০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
আগুনের আগুনঝড়: দাবানলই যখন তৈরি করছে আরও ভয়ংকর আবহাওয়া বিজ্ঞান কি সত্যিই ধীর হয়ে যাচ্ছে, নাকি ভুল তথ্যই তৈরি করছে এই ধারণা? মস্তিষ্কের জন্য নতুন ওষুধের দিগন্ত, জিএলপি-১-এর পর এবার ওরেক্সিনের পালা জাপানের বিশাল ইয়েন বাণিজ্য: বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারবারি এবার অবস্থান গুটোচ্ছে ট্রাম্পের চাপ, মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল কর্মসংস্থান—ফেডের নতুন প্রধানের সামনে পুরোনো সংকট সূচক তহবিল কি সত্যিই নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগ? সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে নতুন জাগরণ, বড় বাজার গড়ার স্বপ্ন চীনের ঋণবোমা সামলাতে গিয়ে নিজেরাই ডুবছে ঋণ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান চীনের হাতে এখন তেলের বাজারের রাশ, ওপেককে ছাপিয়ে নতুন শক্তি বেইজিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুনো পশ্চিম: অবিশ্বস্ত যন্ত্রমানবেই কি থমকে যাচ্ছে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০১)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫
  • 99

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

ইতিমধ্যে মাস ছয়েক কেটে গেছে।

এপ্রিল মাসের এক রৌদ্রকরোজ্জল দিনে একটা রেলস্টেশন থেকে মা-র নামে একখানা চিঠি ছাড়লুম।

‘মা-মণি,

বিদায়, বিদায়! বীর কমরেড সিভের্সে’র দলে আমরা যোগ দিতে চলেছি এখন।

কমরেড সিভের্স কর্নি’লভ আর কালেদিনের শ্বেতরক্ষী-বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আমরা তিন জন যাচ্ছি। সরমোভোর যোদ্ধ-স্কোয়াডের কাছ থেকে পরিচয়-পত্র পেয়েছি আমরা। আমি আর বেলুকা আমরা দু-জন ওই স্কোয়াডেরই লোক।

আমাকে ওরা প্রথমে পরিচয়-পত্র দিতে চায় নি। বলছিল, আমার বয়েস নাকি খুবই কম। যাই হোক, দাঁড়কাককে রাজী করাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে আমায়। শেষপর্যন্ত উনিই অবিশ্যি আমার যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেন। উনি নিজেই লড়াইয়ে যেতেন, কিন্তু শরীরটা দুর্বল আর খুব কাশছেন বলে যেতে পারলেন না। আনন্দে আমার মাথার ঠিক নেই, মা। এর আগে যা কিছু ঘটেছে সে সবই ছিল ছেলেখেলার সামিল। জীবনে আসল ব্যাপার এই প্রথম শুরু হচ্ছে। তাই মনে হচ্ছে, আজ দুনিয়ায় আমার মতো আর কেউ সুখী নয়।’

যাত্রা শুরু করার পর তৃতীয় দিনে একটা ছোট্ট স্টেশনে ঘণ্টা ছয়েক আটকে থাকার সময় আমরা জানতে পারলুম আমাদের চারপাশের গ্রামাঞ্চলে অশান্তির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ছোট ছোট ডাকাতের দল মাথা চাড়া দিয়েছে, আর কোনো-কোনো জায়গায় কুলাক বা ধনী চাষীদের সঙ্গে খাদ্য-সংগ্রাহক দলের লড়াই হয়ে গেছে। সেদিন অনেক রাতে আমাদের ট্রেনে একটা এঞ্জিন এসে লাগল। একটা মালগাড়ির ওপরের বাকে আমি আর আমার কমরেডরা পাশাপাশি শুয়ে ছিলুম। চাকার নিয়মিত ঝনঝনানি, গাড়ির দুলুনি আর ক্যাঁচকোঁচ আওয়াজ শুনতে-শুনতে ভারি পশমী ওভারকোটটা মাথা পর্যন্ত টেনে দিয়ে আমি ঘুমের উদ্যোগ করতে লাগলুম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আগুনের আগুনঝড়: দাবানলই যখন তৈরি করছে আরও ভয়ংকর আবহাওয়া

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০১)

০৮:০০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

ইতিমধ্যে মাস ছয়েক কেটে গেছে।

এপ্রিল মাসের এক রৌদ্রকরোজ্জল দিনে একটা রেলস্টেশন থেকে মা-র নামে একখানা চিঠি ছাড়লুম।

‘মা-মণি,

বিদায়, বিদায়! বীর কমরেড সিভের্সে’র দলে আমরা যোগ দিতে চলেছি এখন।

কমরেড সিভের্স কর্নি’লভ আর কালেদিনের শ্বেতরক্ষী-বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আমরা তিন জন যাচ্ছি। সরমোভোর যোদ্ধ-স্কোয়াডের কাছ থেকে পরিচয়-পত্র পেয়েছি আমরা। আমি আর বেলুকা আমরা দু-জন ওই স্কোয়াডেরই লোক।

আমাকে ওরা প্রথমে পরিচয়-পত্র দিতে চায় নি। বলছিল, আমার বয়েস নাকি খুবই কম। যাই হোক, দাঁড়কাককে রাজী করাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে আমায়। শেষপর্যন্ত উনিই অবিশ্যি আমার যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেন। উনি নিজেই লড়াইয়ে যেতেন, কিন্তু শরীরটা দুর্বল আর খুব কাশছেন বলে যেতে পারলেন না। আনন্দে আমার মাথার ঠিক নেই, মা। এর আগে যা কিছু ঘটেছে সে সবই ছিল ছেলেখেলার সামিল। জীবনে আসল ব্যাপার এই প্রথম শুরু হচ্ছে। তাই মনে হচ্ছে, আজ দুনিয়ায় আমার মতো আর কেউ সুখী নয়।’

যাত্রা শুরু করার পর তৃতীয় দিনে একটা ছোট্ট স্টেশনে ঘণ্টা ছয়েক আটকে থাকার সময় আমরা জানতে পারলুম আমাদের চারপাশের গ্রামাঞ্চলে অশান্তির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ছোট ছোট ডাকাতের দল মাথা চাড়া দিয়েছে, আর কোনো-কোনো জায়গায় কুলাক বা ধনী চাষীদের সঙ্গে খাদ্য-সংগ্রাহক দলের লড়াই হয়ে গেছে। সেদিন অনেক রাতে আমাদের ট্রেনে একটা এঞ্জিন এসে লাগল। একটা মালগাড়ির ওপরের বাকে আমি আর আমার কমরেডরা পাশাপাশি শুয়ে ছিলুম। চাকার নিয়মিত ঝনঝনানি, গাড়ির দুলুনি আর ক্যাঁচকোঁচ আওয়াজ শুনতে-শুনতে ভারি পশমী ওভারকোটটা মাথা পর্যন্ত টেনে দিয়ে আমি ঘুমের উদ্যোগ করতে লাগলুম।