১০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
তুরস্ক–লেবানন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: কূটনীতির সীমা ছাড়িয়ে পুনর্গঠনের বাস্তব রাজনীতি বিশ্বের সংকটের কেন্দ্রে কি এক ব্যক্তির রাজনীতি? স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেন এখনও নাগালের বাইরে? যুক্তরাষ্ট্রে আফগান অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ ঘিরে নতুন উদ্বেগ, জোরালো হচ্ছে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে কমছে সহিংস অপরাধ, স্বস্তি ফিরছে শহরগুলোতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেটের সামনে গাড়িচাপায় ৮২ বছরের নারী নিহত, বিচারের দাবিতে পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি বেড়ে ৪৩ সিলেটে গাছ থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত মুম্বাইয়ের গল্পে গুলজারের ৭৬ বছর: যে শহর এক কিশোর অভিবাসীকে কবি বানিয়েছে

আলফাবেট শেয়ারের উল্লম্ফন: মার্কিন আদালতে অ্যান্টিট্রাস্ট ভাঙনের রায় থেকে রক্ষা

আদালতের রায় ও শেয়ারবাজারের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন আদালতে বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার পর গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান আলফাবেটের শেয়ারের দাম বুধবার ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এতে কোম্পানির বাজারমূল্যে যোগ হয় প্রায় ২১০ বিলিয়ন ডলার।

বিচারক অমিত মেহতা মঙ্গলবারের রায়ে গুগলকে তাদের ক্রোম ব্রাউজার এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ রাখার অনুমতি দেন। তবে ডিভাইস নির্মাতা ও ব্রাউজার ডেভেলপারদের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন।

অ্যাপলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বহাল

গুগলকে অ্যাপলসহ অংশীদারদের অর্থ প্রদান চালিয়ে যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়, যাতে তাদের ডিভাইসে গুগল সার্চ প্রধান সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকে। এর প্রভাবে অ্যাপলের শেয়ারও ৩.৮ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় আলফাবেট ও অ্যাপলের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতের আইফোনে গুগলের জেমিনি এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও বাড়াবে।

বিনিয়োগকারীদের বিশ্লেষণ

হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট ব্রিটজম্যান মন্তব্য করেন, “এই রায় বড় আইনি অনিশ্চয়তা দূর করেছে এবং আদালত যে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে ঝুঁকছে, তার ইঙ্গিত দিয়েছে।”

কুইল্টার চেভিয়ট-এর প্রযুক্তি গবেষণা প্রধান বেন ব্যারিঞ্জার বলেন, “গুগলের পক্ষ থেকে অ্যাপলকে প্রদত্ত অর্থ ছিল বড় আয়ের উৎস। এটি বহাল থাকায় চলতি অস্থির বছরে স্বস্তি মিলবে।”

মামলার পটভূমি

মার্কিন সরকার ২০২০ সালে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ তোলে যে, কোম্পানিটি ডিভাইস নির্মাতা ও ব্রাউজার ডেভেলপারদের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তির মাধ্যমে সার্চে অবৈধভাবে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে।

যদিও বিচারক মেহতা গত বছর রায়ে গুগলের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পান, তবে মঙ্গলবার তিনি কোম্পানিটিকে ভাঙার নির্দেশ দেননি। বরং তিনি জানান, চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জাম নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

এআই প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা

রায়ের মাধ্যমে গুগলকে কিছু সার্চ ইনডেক্স ও ব্যবহারকারীর তথ্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে এআই-ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের চ্যাটবট ও সার্চ টুল উন্নত করার সুযোগ পাবে।

তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুগলের বিশাল তথ্যভান্ডার ও শক্তিশালী অবস্থান এখনও প্রতিযোগিতার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক নিক রোডেলি বলেন, “ডেটা ভাগাভাগির নির্দেশ সীমিত পরিসরের। এটি কেবল সামান্যভাবে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।”

শেয়ারবাজারে অবস্থান

আলফাবেটের শেয়ার বুধবার সর্বোচ্চ ২৩১.৩১ ডলারে ওঠে, যা বছরের শুরু থেকে প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের চেয়ে ভালো হলেও মেটার চেয়ে পিছিয়ে। বর্তমানে কোম্পানিটি ২০.৩ গুণ আয়ের প্রত্যাশায় শেয়ার লেনদেন করছে, যা বিখ্যাত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ টেক কোম্পানির গড়ের নিচে।

