০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন-রাশিয়ার ঐতিহাসিক বন্দি বিনিময়ে সম্মতি, যুদ্ধ অবসানের পথে নতুন আশা বিদ্যুৎ ক্রয়ে বড় সাশ্রয়, তিন সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমালো অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের দিনে বাড়তি মেট্রোরেল চলবে, যাত্রী ভোগান্তি এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা ফেনীতে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা মির্জা আব্বাস, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মেঘনা আলম- ‘ভাইরাল’ ঢাকা ৮ আসনে কী চলছে? পল্লবীতে ঘরের ভেতর চার লাশ, ঋণের চাপে নাকি চরম সিদ্ধান্তে পরিবার চট্টগ্রাম বন্দরে উত্তেজনা, নৌপরিবহন উপদেষ্টার গাড়িবহর ঘেরাও; টানা ধর্মঘটে স্থবির কার্যক্রম নির্বাচন ঘিরে সুনামগঞ্জে কড়া নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত ৪৫১ কেন্দ্র; মোতায়েন ১৮ হাজার ৩০০ সদস্য আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশি তরুণ নেতা আহমেদ ফাহমি কমনওয়েলথ যুব পুরস্কার ২০২৬–এর আঞ্চলিক চূড়ান্ত তালিকায়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মামলার বাস্তবতা

  • Sarakhon Report
  • ১২:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • 198

সারাক্ষণ রিপোর্ট

রাজনৈতিক প্রভাব এবং মেটার প্রস্তুতি

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ ২.৩ কোটি ডলারের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন। এই বাসস্থানটি মেটার রাজনৈতিক লবিংয়ের প্রতীক। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১০ লাখ ডলার অনুদান, একটি মামলার নিষ্পত্তিতে ২.৫ কোটি ডলার পরিশোধ এবং ডানা হোয়াইট ও ডিনা পাওয়েলের মতো ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মেটা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট।

এই সব উদ্যোগের মূল কারণ ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়া একটি অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা, যা জাকারবার্গের ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য ভেঙে ফেলার হুমকি তৈরি করেছে।

মামলার অভিযোগ ও বাস্তবতা

২০২০ সালে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) অভিযোগ করে, ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণের মাধ্যমে অবৈধভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একচেটিয়া বাজার তৈরি করেছে। যদিও অধিগ্রহণের সময় FTC নিজেই অনুমোদন দিয়েছিল, এখন তারা সেই চুক্তিগুলো বাতিল করতে চায়।

FTC মেটার বাজারকে ‘ব্যক্তিগত সামাজিক নেটওয়ার্কিং’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা প্রতিযোগী হিসেবে এক্স, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট বা রেডিটকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাদের মতে, মেটার প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল স্ন্যাপচ্যাট ও মি-উই—যারা তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট।

প্রতিযোগিতা এখন আগের চেয়ে বেশি

FTC দাবি করে, বাজারে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে মেটা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এসেছে—ক্লাবহাউস ও বি-রিয়েল যেমন হঠাৎ আলোচনায় আসে, আবার ম্লান হয়ে যায়। ব্লুস্কাই বা ট্রুথ সোশ্যালের মতো অ্যাপগুলো এখনও সক্রিয়। আর টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ১৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী পেয়েছে, যা একচেটিয়ার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

এছাড়া ইউটিউবের ‘শর্টস’, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের রিলস—সবই টিকটকের আদলে তৈরি ভিডিও-ভিত্তিক কনটেন্টের অংশ। স্পটিফাই যেমন ভিডিওতে প্রবেশ করেছে, রোব্লক্সও তরুণদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা পালন করছে।

ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং FTC-এর যুক্তি

FTC অভিযোগ করছে, প্রতিযোগিতার অভাবে মেটার অ্যাপে বিজ্ঞাপন বেড়েছে এবং ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু ব্যবহারকারীদের ব্যবহারের ধরন বলে ভিন্ন কথা—বিশ্বজুড়ে মোবাইল ব্যবহারের প্রায় অর্ধেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাটছে।

পিতামাতারা তাদের সন্তানদের সোশ্যাল অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও কেউ বলছেন না যে অ্যাপের সংখ্যা কম। বরং বাস্তবতা হলো—মানুষ এসব অ্যাপ থেকে মুখ ফেরাতে পারছে না।

টিকটক এবং বিচারিক জটিলতা

এফটিসি যখন বলে মেটার প্রতিযোগী নেই, তখন টিকটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এটি নিষিদ্ধ হলেও এখন ৭৫ দিন বা ১৫০ দিনের সময় দিয়ে মার্কিন ক্রেতার কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে টিকটকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত—এ অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতা নিয়ে কোনও সঠিক রায় দেয়া কঠিন।

উপসংহার

যে মামলা দুর্বল ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল,সেটি এখন একেবারেই হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদালতের উচিত দ্রুত এই মামলাকে ‘সুইপ’ করে সরিয়ে দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন-রাশিয়ার ঐতিহাসিক বন্দি বিনিময়ে সম্মতি, যুদ্ধ অবসানের পথে নতুন আশা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মামলার বাস্তবতা

১২:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

রাজনৈতিক প্রভাব এবং মেটার প্রস্তুতি

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ ২.৩ কোটি ডলারের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন। এই বাসস্থানটি মেটার রাজনৈতিক লবিংয়ের প্রতীক। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১০ লাখ ডলার অনুদান, একটি মামলার নিষ্পত্তিতে ২.৫ কোটি ডলার পরিশোধ এবং ডানা হোয়াইট ও ডিনা পাওয়েলের মতো ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মেটা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট।

এই সব উদ্যোগের মূল কারণ ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়া একটি অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা, যা জাকারবার্গের ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য ভেঙে ফেলার হুমকি তৈরি করেছে।

মামলার অভিযোগ ও বাস্তবতা

২০২০ সালে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) অভিযোগ করে, ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণের মাধ্যমে অবৈধভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একচেটিয়া বাজার তৈরি করেছে। যদিও অধিগ্রহণের সময় FTC নিজেই অনুমোদন দিয়েছিল, এখন তারা সেই চুক্তিগুলো বাতিল করতে চায়।

FTC মেটার বাজারকে ‘ব্যক্তিগত সামাজিক নেটওয়ার্কিং’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা প্রতিযোগী হিসেবে এক্স, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট বা রেডিটকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাদের মতে, মেটার প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল স্ন্যাপচ্যাট ও মি-উই—যারা তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট।

প্রতিযোগিতা এখন আগের চেয়ে বেশি

FTC দাবি করে, বাজারে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে মেটা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এসেছে—ক্লাবহাউস ও বি-রিয়েল যেমন হঠাৎ আলোচনায় আসে, আবার ম্লান হয়ে যায়। ব্লুস্কাই বা ট্রুথ সোশ্যালের মতো অ্যাপগুলো এখনও সক্রিয়। আর টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ১৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী পেয়েছে, যা একচেটিয়ার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

এছাড়া ইউটিউবের ‘শর্টস’, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের রিলস—সবই টিকটকের আদলে তৈরি ভিডিও-ভিত্তিক কনটেন্টের অংশ। স্পটিফাই যেমন ভিডিওতে প্রবেশ করেছে, রোব্লক্সও তরুণদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা পালন করছে।

ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং FTC-এর যুক্তি

FTC অভিযোগ করছে, প্রতিযোগিতার অভাবে মেটার অ্যাপে বিজ্ঞাপন বেড়েছে এবং ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু ব্যবহারকারীদের ব্যবহারের ধরন বলে ভিন্ন কথা—বিশ্বজুড়ে মোবাইল ব্যবহারের প্রায় অর্ধেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাটছে।

পিতামাতারা তাদের সন্তানদের সোশ্যাল অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও কেউ বলছেন না যে অ্যাপের সংখ্যা কম। বরং বাস্তবতা হলো—মানুষ এসব অ্যাপ থেকে মুখ ফেরাতে পারছে না।

টিকটক এবং বিচারিক জটিলতা

এফটিসি যখন বলে মেটার প্রতিযোগী নেই, তখন টিকটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এটি নিষিদ্ধ হলেও এখন ৭৫ দিন বা ১৫০ দিনের সময় দিয়ে মার্কিন ক্রেতার কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে টিকটকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত—এ অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতা নিয়ে কোনও সঠিক রায় দেয়া কঠিন।

উপসংহার

যে মামলা দুর্বল ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল,সেটি এখন একেবারেই হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদালতের উচিত দ্রুত এই মামলাকে ‘সুইপ’ করে সরিয়ে দেওয়া।