০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬

নগদ পোড়ানোর দৌড়ে ওপেনএআই, মুনাফার চাপে কঠিন বছরে স্যাম অল্টম্যান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত উত্থান হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ওপেনএআই এখন শীর্ষে। কিন্তু এই দ্রুত উত্থানের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠানটিকে এনে ফেলেছে এক কঠিন পরীক্ষার বছরে। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, চলতি বছরে ওপেনএআইয়ের নগদ খরচ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকলেও, মুনাফার পথ এখনো স্পষ্ট নয়

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে অনেকেই একসঙ্গে বহু কাজ সামলানো এক ভারসাম্যশিল্পীর সঙ্গে তুলনা করছেন। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি, নিজস্ব চিপ উন্নয়ন, অনলাইন বাণিজ্য, ব্যবসায়িক পরামর্শ এবং ভোক্তা পণ্য তৈরির পরিকল্পনা—সবকিছুই চলছে একসঙ্গে। কিন্তু এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিটি ধাপেই বাড়ছে ব্যয়।

বিপুল অর্থ ব্যয় ও নতুন তহবিলের খোঁজ

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরে ওপেনএআইয়ের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী কয়েক বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে রেকর্ড অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছে। তবুও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নতুন করে আরও বড় তহবিল সংগ্রহ প্রায় নিশ্চিত।

এই অর্থের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে বিশাল কম্পিউটিং শক্তি জোগাতে। কয়েক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও বিশাল অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবকাঠামোর খরচই বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় ফেলছে।

প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত চাপ

শুধু খরচ নয়, প্রতিযোগিতাও বাড়ছে দ্রুত। অন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা প্রযুক্তিগত ব্যবধানে কাছাকাছি চলে এসেছে। নতুন মডেল আসছে, উন্নত কর্মক্ষমতার দাবি করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এতে করে ওপেনএআইকে ক্রমাগত আরও বেশি বিনিয়োগ করে যেতে হচ্ছে, যাতে নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর সংখ্যার গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে। বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণে পরিচালন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে আয়ের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। দাম বাড়ানো বা প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিলে আবার ব্যবহারকারী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

আয়ের নতুন পথের সন্ধান

এই চাপে পড়ে ওপেনএআই এখন আয়ের নতুন পথ খুঁজছে। বিজ্ঞাপনভিত্তিক পরিকল্পনা, করপোরেট গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সেবা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বয়ংক্রিয় কাজের সরঞ্জাম চালুর দিকে ঝুঁকছে তারা। ভোক্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক গ্রাহকদের অংশ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, কারণ এই খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল আয়ের সম্ভাবনা দেয়।

এ ছাড়া নিজস্ব চিপ তৈরির উদ্যোগ এবং ভোক্তা পণ্য উন্নয়নের মাধ্যমে প্রযুক্তির পুরো শৃঙ্খল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এতসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে যে বিপুল অর্থ লাগছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একাংশ উদ্বিগ্ন।

বিশ্বাস বনাম সংশয়

কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই ব্যয়ের ধারা একসময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাদের আশঙ্কা, প্রত্যাশিত আয় না এলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চাপের মুখে পড়বে। আবার অন্যরা বলছেন, স্যাম অল্টম্যান অতীতেও অসম্ভব মনে হওয়া কাজ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এবং এবারও তিনি সফল হতে পারেন।

সব মিলিয়ে সামনে বছরটি ওপেনএআইয়ের জন্য নির্ণায়ক। এই সময়ে প্রমাণ করতে হবে, দ্রুত বিস্তার আর বিপুল ব্যয়ের মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক পথে ফিরতে পারে কি না। নইলে এই ঝলমলে প্রযুক্তি প্রদর্শনী টিকে থাকবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫১)

নগদ পোড়ানোর দৌড়ে ওপেনএআই, মুনাফার চাপে কঠিন বছরে স্যাম অল্টম্যান

০১:২৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত উত্থান হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ওপেনএআই এখন শীর্ষে। কিন্তু এই দ্রুত উত্থানের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠানটিকে এনে ফেলেছে এক কঠিন পরীক্ষার বছরে। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, চলতি বছরে ওপেনএআইয়ের নগদ খরচ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকলেও, মুনাফার পথ এখনো স্পষ্ট নয়

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে অনেকেই একসঙ্গে বহু কাজ সামলানো এক ভারসাম্যশিল্পীর সঙ্গে তুলনা করছেন। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি, নিজস্ব চিপ উন্নয়ন, অনলাইন বাণিজ্য, ব্যবসায়িক পরামর্শ এবং ভোক্তা পণ্য তৈরির পরিকল্পনা—সবকিছুই চলছে একসঙ্গে। কিন্তু এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিটি ধাপেই বাড়ছে ব্যয়।

বিপুল অর্থ ব্যয় ও নতুন তহবিলের খোঁজ

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরে ওপেনএআইয়ের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী কয়েক বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে রেকর্ড অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছে। তবুও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নতুন করে আরও বড় তহবিল সংগ্রহ প্রায় নিশ্চিত।

এই অর্থের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে বিশাল কম্পিউটিং শক্তি জোগাতে। কয়েক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও বিশাল অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবকাঠামোর খরচই বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় ফেলছে।

প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত চাপ

শুধু খরচ নয়, প্রতিযোগিতাও বাড়ছে দ্রুত। অন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা প্রযুক্তিগত ব্যবধানে কাছাকাছি চলে এসেছে। নতুন মডেল আসছে, উন্নত কর্মক্ষমতার দাবি করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এতে করে ওপেনএআইকে ক্রমাগত আরও বেশি বিনিয়োগ করে যেতে হচ্ছে, যাতে নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।

একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর সংখ্যার গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে। বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণে পরিচালন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে আয়ের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। দাম বাড়ানো বা প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিলে আবার ব্যবহারকারী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

আয়ের নতুন পথের সন্ধান

এই চাপে পড়ে ওপেনএআই এখন আয়ের নতুন পথ খুঁজছে। বিজ্ঞাপনভিত্তিক পরিকল্পনা, করপোরেট গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সেবা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বয়ংক্রিয় কাজের সরঞ্জাম চালুর দিকে ঝুঁকছে তারা। ভোক্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক গ্রাহকদের অংশ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, কারণ এই খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল আয়ের সম্ভাবনা দেয়।

এ ছাড়া নিজস্ব চিপ তৈরির উদ্যোগ এবং ভোক্তা পণ্য উন্নয়নের মাধ্যমে প্রযুক্তির পুরো শৃঙ্খল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এতসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে যে বিপুল অর্থ লাগছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একাংশ উদ্বিগ্ন।

বিশ্বাস বনাম সংশয়

কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই ব্যয়ের ধারা একসময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাদের আশঙ্কা, প্রত্যাশিত আয় না এলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চাপের মুখে পড়বে। আবার অন্যরা বলছেন, স্যাম অল্টম্যান অতীতেও অসম্ভব মনে হওয়া কাজ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এবং এবারও তিনি সফল হতে পারেন।

সব মিলিয়ে সামনে বছরটি ওপেনএআইয়ের জন্য নির্ণায়ক। এই সময়ে প্রমাণ করতে হবে, দ্রুত বিস্তার আর বিপুল ব্যয়ের মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক পথে ফিরতে পারে কি না। নইলে এই ঝলমলে প্রযুক্তি প্রদর্শনী টিকে থাকবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাবে।