০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
দুর্নীতি শুধু ঘুষ নয়: নীরবতা, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত বাস্তবতা ইরানের শর্তে ৬০ দিনের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সম্পন্নের ঘোষণা নতুন ইতিহাসের সাক্ষী কুরাসাও: ৭-১ গোলে হারলেও বিশ্বকাপ অভিষেকে গর্বে ভাসছে ছোট্ট দ্বীপদেশ আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে জয়, বিশ্বকাপ শুরুতেই দারুণ সূচনা আইভরি কোস্টের ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক বিশ্ব: বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা ও টেকসই লড়াইয়ের আহ্বান সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধের দাবিতে ঢাকায় ১১ দলের সমাবেশ আজ ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা জিসানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল শাকের পাতায় লুকিয়ে থাকা প্রোটিন, খাদ্য জগতে নতুন সম্ভাবনার নাম রুবিসকো

ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের সব পরিচালককে অপসারণ করে ব্যাংকের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দায়িত্ব একজন প্রশাসকের হাতে ন্যস্ত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, জনসাধারণের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।

পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল

রোববার সন্ধ্যায় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নিয়োগ বাতিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে ব্যাংকটির বিদ্যমান পরিচালনা কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জনস্বার্থে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

প্রশাসকের হাতে পূর্ণ কর্তৃত্ব

পর্ষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর ব্যাংকের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী তিনি বিলুপ্ত পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ কর্তৃত্ব এখন তার হাতে থাকবে।

কেন এ সিদ্ধান্ত

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক নানা কারণে আলোচনায় ছিল। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিবর্তন, তারল্য সংকট এবং বিভিন্ন বিতর্কের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি নজরদারির মধ্যে ছিল। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার, উদ্বিগ্ন আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ ব্যাংক খাতের সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

#ইসলামীব্যাংক #বাংলাদেশব্যাংক #ব্যাংকখাত #আমানতকারীরস্বার্থ #তারল্যসংকট #ব্যাংকিংখাত #বাংলাদেশঅর্থনীতি #আর্থিকখবর #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি শুধু ঘুষ নয়: নীরবতা, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত বাস্তবতা

ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা

০৬:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের সব পরিচালককে অপসারণ করে ব্যাংকের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দায়িত্ব একজন প্রশাসকের হাতে ন্যস্ত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, জনসাধারণের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।

পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল

রোববার সন্ধ্যায় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নিয়োগ বাতিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে ব্যাংকটির বিদ্যমান পরিচালনা কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জনস্বার্থে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

প্রশাসকের হাতে পূর্ণ কর্তৃত্ব

পর্ষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর ব্যাংকের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী তিনি বিলুপ্ত পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ কর্তৃত্ব এখন তার হাতে থাকবে।

কেন এ সিদ্ধান্ত

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক নানা কারণে আলোচনায় ছিল। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিবর্তন, তারল্য সংকট এবং বিভিন্ন বিতর্কের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি নজরদারির মধ্যে ছিল। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার, উদ্বিগ্ন আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ ব্যাংক খাতের সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

#ইসলামীব্যাংক #বাংলাদেশব্যাংক #ব্যাংকখাত #আমানতকারীরস্বার্থ #তারল্যসংকট #ব্যাংকিংখাত #বাংলাদেশঅর্থনীতি #আর্থিকখবর #সারাক্ষণরিপোর্ট