পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে। রাতভর গোলাগুলি ও পাল্টা হামলায় দুই পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তাদের এখন “খোলা যুদ্ধ” চলছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুই দেশের সামরিক শক্তির তুলনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
উত্তেজনার পটভূমি
বেলুচিস্তানের চামান সীমান্ত ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। সীমান্তের দু’পাশে ভারী অস্ত্র ব্যবহার এবং টানা লড়াই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামরিক শক্তির পার্থক্যও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সামগ্রিক শক্তি ও আধুনিকায়ন
পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। চীনের সহায়তায় তারা আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে এবং নৌ ও বিমান বাহিনীকেও আধুনিক করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকারের সামরিক সক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার সময় তারা যে বিদেশি সরঞ্জাম দখল করেছিল, তার বড় অংশ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব তাদের সামরিক আধুনিকায়নকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সেনাসংখ্যায় বড় ফারাক
পাকিস্তানের সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ ষাট হাজার। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে পাঁচ লাখ ষাট হাজার, বিমান বাহিনীতে সত্তর হাজার এবং নৌবাহিনীতে ত্রিশ হাজার সদস্য রয়েছে।
তালেবান বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় এক লাখ বাহাত্তর হাজার। যদিও তারা সেনা সংখ্যা দুই লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তবুও বাস্তবে পাকিস্তানের তুলনায় তাদের শক্তি অনেক কম।

সাঁজোয়া যান ও কামান শক্তি
পাকিস্তানের হাতে রয়েছে ছয় হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং চার হাজার ছয়শোর বেশি কামান। এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার স্থলযুদ্ধে তাদের বাড়তি সুবিধা দেয়।
আফগান বাহিনীর কাছেও সোভিয়েত আমলের কিছু ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে। তবে সেগুলোর সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট নয়। কামানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র, কতগুলো কার্যকর রয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।
আকাশযুদ্ধে অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা
পাকিস্তানের কাছে চারশো পঁয়ষট্টি যুদ্ধবিমান ও দুইশো ষাটের বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। বহুমুখী, আক্রমণ ও পরিবহন সক্ষমতার এই বহর তাদের আকাশসীমায় বড় সুবিধা দেয়।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের কার্যকর কোনো যুদ্ধবিমান নেই। হাতে গোনা কয়েকটি পুরনো বিমান ও তেইশটি হেলিকপ্টার থাকলেও কতগুলো উড্ডয়ন সক্ষম তা পরিষ্কার নয়। ফলে আকাশযুদ্ধে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।

পারমাণবিক সক্ষমতায় একপেশে চিত্র
পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ এবং তাদের কাছে প্রায় একশো সত্তরটি ওয়ারহেড রয়েছে। আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নেই। ফলে কৌশলগত শক্তির দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

বাড়ছে আঞ্চলিক শঙ্কা
সীমান্তে সংঘর্ষ চলতে থাকলে তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে। সামরিক শক্তির তুলনায় পাকিস্তান অনেক এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দুই দেশের জন্যই বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