আদালতের এই রায় আলফাবেটের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। এটি শুধু তাদের বাজারমূল্য বাড়ায়নি, বরং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব ও এআই প্রতিযোগিতার ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তুরস্ক–লেবানন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: কূটনীতির সীমা ছাড়িয়ে পুনর্গঠনের বাস্তব রাজনীতি

আলফাবেট শেয়ারের উল্লম্ফন: মার্কিন আদালতে অ্যান্টিট্রাস্ট ভাঙনের রায় থেকে রক্ষা

১২:২০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আদালতের রায় ও শেয়ারবাজারের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন আদালতে বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার পর গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান আলফাবেটের শেয়ারের দাম বুধবার ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এতে কোম্পানির বাজারমূল্যে যোগ হয় প্রায় ২১০ বিলিয়ন ডলার।

বিচারক অমিত মেহতা মঙ্গলবারের রায়ে গুগলকে তাদের ক্রোম ব্রাউজার এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ রাখার অনুমতি দেন। তবে ডিভাইস নির্মাতা ও ব্রাউজার ডেভেলপারদের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন।

অ্যাপলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বহাল

গুগলকে অ্যাপলসহ অংশীদারদের অর্থ প্রদান চালিয়ে যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়, যাতে তাদের ডিভাইসে গুগল সার্চ প্রধান সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকে। এর প্রভাবে অ্যাপলের শেয়ারও ৩.৮ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় আলফাবেট ও অ্যাপলের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতের আইফোনে গুগলের জেমিনি এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও বাড়াবে।

বিনিয়োগকারীদের বিশ্লেষণ

হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট ব্রিটজম্যান মন্তব্য করেন, “এই রায় বড় আইনি অনিশ্চয়তা দূর করেছে এবং আদালত যে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে ঝুঁকছে, তার ইঙ্গিত দিয়েছে।”

কুইল্টার চেভিয়ট-এর প্রযুক্তি গবেষণা প্রধান বেন ব্যারিঞ্জার বলেন, “গুগলের পক্ষ থেকে অ্যাপলকে প্রদত্ত অর্থ ছিল বড় আয়ের উৎস। এটি বহাল থাকায় চলতি অস্থির বছরে স্বস্তি মিলবে।”

মামলার পটভূমি

মার্কিন সরকার ২০২০ সালে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ তোলে যে, কোম্পানিটি ডিভাইস নির্মাতা ও ব্রাউজার ডেভেলপারদের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তির মাধ্যমে সার্চে অবৈধভাবে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে।

যদিও বিচারক মেহতা গত বছর রায়ে গুগলের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পান, তবে মঙ্গলবার তিনি কোম্পানিটিকে ভাঙার নির্দেশ দেননি। বরং তিনি জানান, চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জাম নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

এআই প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা

রায়ের মাধ্যমে গুগলকে কিছু সার্চ ইনডেক্স ও ব্যবহারকারীর তথ্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে এআই-ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের চ্যাটবট ও সার্চ টুল উন্নত করার সুযোগ পাবে।

তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুগলের বিশাল তথ্যভান্ডার ও শক্তিশালী অবস্থান এখনও প্রতিযোগিতার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক নিক রোডেলি বলেন, “ডেটা ভাগাভাগির নির্দেশ সীমিত পরিসরের। এটি কেবল সামান্যভাবে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।”

শেয়ারবাজারে অবস্থান

আলফাবেটের শেয়ার বুধবার সর্বোচ্চ ২৩১.৩১ ডলারে ওঠে, যা বছরের শুরু থেকে প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের চেয়ে ভালো হলেও মেটার চেয়ে পিছিয়ে। বর্তমানে কোম্পানিটি ২০.৩ গুণ আয়ের প্রত্যাশায় শেয়ার লেনদেন করছে, যা বিখ্যাত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ টেক কোম্পানির গড়ের নিচে।

আদালতের এই রায় আলফাবেটের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। এটি শুধু তাদের বাজারমূল্য বাড়ায়নি, বরং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব ও এআই প্রতিযোগিতার ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করবে।