০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ছায়া কি রাতের আকাশেও পড়েছিল? পুরোনো আকাশচিত্রে মিলল বিস্ময়কর ইঙ্গিত বান্দরবানের পরাবন বনে অবৈধ লগিং: পাহাড় কেটে চলছে কাঠের গোপন বাণিজ্য নিউইয়র্কের স্মৃতি আর বয়সের গল্পে ফিরে দেখা: ৭১ বছরে জে ম্যাকইনার্নির নতুন উপন্যাসে শহরের বদলে যাওয়া জীবন ইরানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাল বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ উদ্যোগ সংসদে জামায়াত সংসদ সদস্যের অভিযোগ: ওয়াসার পানিতে পোকা, দুর্গন্ধ — পান অযোগ্য রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং, জুলাই-আগস্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য জ্যান মরিস: এক জীবন, এক রূপান্তর—লেখক থেকে ইতিহাসের সাক্ষী নারীর কণ্ঠে সংগ্রাম ও স্বপ্ন: ‘সাউন্ড অব উইমেন’-এ লোকসঙ্গীত ও র‍্যাপের অনন্য মেলবন্ধন মোহাখালিতে বাস দুর্ঘটনা: হিজড়াকে এড়াতে গিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা, নিহত ২ সড়ককর্মী ফেনীতে চার বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ৩৬ শতাংশের বেশি, উদ্বেগে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-১৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 69

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

চাঁদ-এর দেবী

ইনকাদের লৌকিক ধর্মীয় বিশ্বাসে চন্দ্র দেবীর স্থান চতুর্থ। আবার চিমু লোকপুরানে (চিমুকে ইনকারা পঞ্চদশ শতকে পরাজিত করে) চাঁদকে বেশি সম্মান দেওয়া হত। কেননা এই চন্দ্র দিনের বেলাতেও দেখা যেত। এই চন্দ্রদেবীকে ‘Si’ (সি) নামেও ডাকা হত। এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহে বলা যায় না এই সি (Si) ভারতীয় শাস্ত্রের সিতা (Sita) বা সিতাংশু বা চাঁদ এর নাম। তবে ভারতীয় পুরাণে চন্দ্র বা চাঁদ-এর মাহাত্মা প্রকাশিত হয়েছে কিছু নামের মধ্যে। যেমন করম চাঁদ, ধরম চাঁদ (Karam Chand, Dharam Chand) ভারতীয় মহাকাব্যের নায়ক হলেন রামচন্দ্র, হরিশচন্দ্র (Ram Chandra, Haris Chandra)।

সূর্য উৎসব (Sun Festival): ইনকাসমাজে সূর্যকে দেবতা মেনে লোক উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসব বছরে একবার করা হয়। এই উৎসবের মূল অনুষ্ঠানে থাকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওয়াকা (Waca) জড়ো করে আনা। ওয়াকা তৈরি করা হয় সাধারণভাবে পাথর দিয়ে। সোনায় মোড়া এই পাথর বা ওয়াকা। ইনকাদের বিশ্বাস অনুযায়ী খুব পবিত্র।

লোকবিশ্বাস হল এই ‘ওয়াকা’ (Waca) ইনতি হুসাই (Inti Husai) সূর্য ও চাঁদের মূর্তির পাশে রেখে দেন। এই সঙ্গে থাকে অলংকারে সাজানো ইনকাদের মমি। এই উৎসব প্রায় একমাস চলে এবং উৎসব চলাকালীন ওয়াকার উদ্দেশে নানারকম দ্রব্য উৎসর্গ দেওয়া হয়। বলিদানও করা হয়। উৎসব শেষ হবার পর জড়ো করা সব ‘ওয়াকা’কে আবার তাদের যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং যেসব জিনিস উৎসর্গ করা হয়েছিল তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু সংগৃহীত সোনার অলংকারগুলিকে আলাদা করে রাখা হয়। উৎসবএর পরে অন্য সময় বর্ষা আসার মরশুমে বা মহামারী ঘটলে সমবেতভাবে উপবাস করা হয়।

(চলবে)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-১৭)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-১৭)

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ছায়া কি রাতের আকাশেও পড়েছিল? পুরোনো আকাশচিত্রে মিলল বিস্ময়কর ইঙ্গিত

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-১৮)

০৬:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

চাঁদ-এর দেবী

ইনকাদের লৌকিক ধর্মীয় বিশ্বাসে চন্দ্র দেবীর স্থান চতুর্থ। আবার চিমু লোকপুরানে (চিমুকে ইনকারা পঞ্চদশ শতকে পরাজিত করে) চাঁদকে বেশি সম্মান দেওয়া হত। কেননা এই চন্দ্র দিনের বেলাতেও দেখা যেত। এই চন্দ্রদেবীকে ‘Si’ (সি) নামেও ডাকা হত। এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহে বলা যায় না এই সি (Si) ভারতীয় শাস্ত্রের সিতা (Sita) বা সিতাংশু বা চাঁদ এর নাম। তবে ভারতীয় পুরাণে চন্দ্র বা চাঁদ-এর মাহাত্মা প্রকাশিত হয়েছে কিছু নামের মধ্যে। যেমন করম চাঁদ, ধরম চাঁদ (Karam Chand, Dharam Chand) ভারতীয় মহাকাব্যের নায়ক হলেন রামচন্দ্র, হরিশচন্দ্র (Ram Chandra, Haris Chandra)।

সূর্য উৎসব (Sun Festival): ইনকাসমাজে সূর্যকে দেবতা মেনে লোক উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসব বছরে একবার করা হয়। এই উৎসবের মূল অনুষ্ঠানে থাকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওয়াকা (Waca) জড়ো করে আনা। ওয়াকা তৈরি করা হয় সাধারণভাবে পাথর দিয়ে। সোনায় মোড়া এই পাথর বা ওয়াকা। ইনকাদের বিশ্বাস অনুযায়ী খুব পবিত্র।

লোকবিশ্বাস হল এই ‘ওয়াকা’ (Waca) ইনতি হুসাই (Inti Husai) সূর্য ও চাঁদের মূর্তির পাশে রেখে দেন। এই সঙ্গে থাকে অলংকারে সাজানো ইনকাদের মমি। এই উৎসব প্রায় একমাস চলে এবং উৎসব চলাকালীন ওয়াকার উদ্দেশে নানারকম দ্রব্য উৎসর্গ দেওয়া হয়। বলিদানও করা হয়। উৎসব শেষ হবার পর জড়ো করা সব ‘ওয়াকা’কে আবার তাদের যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং যেসব জিনিস উৎসর্গ করা হয়েছিল তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু সংগৃহীত সোনার অলংকারগুলিকে আলাদা করে রাখা হয়। উৎসবএর পরে অন্য সময় বর্ষা আসার মরশুমে বা মহামারী ঘটলে সমবেতভাবে উপবাস করা হয়।

(চলবে)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-১৭)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-১৭)