১১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ট্রাম্পের নাম সরাতে আদালতের নির্দেশ বহাল, কেনেডি সেন্টার নিয়ে নতুন ধাক্কা ক্যানিয়ে ওয়েস্টের কনসার্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক, ট্যাম্পায় নিষেধাজ্ঞার দাবিতে সরব বিভিন্ন সংগঠন সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা সীমা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অভিবাসন বিতর্কে ভোটারদের না ইসলামী ব্যাংককে ২,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্লোরিডায় কুকুরের হামলায় নারীর মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বৈরুত হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অনিশ্চয়তা, কঠোর অবস্থানে ইরান স্বপ্নের বাজেট, বাস্তবায়নের পরীক্ষা শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর ‘অসুস্থতার’ দাবি বৈরুত হামলা নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্পের, ইরান আলোচনার মাঝেই সংযমের আহ্বান অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারালেও ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, কনলির শতকে শেষ ম্যাচে নাটকীয় হার

ন্যাটোর মঞ্চে নীরবতার কূটনীতি: ইউক্রেন যুদ্ধের আড়ালে ট্রাম্প-সমীকরণ

U.S. President Donald Trump and Ukraine's President Volodymyr Zelenskiy shake hands as they attend a meeting on the sidelines of NATO summit in The Hague, Netherlands June 25, 2025. Ukrainian Presidential Press Service/Handout via REUTERS ATTENTION EDITORS - THIS IMAGE HAS BEEN SUPPLIED BY A THIRD PARTY. TPX IMAGES OF THE DAY

ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলে আজকের বাস্তবতায় ইউক্রেন যুদ্ধকে পাশ কাটানো প্রায় অসম্ভব। তবু সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনে এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি যেন সচেতনভাবেই পেছনের সারিতে সরিয়ে রাখা হয়। কারণটি সামরিক নয়, কৌশলগতও নয়; বরং তা জড়িয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এখনো অব্যাহত। প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ইউরোপের বহু নেতা প্রকাশ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। কিন্তু একই সময়ে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ন্যাটোর আলোচনায় সেই ভাষা অনেকটাই সংযত হয়ে যায়। যেন বাস্তব যুদ্ধের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একটি রাজনৈতিক সম্পর্ককে অক্ষুণ্ণ রাখা।

কূটনীতির নতুন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আপস নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন একটি সামরিক জোট তার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এটি কি কৌশল, নাকি আত্মসমর্পণের সূক্ষ্ম রূপ?

ন্যাটোর সাম্প্রতিক সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্যকে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় এবং সমাপনী ঘোষণায় এই বিষয়টিই প্রধান স্থান পেয়েছে। বিপরীতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার আগ্রাসন তুলনামূলকভাবে অনেক কম গুরুত্ব পেয়েছে।

এই অবস্থার পেছনে একটি বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা মনে করেন, ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখা ন্যাটোর ঐক্য রক্ষার জন্য জরুরি। ফলে সমালোচনার ভাষা নরম করা, প্রশংসার মাত্রা বাড়ানো এবং অস্বস্তিকর বিষয়গুলোকে আড়াল করা—এসবই হয়ে উঠেছে নতুন কূটনৈতিক কৌশল।

How Donald Trump Got NATO to Pay Up | The New Yorker

প্রশংসার রাজনীতি

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক মিত্রদের আচরণে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁরা বুঝে গেছেন, নীতিগত বিতর্কের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ও প্রশংসা ট্রাম্পের কাছে বেশি কার্যকর। ফলে ন্যাটো নেতাদের অনেক বক্তব্যে এমন এক সুর শোনা গেছে, যেখানে ট্রাম্পকে জোটের সাফল্যের প্রধান স্থপতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু এই বর্ণনার মধ্যে একটি বড় বিদ্রূপ লুকিয়ে আছে। যদি সত্যিই ন্যাটো দেশগুলো আজ প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হয়ে থাকে, তাহলে তার মূল কারণ ট্রাম্প নন; বরং ইউক্রেনে পুতিনের সামরিক অভিযান। ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং তারও আগে ক্রিমিয়া দখল ইউরোপকে নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। অর্থাৎ যে সংকট ন্যাটোকে শক্তিশালী করেছে, তার উৎস মস্কো, ওয়াশিংটন নয়।

বিশ্বাসের সংকট

তবে আরও বড় প্রশ্ন হলো, এই কৌশল আদৌ কতটা কার্যকর। ট্রাম্প ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন বটে, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাস অনেক মিত্র রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করে। কারণ তাঁর বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে প্রায়ই ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা একটি মৌলিক সম্পদ। সামরিক জোটের ভিত্তি কেবল অস্ত্র বা অর্থ নয়, বরং প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি মিত্ররা নিশ্চিত না হয় যে সংকটের মুহূর্তে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তব সহায়তায় পরিণত হবে, তাহলে জোটের শক্তি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

ইউরোপের দ্বিধা

ইউরোপীয় দেশগুলো আজ এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে তারা রাশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে তাদের নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বকে বিরক্ত না করে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করার এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় ন্যাটো সম্মেলন অনেকটা রাজনৈতিক নাট্যমঞ্চের রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রকাশ্য বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং কৌশলগত সংকেত—সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, যখন একটি যুদ্ধ চলমান এবং তার প্রভাব পুরো ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে, তখন সেই যুদ্ধকে আড়ালে রেখে কি সত্যিই স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব?

