১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপের প্রতিরোধ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি পরিকল্পনায় বাধা যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহে শেষ হতে পারে — ট্রাম্পের দাবি উইলি ওয়ালশকে ইন্ডিগোর নতুন সিইও: আন্তর্জাতিক প্রসারে নতুন দিগন্ত হোন্ডার নতুন প্রযুক্তি রাস্তাঘাটে রূপান্তর করবে মরুভূমির বালি ভারতীয় জ্বালানি সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী সহযোগিতা বাড়ছে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে নাজিবের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আদেশ: মালয়েশিয়ার আদালতের কঠোর রায় ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রিমোট ওয়ার্ক ও বায়োডিজেলের বিশাল পদক্ষেপ ফ্রান্সে ব্যাটারি শিল্পে নতুন দিগন্ত, তাইওয়ানের বিনিয়োগ আকর্ষণে মনোযোগ খাগড়াছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • 162

আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মনে হত, সুতোয় লাগানোর জন্যে ব্যবহার করার সময় ধারালো মোমের কানায় লেগে ক্ষতবিক্ষত হাতের ঘা ওঁর তখনও যেন শুকোয় নি, হাতের কালো কালির দাগও যেন ওঠে নি তখনও। আমাদের এই কম্যান্ডারটি ছিলেন অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ।

দলের ছেলেরা ওঁকে যেমন শ্রদ্ধা করত, তেমনই ওঁর কিছু, কিছু, দুর্বলতার জন্যে হাসাহাসিও করত।

এমনই একটা দুর্বলতা ছিল ওঁর সদাসর্বদা লোক-দেখানো আড়ম্বরের ভাবটা।

ওঁর ঘোড়া সাজানো থাকত লাল ফিতে দিয়ে আর ওঁর গোড়ালিতে-বাঁধা ঘোড়সওয়ারের নালটা (ওটা সম্ভবত উনি কোনো যাদুঘর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন!) ছিল অসম্ভব লম্বা আর বাঁকানো, এমন এক অস্বাভাবিক ব্যাপার যে একমাত্র ছবিতে মধ্যযুগীয় নাইটদের পায়ে ছাড়া আর কোথাও ও-জিনিস চাক্ষুষ করি নি।

এছাড়া, ওঁর নিকেলের গিল্টি-করা তরোয়ালখানা পৌঁছত মাটি পর্যন্ত, আর মাওজারের কাঠের খাপের গায়ে সাঁটা পেতলের চাকতিতে খোদাই-করা ছিল এই উপদেশবাক্যটি:

‘আমি মরব বটে, তবে, ওরে ঘৃণ্য, তোকেও বিনষ্ট করব!’ শোনা যেত, উনি স্ত্রী ও তিনটি সন্তানকে বাড়িতে রেখে এসেছেন। তার মধ্যে বড় ছেলেটি তখনই

চাকরিবাকরি করত। ফেব্রুয়ারি-বিপ্লবের পর উনি ফ্রন্ট থেকে পালিয়ে এসে জুতো-সেলাইয়ের কাজ শুরু করে দেন। কিন্তু কাদেতরা যখন ক্রেমলিন আক্রমণ করল, উনি তখন ছুটির দিনের সেরা পোশাকটি গায়ে চড়িয়ে কোনো এক খরিদ্দারের ফরমায়েসমাফিক নিজেরই সদ্য-তৈরি উচু কানাওয়ালা বুটজোড়ায় পা গলিয়ে আরবাতের শ্রমিকদের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে একটা রাইফেল সংগ্রহ করে নিলেন।

আর তখন থেকেই উনি, ওঁর নিজের ভাষায়, ‘বিপ্লবের সঙ্গে নিজের কপালটাও নিলেন জুড়ে’।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের প্রতিরোধ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি পরিকল্পনায় বাধা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৬)

০৮:০০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মনে হত, সুতোয় লাগানোর জন্যে ব্যবহার করার সময় ধারালো মোমের কানায় লেগে ক্ষতবিক্ষত হাতের ঘা ওঁর তখনও যেন শুকোয় নি, হাতের কালো কালির দাগও যেন ওঠে নি তখনও। আমাদের এই কম্যান্ডারটি ছিলেন অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ।

দলের ছেলেরা ওঁকে যেমন শ্রদ্ধা করত, তেমনই ওঁর কিছু, কিছু, দুর্বলতার জন্যে হাসাহাসিও করত।

এমনই একটা দুর্বলতা ছিল ওঁর সদাসর্বদা লোক-দেখানো আড়ম্বরের ভাবটা।

ওঁর ঘোড়া সাজানো থাকত লাল ফিতে দিয়ে আর ওঁর গোড়ালিতে-বাঁধা ঘোড়সওয়ারের নালটা (ওটা সম্ভবত উনি কোনো যাদুঘর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন!) ছিল অসম্ভব লম্বা আর বাঁকানো, এমন এক অস্বাভাবিক ব্যাপার যে একমাত্র ছবিতে মধ্যযুগীয় নাইটদের পায়ে ছাড়া আর কোথাও ও-জিনিস চাক্ষুষ করি নি।

এছাড়া, ওঁর নিকেলের গিল্টি-করা তরোয়ালখানা পৌঁছত মাটি পর্যন্ত, আর মাওজারের কাঠের খাপের গায়ে সাঁটা পেতলের চাকতিতে খোদাই-করা ছিল এই উপদেশবাক্যটি:

‘আমি মরব বটে, তবে, ওরে ঘৃণ্য, তোকেও বিনষ্ট করব!’ শোনা যেত, উনি স্ত্রী ও তিনটি সন্তানকে বাড়িতে রেখে এসেছেন। তার মধ্যে বড় ছেলেটি তখনই

চাকরিবাকরি করত। ফেব্রুয়ারি-বিপ্লবের পর উনি ফ্রন্ট থেকে পালিয়ে এসে জুতো-সেলাইয়ের কাজ শুরু করে দেন। কিন্তু কাদেতরা যখন ক্রেমলিন আক্রমণ করল, উনি তখন ছুটির দিনের সেরা পোশাকটি গায়ে চড়িয়ে কোনো এক খরিদ্দারের ফরমায়েসমাফিক নিজেরই সদ্য-তৈরি উচু কানাওয়ালা বুটজোড়ায় পা গলিয়ে আরবাতের শ্রমিকদের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে একটা রাইফেল সংগ্রহ করে নিলেন।

আর তখন থেকেই উনি, ওঁর নিজের ভাষায়, ‘বিপ্লবের সঙ্গে নিজের কপালটাও নিলেন জুড়ে’।