১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
স্বরাষ্ট্রে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন: মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল বাঙালি জাতির শোক দিবস ও ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ তরুণদের ক্ষোভে বদলাচ্ছে মোদির বিজেপির রাজনীতি বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
  • 182

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

হঠাৎ তিমুক্কা শকিনের কথা মনে পড়ায় না-হেসে থাকতে পারলুম না। ও এই টিটু পাখির নাম দিয়েছিল ‘বোকা-ল্যাজঝোলা’। মনে হল, এই তো সেদিনের কথা – সেই টিপাখি, কবরখানা, আমাদের খেলাধুলো। আর এখন? ভুরু, কাঁচকে উঠল আমার। যা হোক কিছু একটা উপায় বের করতেই হবে!

কাছেই চাবুকের শব্দ আর গোরুর হাম্বা-ডাক শুনতে পেলুম। ভাবলুম, ‘গোরুর পাল যাচ্ছে। যাই, গিয়ে রাখালকে পথের কথা জিজ্ঞেস করি। রাখাল আমার আর কীই-বা ক্ষতি করতে পারে? কথাটা জিজ্ঞেস করেই না হয় তাড়াতাড়ি কেটে পড়ব।’

জঙ্গলের ধার ঘে’ষে অলসভাবে পুরনো ঘাস ছি’ড়তে-ছি’ড়তে ছোট্ট একপাল গোরু আস্তে-আস্তে এগোচ্ছিল। সঙ্গে মস্ত, ভারি একটা লাঠি হাতে এক বুড়ো রাখাল পথ চলছিল। যেন এমনিই বেড়িয়ে বেড়াচ্ছি এমন একটা ধীরস্থির শান্ত ভাব দেখিয়ে আন্তেধীরে বুড়োর দিকে এগোলুম।

‘সুপ্রভাত, ঠাকুন্দা!’

একটু যেন ইতস্তত করে বুড়ো বললে, ‘সুপ্রভাত!’ তারপর আমার ভালো করে দেখার জন্যে থামল।

‘আচ্ছা, রেলস্টেশনটা এখান থেকে কতদূর হবে?’

‘ইস্টিশন? তা কোন্ ইস্টিশন চাইচ বাপু?’

হঠাৎ হতবুদ্ধি হয়ে গেলুম। তাই তো, কোন স্টেশন চাই তাতো খেয়াল করি নি। কিন্তু বুড়ো নিজেই আমার হয়ে কথা যুগিয়ে দিল।

‘আলেক্সান্দ্রকা যেতি চাও বোধ করি?’

‘ঠিক-ঠিক। ওখানেই যাচ্ছিলুম তবে মধ্যে পথটা একটু গোলমাল হয়ে গেছে।’

‘বলি, আসা হচ্চে কোথেকে?’

আবার ঝামেলায় পড়ে গেলুম।

দূরে একটা গ্রাম দেখা যাচ্ছিল। সেই দিকে একটা অস্পষ্ট ইঙ্গিত করে যতদূর শান্তভাবে জবাব দেয়া সম্ভব ছিল, তাই দিলুম। ‘ওখান থেকে।’

‘হুম… ওখেন থেকে বলচ… মানে, দেমেনেভো থেকে?’

‘ঠিক-ঠিক, দেমেনেভোই।’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন: মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০৫)

০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

হঠাৎ তিমুক্কা শকিনের কথা মনে পড়ায় না-হেসে থাকতে পারলুম না। ও এই টিটু পাখির নাম দিয়েছিল ‘বোকা-ল্যাজঝোলা’। মনে হল, এই তো সেদিনের কথা – সেই টিপাখি, কবরখানা, আমাদের খেলাধুলো। আর এখন? ভুরু, কাঁচকে উঠল আমার। যা হোক কিছু একটা উপায় বের করতেই হবে!

কাছেই চাবুকের শব্দ আর গোরুর হাম্বা-ডাক শুনতে পেলুম। ভাবলুম, ‘গোরুর পাল যাচ্ছে। যাই, গিয়ে রাখালকে পথের কথা জিজ্ঞেস করি। রাখাল আমার আর কীই-বা ক্ষতি করতে পারে? কথাটা জিজ্ঞেস করেই না হয় তাড়াতাড়ি কেটে পড়ব।’

জঙ্গলের ধার ঘে’ষে অলসভাবে পুরনো ঘাস ছি’ড়তে-ছি’ড়তে ছোট্ট একপাল গোরু আস্তে-আস্তে এগোচ্ছিল। সঙ্গে মস্ত, ভারি একটা লাঠি হাতে এক বুড়ো রাখাল পথ চলছিল। যেন এমনিই বেড়িয়ে বেড়াচ্ছি এমন একটা ধীরস্থির শান্ত ভাব দেখিয়ে আন্তেধীরে বুড়োর দিকে এগোলুম।

‘সুপ্রভাত, ঠাকুন্দা!’

একটু যেন ইতস্তত করে বুড়ো বললে, ‘সুপ্রভাত!’ তারপর আমার ভালো করে দেখার জন্যে থামল।

‘আচ্ছা, রেলস্টেশনটা এখান থেকে কতদূর হবে?’

‘ইস্টিশন? তা কোন্ ইস্টিশন চাইচ বাপু?’

হঠাৎ হতবুদ্ধি হয়ে গেলুম। তাই তো, কোন স্টেশন চাই তাতো খেয়াল করি নি। কিন্তু বুড়ো নিজেই আমার হয়ে কথা যুগিয়ে দিল।

‘আলেক্সান্দ্রকা যেতি চাও বোধ করি?’

‘ঠিক-ঠিক। ওখানেই যাচ্ছিলুম তবে মধ্যে পথটা একটু গোলমাল হয়ে গেছে।’

‘বলি, আসা হচ্চে কোথেকে?’

আবার ঝামেলায় পড়ে গেলুম।

দূরে একটা গ্রাম দেখা যাচ্ছিল। সেই দিকে একটা অস্পষ্ট ইঙ্গিত করে যতদূর শান্তভাবে জবাব দেয়া সম্ভব ছিল, তাই দিলুম। ‘ওখান থেকে।’

‘হুম… ওখেন থেকে বলচ… মানে, দেমেনেভো থেকে?’

‘ঠিক-ঠিক, দেমেনেভোই।’