০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রশিক্ষণে তরুণদের চুক্তি আলোচনার দক্ষতা উন্নয়ন  ৭ জুন নিজস্ব সম্পদ রক্ষার স্মারক ও পথ হিসেবে সকলেরই পালন জরুরি  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ উন্মাদনা: স্থায়ী শিল্পবিপ্লব নাকি আরেকটি বাজার-ভ্রম? মতিঝিলে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, সিসিটিভি ফুটেজে খোঁজ চলছে দুর্বৃত্তদের গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সংসদে অভিযোগ রুমিন ফারহানার নতুন ৯ম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন, বেতন-ভাতায় বড় সুবিধা পাবেন চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা শূন্যরেখায় ৪০ ঘণ্টা আটকা ১১ জন, অনিশ্চয়তায় নারী-শিশুসহ পুশইনের শিকার পরিবার লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সাতক্ষীরায়, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার ময়মনসিংহে বেইলি সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ, নদীতে পড়ল বালুবাহী ট্রাক নওগাঁয় জমি বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুর্বল অবস্থানে

বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক চিত্রে আশার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তব জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৯৭ শতাংশ। এ সময়ে মাথাপিছু আয় ও অর্থনীতির আকার উভয়ই বেড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ, আর রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তবে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৯৩ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা বা ০.৭২ শতাংশ। অথচ এর আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.৫৪ শতাংশ। চেকের মাধ্যমে লেনদেন কমেছে সর্বোচ্চ ১৯.৩৩ শতাংশ, বিপরীতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রচলিত লেনদেন কমলেও ডিজিটাল চ্যানেলে কার্যক্রম বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, লেনদেন কমার পেছনে প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা এবং সর্বোপরি মানুষের ব্যাংকিং সিস্টেমে আস্থার ঘাটতি। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক খাত বা ইনফরমাল ইকোনমি আরও প্রসারিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী নয়। আইএমএফ চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি অনুমান করছে ৩.৮ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুরুতে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেও পরে তা কমিয়ে ৫.৪ শতাংশে নামিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে পূর্বাভাস কমিয়ে সর্বশেষ মাত্র ৩.৩ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৯ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশ হবে বলে তাদের ধারণা।

সরকারি হিসাব আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও, ব্যাংক লেনদেনের পতন অর্থনীতির ভেতরে দুর্বলতা তুলে ধরছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজে-কলমে প্রবৃদ্ধির সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যথেষ্ট গতি পাচ্ছে না।

নীতিনির্ধারকদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার দুর্বল অবস্থানে থাকলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে স্থিতিশীলতার পথে ফেরার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রশিক্ষণে তরুণদের চুক্তি আলোচনার দক্ষতা উন্নয়ন

জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুর্বল অবস্থানে

০২:২৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক চিত্রে আশার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তব জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৯৭ শতাংশ। এ সময়ে মাথাপিছু আয় ও অর্থনীতির আকার উভয়ই বেড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ, আর রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তবে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৯৩ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা বা ০.৭২ শতাংশ। অথচ এর আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.৫৪ শতাংশ। চেকের মাধ্যমে লেনদেন কমেছে সর্বোচ্চ ১৯.৩৩ শতাংশ, বিপরীতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রচলিত লেনদেন কমলেও ডিজিটাল চ্যানেলে কার্যক্রম বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, লেনদেন কমার পেছনে প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা এবং সর্বোপরি মানুষের ব্যাংকিং সিস্টেমে আস্থার ঘাটতি। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক খাত বা ইনফরমাল ইকোনমি আরও প্রসারিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী নয়। আইএমএফ চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি অনুমান করছে ৩.৮ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুরুতে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেও পরে তা কমিয়ে ৫.৪ শতাংশে নামিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে পূর্বাভাস কমিয়ে সর্বশেষ মাত্র ৩.৩ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৯ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশ হবে বলে তাদের ধারণা।

সরকারি হিসাব আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও, ব্যাংক লেনদেনের পতন অর্থনীতির ভেতরে দুর্বলতা তুলে ধরছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজে-কলমে প্রবৃদ্ধির সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যথেষ্ট গতি পাচ্ছে না।

নীতিনির্ধারকদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার দুর্বল অবস্থানে থাকলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে স্থিতিশীলতার পথে ফেরার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।