০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অবৈধ তেল লেনদেনের অভিযোগে মালয়েশিয়ার জলসীমায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল জব্দ মার্কিন চাপের চাপে কিউবায় নিত্যদিনের জীবন সংকটে, জ্বালানি ও খাদ্য নিয়ে টিকে থাকার লড়াই শ্বাসকষ্ট কি বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা, নাকি নীরব বিপদের সংকেত মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় রদবদলের ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবতায় কঠিন পথচলা মসজিদের ঘোষণায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক, তিরাহ উপত্যকা ফাঁকা হতে শুরু করল ইরানের বন্দর আব্বাসে গ্যাস লিকের ভয়াবহ বিস্ফোরণ, উত্তেজনার আবহে নিহত ও আহত বহু অনিয়ম ও অবিচারের রাজনীতি আর চলবে না: নির্বাচনী মঞ্চে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের ঝিনাইদহে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ করে বিক্রির অভিযোগ, দম্পতি গ্রেপ্তার ঢাকার ডেমরায় পরিত্যক্ত স্থানে লুট হওয়া পাঁচটি গ্রেনেড উদ্ধার অন্ধকারে পা রাখলেন ম্যাকড্রিমি

বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার ভূমিকা

মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব

প্রতিবছর মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষের গুরুতর অসুস্থতা এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে ১৯টি হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে জ্বর ও কাশির উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের প্রায় ৫৯ শতাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। এটি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশে মে থেকে সেপ্টেম্বর সময়টিকে (গ্রীষ্ম মৌসুমে বৃষ্টিকাল) ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমি মহাসংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন—৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ, ৫ বছরের নিচে শিশু, গর্ভবতী নারী, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে টিকা দেওয়া হলে সবার জন্য কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

টিকা গ্রহণে বাধা ও বাস্তবতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর নিয়মিত ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা গ্রহণ সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তবে বাংলাদেশে টিকা গ্রহণের হার এখনও সন্তোষজনক নয়। এর কারণ হলো সীমিত সরবরাহ, নিম্নমানের নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ।

কর্মশালা ও আলোচনা

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল।

অভ্যন্তরীণ মেডিসিন, শিশু রোগ, স্ত্রীরোগ, কমিউনিটি মেডিসিন, শ্বাসযন্ত্র ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। লক্ষ্য ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে টিকা অন্তর্ভুক্তির পথ খোঁজা।

গবেষণা উপস্থাপন ও তথ্য

আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন ২০০৭ সাল থেকে চালু হওয়া হাসপাতালভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা পর্যবেক্ষণের তথ্য উপস্থাপন করেন। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমি সংক্রমণ মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় এবং জুন-জুলাইতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত টিকা দিলে অসংখ্য গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এছাড়া টিকাদান অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর ও খরচ সাশ্রয়ী।

চিকিৎসকদের মতামত ও বাধাসমূহ

বিভিন্ন মেডিকেল বিশেষজ্ঞ টিকা অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দেন। তবে তারা স্বীকার করেন যে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যেমন—

  • টিকার অপ্রাপ্যতা
  • উচ্চ খরচ
  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা
  • জনসচেতনতায় ঘাটতি
  • কোল্ড চেইন ব্যবস্থার দুর্বলতা
  • চিকিৎসা ব্যবস্থার ভেতরে সমন্বয়ের অভাব

এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে তারা গবেষণাভিত্তিক নীতি, সহজলভ্য টিকা, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, ও সরকারি নির্দেশিকায় টিকা অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ঝুঁকি

ডা. মোঃ জামিউল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের চারগুণ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এতে সহকর্মী, রোগী ও পরিবারের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিন্তু এই গোষ্ঠীর টিকা গ্রহণের হার এখনও খুবই কম।

নীতি নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত

অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন, ডা. মেরিয়ান ক্যারি (WHO), টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. এম. জাহান, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ কর্মশালায় বক্তব্য দেন। আলোচনায় তারা বললেন, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা গ্রহণ বাড়াতে বাস্তবসম্মত কৌশল তৈরি করা জরুরি।

তারা জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকায় ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে এটি সহজলভ্য হয় এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন, বর্তমানে সবার জন্য সার্বজনীন টিকাদান সম্ভব নয়। তবে চিকিৎসক ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে টিকা গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

কর্মশালার শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা প্রতিশ্রুতি দেন যে, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি, গবেষণা ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে টিকা অন্তর্ভুক্তি ও বিস্তারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

কর্মশালার সার্বিক সিদ্ধান্ত ছিল—বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অন্তর্ভুক্তি জরুরি। এর মাধ্যমে মৌসুমি সংক্রমণ থেকে সৃষ্ট গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার কমানো যাবে এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ তেল লেনদেনের অভিযোগে মালয়েশিয়ার জলসীমায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল জব্দ

বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার ভূমিকা

১১:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব

প্রতিবছর মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষের গুরুতর অসুস্থতা এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে ১৯টি হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে জ্বর ও কাশির উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের প্রায় ৫৯ শতাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছেন। এটি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশে মে থেকে সেপ্টেম্বর সময়টিকে (গ্রীষ্ম মৌসুমে বৃষ্টিকাল) ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমি মহাসংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন—৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক মানুষ, ৫ বছরের নিচে শিশু, গর্ভবতী নারী, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে টিকা দেওয়া হলে সবার জন্য কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

টিকা গ্রহণে বাধা ও বাস্তবতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর নিয়মিত ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা গ্রহণ সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তবে বাংলাদেশে টিকা গ্রহণের হার এখনও সন্তোষজনক নয়। এর কারণ হলো সীমিত সরবরাহ, নিম্নমানের নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ।

কর্মশালা ও আলোচনা

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল।

অভ্যন্তরীণ মেডিসিন, শিশু রোগ, স্ত্রীরোগ, কমিউনিটি মেডিসিন, শ্বাসযন্ত্র ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। লক্ষ্য ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে টিকা অন্তর্ভুক্তির পথ খোঁজা।

গবেষণা উপস্থাপন ও তথ্য

আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন ২০০৭ সাল থেকে চালু হওয়া হাসপাতালভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা পর্যবেক্ষণের তথ্য উপস্থাপন করেন। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমি সংক্রমণ মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় এবং জুন-জুলাইতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত টিকা দিলে অসংখ্য গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এছাড়া টিকাদান অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর ও খরচ সাশ্রয়ী।

চিকিৎসকদের মতামত ও বাধাসমূহ

বিভিন্ন মেডিকেল বিশেষজ্ঞ টিকা অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দেন। তবে তারা স্বীকার করেন যে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যেমন—

  • টিকার অপ্রাপ্যতা
  • উচ্চ খরচ
  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা
  • জনসচেতনতায় ঘাটতি
  • কোল্ড চেইন ব্যবস্থার দুর্বলতা
  • চিকিৎসা ব্যবস্থার ভেতরে সমন্বয়ের অভাব

এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে তারা গবেষণাভিত্তিক নীতি, সহজলভ্য টিকা, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, ও সরকারি নির্দেশিকায় টিকা অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ঝুঁকি

ডা. মোঃ জামিউল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের চারগুণ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এতে সহকর্মী, রোগী ও পরিবারের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিন্তু এই গোষ্ঠীর টিকা গ্রহণের হার এখনও খুবই কম।

নীতি নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত

অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন, ডা. মেরিয়ান ক্যারি (WHO), টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. এম. জাহান, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ কর্মশালায় বক্তব্য দেন। আলোচনায় তারা বললেন, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা গ্রহণ বাড়াতে বাস্তবসম্মত কৌশল তৈরি করা জরুরি।

তারা জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকায় ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে এটি সহজলভ্য হয় এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন, বর্তমানে সবার জন্য সার্বজনীন টিকাদান সম্ভব নয়। তবে চিকিৎসক ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে টিকা গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

কর্মশালার শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা প্রতিশ্রুতি দেন যে, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি, গবেষণা ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে টিকা অন্তর্ভুক্তি ও বিস্তারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

কর্মশালার সার্বিক সিদ্ধান্ত ছিল—বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অন্তর্ভুক্তি জরুরি। এর মাধ্যমে মৌসুমি সংক্রমণ থেকে সৃষ্ট গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার কমানো যাবে এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।