারের বাটীতে গমন করিয়া তাঁহাকে একবার উৎসাহিত করিয়া আসেন।

এদিকে জজদিগের সহিত যোগ দিয়া হেষ্টিংস নন্দকুমারের সর্ব্বনাশে প্রবৃত্ত হইলেন। পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে, ষড়যন্ত্রের মোকদ্দমার প্রাথমিক অনুসন্ধান হইতেছিল। জালকরা অভিযোগ উপস্থিত হইলে, তাহার পরবর্তী দাওরায় ষড়যন্ত্রের মোকদ্দমার পূর্ব্বেই জালকরা মোকদ্দমার দিন পড়িল। ধন্য ন্যায়পর ব্রিটিশ বিচারকগণ! তোমরা হেষ্টিংসের জন্য বিচারালয়ের নিয়ম পর্যন্তও লঙ্ঘন করিতে ত্রুটি কর নাই!

১৭৭৫ খৃঃ অব্দের ৮ই জুন হইতে কলিকাতার সুপ্রীমকোর্টে মহারাজ নন্দকুমারের জালকরা অভিযোগের বিচার আরম্ভ হয়। ৯ই জুন এডওয়ার্ড স্কট, রবার্ট ম্যাকফালিন, টমাস স্মিথ, এডওয়ার্ড এলারিংটন, যোসেফ বার্ণার্ত স্মিথ, জন রবিন্সন, জন ফার্গুসন, আর্থার আডি, জন কলিস, সামুয়েল টাউচেট, এডওয়ার্ড সাটারথোয়েট এবং চার্লস ওয়েইন এই দ্বাদশ জন জুরী স্থির হন।

তাঁহাদের মধ্যে জন রবিন্সনকে জুরীপতি নির্ব্বাচিত করা হয়। সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইম্পে সাহের চেম্বার্স, হাইড ও লেমষ্টেয়ার জজত্রয়ের সহিত জুরীদিগকে লইয়া বিচারে প্রবৃত্ত হইলেন। পূর্ব্বোল্লিখিত ইলিয়ট সাহেব দ্বিভাষীর কার্য্যে নিযুক্ত হন। নন্দকুমারের পক্ষে জারেট আটর্ণী ও ফ্যারার কৌন্সিলি নিযুক্ত হইয়া যথারীতি মোকদ্দমা চালাইতে লাগিলেন। পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে এ অভিযোগে স্বয়ং সরকার বা ইংলণ্ডাধিপ ফরিয়াদী। বিচার প্রথানু- যায়ী অন্যান্য কার্য্যের পর ফরিয়াদী পক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দী গৃহীত হইল।