০৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
যামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা এশিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে আমেরিকার সামরিক শক্তি—ট্রাম্পের নীতিতে বাড়ছে নতুন দ্বন্দ্ব পাঞ্জাবে কমেছে চেনাবের বন্যা, ২৯ জুলাই থেকে নতুন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন আল-আজম’: ১৬ সশস্ত্র সদস্য নিহত, সন্ত্রাস দমনে অভিযান আরও জোরদার পলকের দাবি: আমার বিরুদ্ধে ৯৮ মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম; কারাগারে সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আদালতে আবেদন এক লাখ টাকার ঋণ, এক বছরের বন্দিজীবন: পাথর কাটতে কাটতে মুক্তি পেলেন চার শ্রমিক ভোটের আগে আশীর্বাদ, ভোটের পর অনিশ্চয়তা: মহারাষ্ট্রের বিধবা কৃষাণীদের ভরসা কি হারাচ্ছে? ডিএনএর ভুলে আর নয়! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে জিন চিকিৎসায় খুলছে নতুন দিগন্ত বৈশ্বিক দক্ষিণেই আগ্রাসী প্রজাতির পরিবেশগত ক্ষতি বেশি, বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি

ছাগলে অতিষ্ঠ ইতালির দ্বীপ, ধরতে পারলেই মালিকানা তার

  • Sarakhon Report
  • ০৮:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪
  • 149

ইতালির প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট্ট একটি দ্বীপ। নাম আলিকুডি। 

সেখানে ২০ বছর আগে একজন কৃষক দ্বীপটিতে কয়েকটি ছাগল নিয়ে এসেছিলেন। দ্বীপে এনেই সেগুলোকে মুক্ত ছেড়ে দেন তিনি। সেই ছাগলগুলো লোকালয়েও ছিলো না। বছরের পর বছর আলিকুডির পাহাড়ে-পর্বতে চরে ঘাস খেয়ে বেড়িয়েছে এসব বেওয়ারিশ ছাগল। আর এ সময়ে এসব বুনো ছাগলের বংশবৃদ্ধি হয়েছে অবিশ্বাস্য হারে। এতদিন এসব ছাগল এ দ্বীপের পাহাড়-পর্বতেই থাকত।

কিন্তু করোনায় ঘটলো বিপত্তি।

২০২০ সালের মার্চ এপ্রিল মাসে করোনভাইরাস লকডাউনের মধ্যে, স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের উপরে পাহাড় থেকে এক ডজনেরও বেশি প্রাণী নেমে আসার পরে রাস্তায় ছাগলের পাল দেখতে পান।

কিন্তু সংখ্যায় বাড়ার পর এসব ছাগল আবাসিক এলাকায়, এমনকি বাড়িতে ঢুকে পড়ছে; নষ্ট করছে বাগান। ছাগলগুলো গুঁতিয়ে দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে—এমন খবরও পাওয়া গেছে।

ইতালির প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটির এ দ্বীপের বাসিন্দার সংখ্যা ১০০ জনের বিপরীতে দ্বীপটিতে বুনো ছাগল আছে ৬০০টি।

যা মানুষ ও প্রাণীর সংখ্যার ভারসাম্য একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। দ্বীপটিতে ছাগলের সংখ্যা এখন প্রত্যাশিত সংখ্যার চেয়ে ছয়গুণ বেশি।

আর এই বুনো ছাগলে বাড়বাড়ন্তে রীতিমতো অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

ছাগলের দল আবাসিক এলাকার দখল নিয়েছে। বাড়িঘরে ‘হামলা’ চালাচ্ছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা।

পাবলিক পার্ক হোক, ব্যক্তিগত বাগান হোক যেখানে যা পায়, তা-ই চিবোতে শুরু করে এই ছাগলের দল।

অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাও এসব বুনো ছাগল বাছাই করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণেই ‘ছাগল দত্তক’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ সমস্যার সমাধানে এবার স্থানীয় মেয়র রিকার্ডো গালো ঘোষণা দিয়েছেন, চাইলে যে-কেউ এসব ছাগল ‘দত্তক নিতে’ পারবেন। গালো সিএনএনকে বলেন, ছাগল পালনের জ্ঞান থাকা না-থাকা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই।

চাইলে যে-কেউই এসব ছাগল ধরে নিয়ে যেতে পারবে। শুধু ধরার পর ছাগলগুলোকে নৌকায় করে দ্বীপ থেকে বের করে নিয়ে যেতে হবে।

দ্বীপটি তার কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় ছাগলের বাসিন্দাদের ছয়গুণ দ্বারা ছাপিয়ে গেছে এবং অন্য যেকোন জায়গার তুলনায় মাথাপিছু বেশি প্রাণী রয়েছে যা এই জাতীয় জিনিসগুলিকে গণনা করে — এবং মেয়র রিকার্ডো গুলো এমন কাউকে আহ্বান জানাচ্ছেন যারা সমস্যাটি সমাধানের জন্য সাহায্য করতে পারেন।

বছরের পর বছর ধরে ছাগলগুলো কারও মালিকানাধীন নয়।

৫০টি ছাগল নিতে আগ্রহী যে কেউ ১০ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অনুরোধ ইমেল করতে হবে এবং এটিকে অফিসিয়াল করতে €16 (প্রায় $17) স্ট্যাম্প ফি দিতে হবে।

যদিও দেশীয় পশুর সংখ্যা অনেক কমে না যাওয়া পর্যন্ত উপহার দেওয়া চলবে, পর্যটকদের জন্য পোজ দেওয়ার জন্য কিছু বাকি থাকবে।

গালো জানান, এ ঘোষণা দেওয়ার পর কয়েক ডজন আগ্রহী ব্যক্তি ছাগল নিতে যোগাযোগ করেছেন। সেই দলে পার্শ্ববর্তী দ্বীপের ছাগলের পনির উৎপাদনকারী একজন খামারিও রয়েছেন।

তিনি জানান, এসব ছাগল নিয়ে খেয়ে ফেলা হবে নাকি অন্যকিছু করা হবে, সে ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাক গলাবে না।

ছাগল বরাদ্দ পাওয়ার পর একজন আবেদনকারী ছাগলগুলো ধরে দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন।

আলিকুডি হল সাতটি আইওলিয়ান দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে কম জনবসতি- সিসিলির উত্তর উপকূল যার মধ্যে রয়েছে স্ট্রোম্বলি এবং লিপারি।

ছাগল ছাড়াও, দ্বীপটি তার স্থানীয় LSD রুটির জন্যও পরিচিত, যা ১৯৫০-এর দশকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং এটি পালতোলা নৌকা এবং আগ্নেয়গিরির অনুরাগীদের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। যার কাছাকাছি স্ট্রোম্বলির ক্রমাগত অগ্ন্যুৎপাত দেখতে পান।

এবড়োখেবড়ো দ্বীপটিতে টাইরেনিয়ান সাগর থেকে উঠে আসা একটি বড় আগ্নেয়গিরির শঙ্কু রয়েছে। এখানে কোনো হোটেল নেই, রাস্তা নেই।

পরিবহণ আসে খচ্চর এবং গাধায় আরোহণ করে। – ভিজিট সিসিলি ওয়েবসাইট অনুসারে।

আলিকুডিই প্রথম স্থান নয় যেখানে বিচরণকারী ছাগলের অপ্রত্যাশিত আগমন দেখা যায়। জুন মাসে, ম্যাককিনি, টেক্সাসের একটি প্রতিবেশী একটি চমকপ্রদ দৃশ্যে জেগে ওঠে: ৪০টি পলাতক ছাগল আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে।

সিএনএন অবলম্বনে

জনপ্রিয় সংবাদ

যামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

ছাগলে অতিষ্ঠ ইতালির দ্বীপ, ধরতে পারলেই মালিকানা তার

০৮:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪

ইতালির প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট্ট একটি দ্বীপ। নাম আলিকুডি। 

সেখানে ২০ বছর আগে একজন কৃষক দ্বীপটিতে কয়েকটি ছাগল নিয়ে এসেছিলেন। দ্বীপে এনেই সেগুলোকে মুক্ত ছেড়ে দেন তিনি। সেই ছাগলগুলো লোকালয়েও ছিলো না। বছরের পর বছর আলিকুডির পাহাড়ে-পর্বতে চরে ঘাস খেয়ে বেড়িয়েছে এসব বেওয়ারিশ ছাগল। আর এ সময়ে এসব বুনো ছাগলের বংশবৃদ্ধি হয়েছে অবিশ্বাস্য হারে। এতদিন এসব ছাগল এ দ্বীপের পাহাড়-পর্বতেই থাকত।

কিন্তু করোনায় ঘটলো বিপত্তি।

২০২০ সালের মার্চ এপ্রিল মাসে করোনভাইরাস লকডাউনের মধ্যে, স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের উপরে পাহাড় থেকে এক ডজনেরও বেশি প্রাণী নেমে আসার পরে রাস্তায় ছাগলের পাল দেখতে পান।

কিন্তু সংখ্যায় বাড়ার পর এসব ছাগল আবাসিক এলাকায়, এমনকি বাড়িতে ঢুকে পড়ছে; নষ্ট করছে বাগান। ছাগলগুলো গুঁতিয়ে দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে—এমন খবরও পাওয়া গেছে।

ইতালির প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটির এ দ্বীপের বাসিন্দার সংখ্যা ১০০ জনের বিপরীতে দ্বীপটিতে বুনো ছাগল আছে ৬০০টি।

যা মানুষ ও প্রাণীর সংখ্যার ভারসাম্য একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। দ্বীপটিতে ছাগলের সংখ্যা এখন প্রত্যাশিত সংখ্যার চেয়ে ছয়গুণ বেশি।

আর এই বুনো ছাগলে বাড়বাড়ন্তে রীতিমতো অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

ছাগলের দল আবাসিক এলাকার দখল নিয়েছে। বাড়িঘরে ‘হামলা’ চালাচ্ছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা।

পাবলিক পার্ক হোক, ব্যক্তিগত বাগান হোক যেখানে যা পায়, তা-ই চিবোতে শুরু করে এই ছাগলের দল।

অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাও এসব বুনো ছাগল বাছাই করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণেই ‘ছাগল দত্তক’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ সমস্যার সমাধানে এবার স্থানীয় মেয়র রিকার্ডো গালো ঘোষণা দিয়েছেন, চাইলে যে-কেউ এসব ছাগল ‘দত্তক নিতে’ পারবেন। গালো সিএনএনকে বলেন, ছাগল পালনের জ্ঞান থাকা না-থাকা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই।

চাইলে যে-কেউই এসব ছাগল ধরে নিয়ে যেতে পারবে। শুধু ধরার পর ছাগলগুলোকে নৌকায় করে দ্বীপ থেকে বের করে নিয়ে যেতে হবে।

দ্বীপটি তার কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় ছাগলের বাসিন্দাদের ছয়গুণ দ্বারা ছাপিয়ে গেছে এবং অন্য যেকোন জায়গার তুলনায় মাথাপিছু বেশি প্রাণী রয়েছে যা এই জাতীয় জিনিসগুলিকে গণনা করে — এবং মেয়র রিকার্ডো গুলো এমন কাউকে আহ্বান জানাচ্ছেন যারা সমস্যাটি সমাধানের জন্য সাহায্য করতে পারেন।

বছরের পর বছর ধরে ছাগলগুলো কারও মালিকানাধীন নয়।

৫০টি ছাগল নিতে আগ্রহী যে কেউ ১০ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অনুরোধ ইমেল করতে হবে এবং এটিকে অফিসিয়াল করতে €16 (প্রায় $17) স্ট্যাম্প ফি দিতে হবে।

যদিও দেশীয় পশুর সংখ্যা অনেক কমে না যাওয়া পর্যন্ত উপহার দেওয়া চলবে, পর্যটকদের জন্য পোজ দেওয়ার জন্য কিছু বাকি থাকবে।

গালো জানান, এ ঘোষণা দেওয়ার পর কয়েক ডজন আগ্রহী ব্যক্তি ছাগল নিতে যোগাযোগ করেছেন। সেই দলে পার্শ্ববর্তী দ্বীপের ছাগলের পনির উৎপাদনকারী একজন খামারিও রয়েছেন।

তিনি জানান, এসব ছাগল নিয়ে খেয়ে ফেলা হবে নাকি অন্যকিছু করা হবে, সে ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাক গলাবে না।

ছাগল বরাদ্দ পাওয়ার পর একজন আবেদনকারী ছাগলগুলো ধরে দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন।

আলিকুডি হল সাতটি আইওলিয়ান দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে কম জনবসতি- সিসিলির উত্তর উপকূল যার মধ্যে রয়েছে স্ট্রোম্বলি এবং লিপারি।

ছাগল ছাড়াও, দ্বীপটি তার স্থানীয় LSD রুটির জন্যও পরিচিত, যা ১৯৫০-এর দশকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং এটি পালতোলা নৌকা এবং আগ্নেয়গিরির অনুরাগীদের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। যার কাছাকাছি স্ট্রোম্বলির ক্রমাগত অগ্ন্যুৎপাত দেখতে পান।

এবড়োখেবড়ো দ্বীপটিতে টাইরেনিয়ান সাগর থেকে উঠে আসা একটি বড় আগ্নেয়গিরির শঙ্কু রয়েছে। এখানে কোনো হোটেল নেই, রাস্তা নেই।

পরিবহণ আসে খচ্চর এবং গাধায় আরোহণ করে। – ভিজিট সিসিলি ওয়েবসাইট অনুসারে।

আলিকুডিই প্রথম স্থান নয় যেখানে বিচরণকারী ছাগলের অপ্রত্যাশিত আগমন দেখা যায়। জুন মাসে, ম্যাককিনি, টেক্সাসের একটি প্রতিবেশী একটি চমকপ্রদ দৃশ্যে জেগে ওঠে: ৪০টি পলাতক ছাগল আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে।

সিএনএন অবলম্বনে