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

ন্যাটোর সামনে আগামী বছরগুলো সহজ হবে না। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি এখনো অনির্ধারিত। রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও শেষ হয়ে যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন আমেরিকার অবস্থান নিয়েও ইউরোপের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর প্রকৃত চ্যালেঞ্জ কেবল প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নয়। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তব হুমকিকে বাস্তব নামেই চিহ্নিত করার সাহস রাখা এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চাপে মৌলিক নীতিগুলোকে বিসর্জন না দেওয়া।

কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, অস্বস্তিকর সত্যকে সাময়িকভাবে নীরব করা যায়, কিন্তু তাকে অদৃশ্য করা যায় না। ইউক্রেন যুদ্ধও তেমনই একটি বাস্তবতা, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে বারবার ফিরে আসবে—যতই কেউ তা আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইুক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নাম সরাতে আদালতের নির্দেশ বহাল, কেনেডি সেন্টার নিয়ে নতুন ধাক্কা

ন্যাটোর মঞ্চে নীরবতার কূটনীতি: ইউক্রেন যুদ্ধের আড়ালে ট্রাম্প-সমীকরণ

১০:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলে আজকের বাস্তবতায় ইউক্রেন যুদ্ধকে পাশ কাটানো প্রায় অসম্ভব। তবু সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনে এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি যেন সচেতনভাবেই পেছনের সারিতে সরিয়ে রাখা হয়। কারণটি সামরিক নয়, কৌশলগতও নয়; বরং তা জড়িয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এখনো অব্যাহত। প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ইউরোপের বহু নেতা প্রকাশ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। কিন্তু একই সময়ে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ন্যাটোর আলোচনায় সেই ভাষা অনেকটাই সংযত হয়ে যায়। যেন বাস্তব যুদ্ধের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একটি রাজনৈতিক সম্পর্ককে অক্ষুণ্ণ রাখা।

কূটনীতির নতুন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আপস নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন একটি সামরিক জোট তার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এটি কি কৌশল, নাকি আত্মসমর্পণের সূক্ষ্ম রূপ?

ন্যাটোর সাম্প্রতিক সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্যকে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় এবং সমাপনী ঘোষণায় এই বিষয়টিই প্রধান স্থান পেয়েছে। বিপরীতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার আগ্রাসন তুলনামূলকভাবে অনেক কম গুরুত্ব পেয়েছে।

এই অবস্থার পেছনে একটি বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা মনে করেন, ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখা ন্যাটোর ঐক্য রক্ষার জন্য জরুরি। ফলে সমালোচনার ভাষা নরম করা, প্রশংসার মাত্রা বাড়ানো এবং অস্বস্তিকর বিষয়গুলোকে আড়াল করা—এসবই হয়ে উঠেছে নতুন কূটনৈতিক কৌশল।

How Donald Trump Got NATO to Pay Up | The New Yorker

প্রশংসার রাজনীতি

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক মিত্রদের আচরণে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁরা বুঝে গেছেন, নীতিগত বিতর্কের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ও প্রশংসা ট্রাম্পের কাছে বেশি কার্যকর। ফলে ন্যাটো নেতাদের অনেক বক্তব্যে এমন এক সুর শোনা গেছে, যেখানে ট্রাম্পকে জোটের সাফল্যের প্রধান স্থপতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু এই বর্ণনার মধ্যে একটি বড় বিদ্রূপ লুকিয়ে আছে। যদি সত্যিই ন্যাটো দেশগুলো আজ প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হয়ে থাকে, তাহলে তার মূল কারণ ট্রাম্প নন; বরং ইউক্রেনে পুতিনের সামরিক অভিযান। ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং তারও আগে ক্রিমিয়া দখল ইউরোপকে নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। অর্থাৎ যে সংকট ন্যাটোকে শক্তিশালী করেছে, তার উৎস মস্কো, ওয়াশিংটন নয়।

বিশ্বাসের সংকট

তবে আরও বড় প্রশ্ন হলো, এই কৌশল আদৌ কতটা কার্যকর। ট্রাম্প ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন বটে, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাস অনেক মিত্র রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করে। কারণ তাঁর বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে প্রায়ই ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা একটি মৌলিক সম্পদ। সামরিক জোটের ভিত্তি কেবল অস্ত্র বা অর্থ নয়, বরং প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি মিত্ররা নিশ্চিত না হয় যে সংকটের মুহূর্তে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তব সহায়তায় পরিণত হবে, তাহলে জোটের শক্তি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

ইউরোপের দ্বিধা

ইউরোপীয় দেশগুলো আজ এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে তারা রাশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে তাদের নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বকে বিরক্ত না করে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করার এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় ন্যাটো সম্মেলন অনেকটা রাজনৈতিক নাট্যমঞ্চের রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রকাশ্য বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং কৌশলগত সংকেত—সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, যখন একটি যুদ্ধ চলমান এবং তার প্রভাব পুরো ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে, তখন সেই যুদ্ধকে আড়ালে রেখে কি সত্যিই স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব?

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

ন্যাটোর সামনে আগামী বছরগুলো সহজ হবে না। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি এখনো অনির্ধারিত। রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও শেষ হয়ে যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন আমেরিকার অবস্থান নিয়েও ইউরোপের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর প্রকৃত চ্যালেঞ্জ কেবল প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নয়। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তব হুমকিকে বাস্তব নামেই চিহ্নিত করার সাহস রাখা এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চাপে মৌলিক নীতিগুলোকে বিসর্জন না দেওয়া।

কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, অস্বস্তিকর সত্যকে সাময়িকভাবে নীরব করা যায়, কিন্তু তাকে অদৃশ্য করা যায় না। ইউক্রেন যুদ্ধও তেমনই একটি বাস্তবতা, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে বারবার ফিরে আসবে—যতই কেউ তা আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইুক।