০৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
ঢাকায় এআই ক্যামেরা: লাল বাতি পার করলেই ধরা পড়বেন এইচডিবির নিয়ন্ত্রণে ফিরছে চার ভেজা বাজার, বদলে যাবে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বৈঠক, আধুনিক ট্র্যাফিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরে নতুন স্পেস ল্যাব, মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ ব্যবসায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আফ্রিকান কোম্পানি কিনে নিল বাংলাদেশের বিক্রয়.কম মে মাসের ১৩ দিনেই রেমিট্যান্স ১৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল পরীক্ষার হল যখন তাপদাহের কারাগার চীনের ওপর নির্ভরতা কমছে, নাকি নতুন রূপে আরও গভীর হচ্ছে? ব্রিকসের শক্তি ঐক্যে নয়, বরং অস্বস্তিতে হোটেল সেবায় প্রযুক্তির বাড়তি ব্যবহার, কিন্তু হারাচ্ছে মানবিক স্পর্শ

শান্তা পাল: ভুয়া ভারতীয় পরিচয়ে কলকাতায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মডেল ও ফুড ভ্লগার

২৮ বছর বয়সী শান্তা পাল বাংলাদেশি মডেল ও ফুড ভ্লগার। কখনও এয়ারলাইনস ক্রু হিসেবে কাজ করেছেন—বেসরকারি রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ক্রু সদস্য ছিলেন। নিজের ফেসবুক পেজে নিয়মিত খাবার ও জীবনধারা–ভিত্তিক ভিডিও পোস্ট করে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

কলকাতায় আগমন ও বাসস্থান

বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েক মাস আগে তিনি কলকাতায় আসেন। প্রথমে পার্ক স্ট্রিটের একটি ভাড়া বাসায় থেকে পরে দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড় এলাকায় বাসা নেন। সেখান থেকেই স্থানীয় এক দালালের সহায়তায় তিনি ভুয়া আধার কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ড জোগাড় করেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনা

কলকাতা পুলিশের প্রতারণা দমন শাখা বিক্রমগড় থেকে শান্তা পালকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘ফৌজদারি ষড়যন্ত্র’ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আটক করার সময় তার কাছ থেকে দুটি ভুয়া আধার কার্ড, একটি ভোটার আইডি কার্ড ও রেশন কার্ড উদ্ধার করা হয়। একটি আধার কার্ডে পূর্ব বর্ধমানের ঠিকানা, অন্যটিতে কলকাতার ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

ভুয়া পরিচয়পত্রের উদ্দেশ্য

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তা পাল ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেকে স্থানীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এতে তিনি গাড়ি ভাড়া (কার রেন্টাল)–সংক্রান্ত ব্যবসা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট দিয়ে তিনি নিজেকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালান।

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা পাল জানান, বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে তিনি যেসব দেশে যেতে চাইতেন, সেসব দেশের ভিসা পাওয়া কঠিন ছিল। তাই ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে বিদেশগমন সহজ করার লক্ষ্য ছিল তার। ভাড়া বাসার ঠিকানাই তিনি রেশন কার্ডে ব্যবহার করেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় নথি তৈরির পথ খুলে যায়।

সামাজিক মাধ্যমে ‘এক্সপোজ’ কাণ্ড

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শান্তা পালের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘেঁটে তারা এমন একজন পুরুষকে শনাক্ত করেছেন, যার হাতেও একযোগে ভারতীয় আধার কার্ড ও বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির সঙ্গেও তিনি জাল নথি তৈরির কারবারে জড়িত ছিলেন।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

পুলিশ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালাল ও সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। উদ্ধার করা নথিগুলোর সূত্র ধরে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া তার ভ্লগের আয়ের উৎস ও লেনদেন নিয়েও আর্থিক অনুসন্ধান চলছে।

 কলকাতায় ভুয়া পরিচয়পত্র নিয়ে বসবাস ও বিদেশ ভ্রমণের জাল নকশা তৈরির অভিযোগে শান্তা পাল এখন পুলিশ হেফাজতে। তার গ্রেপ্তার বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তপারের জাল নথি চক্র সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এই চক্রের পরবর্তী সংযোগ উন্মোচিত হওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় এআই ক্যামেরা: লাল বাতি পার করলেই ধরা পড়বেন

শান্তা পাল: ভুয়া ভারতীয় পরিচয়ে কলকাতায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মডেল ও ফুড ভ্লগার

০৫:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

২৮ বছর বয়সী শান্তা পাল বাংলাদেশি মডেল ও ফুড ভ্লগার। কখনও এয়ারলাইনস ক্রু হিসেবে কাজ করেছেন—বেসরকারি রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ক্রু সদস্য ছিলেন। নিজের ফেসবুক পেজে নিয়মিত খাবার ও জীবনধারা–ভিত্তিক ভিডিও পোস্ট করে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

কলকাতায় আগমন ও বাসস্থান

বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েক মাস আগে তিনি কলকাতায় আসেন। প্রথমে পার্ক স্ট্রিটের একটি ভাড়া বাসায় থেকে পরে দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড় এলাকায় বাসা নেন। সেখান থেকেই স্থানীয় এক দালালের সহায়তায় তিনি ভুয়া আধার কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ড জোগাড় করেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনা

কলকাতা পুলিশের প্রতারণা দমন শাখা বিক্রমগড় থেকে শান্তা পালকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘ফৌজদারি ষড়যন্ত্র’ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আটক করার সময় তার কাছ থেকে দুটি ভুয়া আধার কার্ড, একটি ভোটার আইডি কার্ড ও রেশন কার্ড উদ্ধার করা হয়। একটি আধার কার্ডে পূর্ব বর্ধমানের ঠিকানা, অন্যটিতে কলকাতার ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

ভুয়া পরিচয়পত্রের উদ্দেশ্য

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তা পাল ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেকে স্থানীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এতে তিনি গাড়ি ভাড়া (কার রেন্টাল)–সংক্রান্ত ব্যবসা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট দিয়ে তিনি নিজেকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালান।

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা পাল জানান, বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে তিনি যেসব দেশে যেতে চাইতেন, সেসব দেশের ভিসা পাওয়া কঠিন ছিল। তাই ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে বিদেশগমন সহজ করার লক্ষ্য ছিল তার। ভাড়া বাসার ঠিকানাই তিনি রেশন কার্ডে ব্যবহার করেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় নথি তৈরির পথ খুলে যায়।

সামাজিক মাধ্যমে ‘এক্সপোজ’ কাণ্ড

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শান্তা পালের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘেঁটে তারা এমন একজন পুরুষকে শনাক্ত করেছেন, যার হাতেও একযোগে ভারতীয় আধার কার্ড ও বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির সঙ্গেও তিনি জাল নথি তৈরির কারবারে জড়িত ছিলেন।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

পুলিশ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালাল ও সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। উদ্ধার করা নথিগুলোর সূত্র ধরে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া তার ভ্লগের আয়ের উৎস ও লেনদেন নিয়েও আর্থিক অনুসন্ধান চলছে।

 কলকাতায় ভুয়া পরিচয়পত্র নিয়ে বসবাস ও বিদেশ ভ্রমণের জাল নকশা তৈরির অভিযোগে শান্তা পাল এখন পুলিশ হেফাজতে। তার গ্রেপ্তার বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তপারের জাল নথি চক্র সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এই চক্রের পরবর্তী সংযোগ উন্মোচিত হওয়া।