১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • 206

আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

টেবিলে আন্তে-আন্তে আঙুলের টোকা দিতে-দিতে কম্যান্ডার প্রস্তাবটা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। পরে বললেন:

‘ঠিক আচে। চুবুক, তুমি ছেলেটিরে লিয়ে এক লম্বর কোম্পানিতে যাও। গিয়ে সুখারেভরে কও পাল্কা মারা পড়ার পরে যে রাইফেলটা পড়ে আচে সেটা ওরে দিতে। কিছু গুলিও দিতে কোয়ো মাথাপিছু যা বরাদ্দ আচে তাই। আমাদের বিপ্লবী বাহিনীর নামের খাতায় ওর নামটাও তুলে,লিতে কোয়ো।’

চিঙ্ক-চিঙ্ক! ক্লিঙ্ক-ক্লিক! আবার সেই তরোয়াল, গোড়ালির নাল আর মাওজারের মিলিত আওয়াজ উঠল। ঠেলে ঘরের দরজাটা খুলে কম্যান্ডার ধীরেসুস্থে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন।

‘চলি এস না কেন,’ চুবুক বললেন। তারপর হঠাৎ আমার পিঠটা চাপড়ে দিলেন।

ফের বেজে উঠল বিউগুল, মিষ্টি নাচের ছন্দে। ঘোড়াগুলো আগের চেয়ে জোরে-জোরে নাকের মধ্যে দিয়ে আওয়াজ করে উঠল, গাড়িগুলোর ক্যাঁচকোঁচ শব্দও বেড়ে উঠল আগের চেয়ে। আর আমি-যে কী সুখী হলুম তা বলতে পারি না। হাসতে-হাসতে আমার নতুন কমরেডদের সঙ্গে দেখা করতে চললুম। সেদিন সারা রাত হাঁটলুম আমরা। সকালে রাস্তার ধারের একটা ছোট রেলস্টেশনে ট্রেনে চাপলুম।

সন্ধেবেলায় একটা রঙ-চটা এঞ্জিন আমাদের সৈন্যবাহী ট্রেনে জোতা হল, আর আমরা ট্রেনে করে চললুম দক্ষিণদেশে দোবাস-অঞ্চল দখল-করে-রাখা জার্মান, গাইদামাক আর ক্রাস্স্নভপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত শ্রমিকদের ছোট-বড় নানা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিতে।

আমাদের বাহিনীর বেশ একটা লম্বা-চওড়া নাম ছিল। নামটা হল, বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের বিশেষ সেনাবাহিনী। বাহিনীতে অবিশ্যি লোক ছিল না বেশি, মোটে দেড় শোর মতো হবে। আমরা ছিলুম পদাতিক বাহিনী, কেবল ফেদিয়া সিসভের নেতৃত্বে পনেরো জন অশ্বারোহীর একটি স্কাউট দল আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমাদের বাহিনীর কম্যান্ডার ছিলেন ওই পূর্বকথিত শেবালভ। পেশায় ইনি ছিলেন মুচি। সদ্য লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছিলেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৫)

০৮:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

টেবিলে আন্তে-আন্তে আঙুলের টোকা দিতে-দিতে কম্যান্ডার প্রস্তাবটা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। পরে বললেন:

‘ঠিক আচে। চুবুক, তুমি ছেলেটিরে লিয়ে এক লম্বর কোম্পানিতে যাও। গিয়ে সুখারেভরে কও পাল্কা মারা পড়ার পরে যে রাইফেলটা পড়ে আচে সেটা ওরে দিতে। কিছু গুলিও দিতে কোয়ো মাথাপিছু যা বরাদ্দ আচে তাই। আমাদের বিপ্লবী বাহিনীর নামের খাতায় ওর নামটাও তুলে,লিতে কোয়ো।’

চিঙ্ক-চিঙ্ক! ক্লিঙ্ক-ক্লিক! আবার সেই তরোয়াল, গোড়ালির নাল আর মাওজারের মিলিত আওয়াজ উঠল। ঠেলে ঘরের দরজাটা খুলে কম্যান্ডার ধীরেসুস্থে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন।

‘চলি এস না কেন,’ চুবুক বললেন। তারপর হঠাৎ আমার পিঠটা চাপড়ে দিলেন।

ফের বেজে উঠল বিউগুল, মিষ্টি নাচের ছন্দে। ঘোড়াগুলো আগের চেয়ে জোরে-জোরে নাকের মধ্যে দিয়ে আওয়াজ করে উঠল, গাড়িগুলোর ক্যাঁচকোঁচ শব্দও বেড়ে উঠল আগের চেয়ে। আর আমি-যে কী সুখী হলুম তা বলতে পারি না। হাসতে-হাসতে আমার নতুন কমরেডদের সঙ্গে দেখা করতে চললুম। সেদিন সারা রাত হাঁটলুম আমরা। সকালে রাস্তার ধারের একটা ছোট রেলস্টেশনে ট্রেনে চাপলুম।

সন্ধেবেলায় একটা রঙ-চটা এঞ্জিন আমাদের সৈন্যবাহী ট্রেনে জোতা হল, আর আমরা ট্রেনে করে চললুম দক্ষিণদেশে দোবাস-অঞ্চল দখল-করে-রাখা জার্মান, গাইদামাক আর ক্রাস্স্নভপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত শ্রমিকদের ছোট-বড় নানা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিতে।

আমাদের বাহিনীর বেশ একটা লম্বা-চওড়া নাম ছিল। নামটা হল, বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের বিশেষ সেনাবাহিনী। বাহিনীতে অবিশ্যি লোক ছিল না বেশি, মোটে দেড় শোর মতো হবে। আমরা ছিলুম পদাতিক বাহিনী, কেবল ফেদিয়া সিসভের নেতৃত্বে পনেরো জন অশ্বারোহীর একটি স্কাউট দল আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমাদের বাহিনীর কম্যান্ডার ছিলেন ওই পূর্বকথিত শেবালভ। পেশায় ইনি ছিলেন মুচি। সদ্য লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছিলেন।