১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা?

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮২)

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • 453

সত্যেন্দ্রকুমার বসু

‘তখন প্রধানমন্ত্রী ভাণ্ডী ও অন্যান্য রাজকর্মচারীরা হর্ষবর্ধনকে সর্বগুণে মণ্ডিত দেখে তাঁকেই রাজা হতে আমন্ত্রণ করলেন। হর্ষবর্ধন প্রথমে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, পরে সকলের অনুরোধে ‘কুমার শীলাদিত্য’ নাম নিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করলেন।

তার পর বহু সৈন্যদল সংগ্রহ করে তিরিশ বছরে পূবে ও পশ্চিমে সমস্ত দেশ জয় করেন। গত ছয় বছর তাঁর আর যুদ্ধ করতে হয় নি। তখন থেকে শান্তিতে রাজত্ব করছেন। ২৩ তিনি নিজে সংযমী। আহার নিদ্রা ত্যাগ করে পুণ্যের বৃক্ষ রোপন করতে আগ্রহান্বিত। তাঁর সমস্ত রাজ্যে জীবহত্যা নিষিদ্ধ।

গঙ্গাতীরে তিনি সহস্র সহস্র ১০০ ফুট উঁচু স্তূপ নির্মাণ করেছেন। সেসব জায়গায় পান্থ ও দরিদ্র অধিবাসীদের জন্যে চিকিৎসক, ঔষধ ও আহার্য রাখা আছে। ‘প্রতি পাঁচ বছরে তিনি এক মহামোক্ষপরিষদ আহ্বান করেন।

এ সময়ে কেবল সৈন্যদের খরচ হাতে রেখে রাজকোষের অন্য সমস্ত অর্থ দান করেন। প্রতি বৎসর তিনি সমস্ত দেশের শ্রমণদের আহ্বানকরে চতুর্থ ও সপ্তম দিনে তাদের চার রকম দান (আহার্য, পানীয়, ঔষধ ও বস্ত্র) বিতরণ করেন।

তার পর বেদী সজ্জিত করে ভিক্ষুদের শাস্ত্র বিচার করতে বলেন আর নিজেই তর্কের ফল বিচার করেন। তিনি সাধুদের পুরস্কৃত করেন, অসাধুদের শাস্তি দেন, নির্গুণকে অবনত করান, গুণীকে উন্নত করেন।

সাধু ও জ্ঞানী ভিক্ষুদের সিংহাসনে বসিয়ে নিজে উপদেশ গ্রহণ করেন। সাধু জ্ঞানী না হলেও ভক্তির পাত্র হন, কিন্তু পূজিত হন না।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮১)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮১)

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮২)

০৯:০০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

সত্যেন্দ্রকুমার বসু

‘তখন প্রধানমন্ত্রী ভাণ্ডী ও অন্যান্য রাজকর্মচারীরা হর্ষবর্ধনকে সর্বগুণে মণ্ডিত দেখে তাঁকেই রাজা হতে আমন্ত্রণ করলেন। হর্ষবর্ধন প্রথমে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, পরে সকলের অনুরোধে ‘কুমার শীলাদিত্য’ নাম নিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করলেন।

তার পর বহু সৈন্যদল সংগ্রহ করে তিরিশ বছরে পূবে ও পশ্চিমে সমস্ত দেশ জয় করেন। গত ছয় বছর তাঁর আর যুদ্ধ করতে হয় নি। তখন থেকে শান্তিতে রাজত্ব করছেন। ২৩ তিনি নিজে সংযমী। আহার নিদ্রা ত্যাগ করে পুণ্যের বৃক্ষ রোপন করতে আগ্রহান্বিত। তাঁর সমস্ত রাজ্যে জীবহত্যা নিষিদ্ধ।

গঙ্গাতীরে তিনি সহস্র সহস্র ১০০ ফুট উঁচু স্তূপ নির্মাণ করেছেন। সেসব জায়গায় পান্থ ও দরিদ্র অধিবাসীদের জন্যে চিকিৎসক, ঔষধ ও আহার্য রাখা আছে। ‘প্রতি পাঁচ বছরে তিনি এক মহামোক্ষপরিষদ আহ্বান করেন।

এ সময়ে কেবল সৈন্যদের খরচ হাতে রেখে রাজকোষের অন্য সমস্ত অর্থ দান করেন। প্রতি বৎসর তিনি সমস্ত দেশের শ্রমণদের আহ্বানকরে চতুর্থ ও সপ্তম দিনে তাদের চার রকম দান (আহার্য, পানীয়, ঔষধ ও বস্ত্র) বিতরণ করেন।

তার পর বেদী সজ্জিত করে ভিক্ষুদের শাস্ত্র বিচার করতে বলেন আর নিজেই তর্কের ফল বিচার করেন। তিনি সাধুদের পুরস্কৃত করেন, অসাধুদের শাস্তি দেন, নির্গুণকে অবনত করান, গুণীকে উন্নত করেন।

সাধু ও জ্ঞানী ভিক্ষুদের সিংহাসনে বসিয়ে নিজে উপদেশ গ্রহণ করেন। সাধু জ্ঞানী না হলেও ভক্তির পাত্র হন, কিন্তু পূজিত হন না।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮১)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮১)