০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রেডিকশন মার্কেটে গোপন তথ্যের খেলা, ইরান হামলা থেকে মাদুরো গ্রেপ্তার—উঠছে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ বেবিমনস্টারের ‘চুম’ ভিডিওতে ১০ কোটির মাইলফলক, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জনপ্রিয়তা স্টারবাকসের ‘ট্যাংক ডে’ বিতর্কে ক্ষোভ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষমা চাইল মার্কিন সদর দপ্তর আল সুপাঙ্গানের সোনালি জন্মদিনে জমকালো আয়োজন, ডেনিম থিমে মুখর সন্ধ্যা জাপানের বৃদ্ধাশ্রমে নতুন ভরসা তরুণ বডিবিল্ডার ও কুস্তিগিররা ডাবলিনে গান, গল্প আর শিল্পের শহুরে জাদু ইরাকের মরুভূমিতে গোপন ইসরায়েলি ঘাঁটি, এক রাখালের মৃত্যুর পর ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা দামযুদ্ধের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন আশার বার্তা ভারতের আমদানি বিল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সতর্কবার্তা দিলেন মোদি

ভারতের মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তির প্রচেষ্টা

চীনের রপ্তানি সীমিতকরণে বিকল্প খোঁজে ভারত

চীন এ বছর থেকে ভারতসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রক্রিয়াজাত বিরল খনিজ রপ্তানি কঠোরভাবে সীমিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ জন্য দেশটির খনিজ মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কাচিন স্বাধীনতা বাহিনী (কেআইএ) নিয়ন্ত্রিত খনি থেকে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ

চারজন ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভারত কেআইএর সহায়তায় বিরল খনিজ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইআরইএল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিডওয়েস্ট অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস—যারা গত বছর সরকারের অর্থায়নে বাণিজ্যিকভাবে বিরল খনিজ চুম্বক উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে—এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ভারত এই নমুনা ঘরোয়া পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখতে চায়, সেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভারী বিরল খনিজ রয়েছে কিনা, যা ইলেকট্রনিক যানবাহন ও উন্নত সরঞ্জামে ব্যবহৃত চুম্বক তৈরিতে কাজে লাগানো যায়।

জুলাই মাসে অনলাইন বৈঠক

জুলাইয়ে অনলাইনে আয়োজিত এক বৈঠকে খনিজ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে আইআরইএল, মিডওয়েস্ট এবং অন্তত আরও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল বিরল এক দৃষ্টান্ত যেখানে দিল্লি সরাসরি অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

কেআইএর প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি

কেআইএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভারতের জন্য খনিজ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। পাশাপাশি, তারা বৃহৎ পরিসরে খনিজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে সম্মত হয়েছে। এই তথ্যগুলো সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

সরকারি প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত

ভারতের পররাষ্ট্র ও খনিজ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে আইআরইএল ও মিডওয়েস্ট থেকেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কেআইএর মুখপাত্রকেও পাওয়া যায়নি।

চীনের প্রভাব ও ভারতের সীমাবদ্ধতা

যদিও বিরল খনিজ পৃথিবীতে যথেষ্ট রয়েছে, তবে এগুলোকে চুম্বকে রূপান্তরের প্রযুক্তি প্রায় একচেটিয়াভাবে চীনের হাতে। চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত চাপ বাড়াতে রপ্তানি সীমিত করেছে।

ভারতও এদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩১ আগস্ট জানান, তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে বিরল খনিজ খনির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কোনো চুক্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি এবং জান্তা সরকারের পক্ষ থেকেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিল্প পর্যায়ে সক্ষমতার অভাব

ভারতের এখনো শিল্প পর্যায়ে বিরল খনিজ পরিশোধন ও চুম্বক তৈরির পরিকাঠামো নেই। এ কারণে আইআরইএল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের চেষ্টা করছে।

ভারতের অবস্থান

একজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ভারতের আগ্রহ কোনো গোপন বিষয় নয়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানেই সম্ভব ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এ ধরনের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

গত ডিসেম্বরে আইআরইএল ইতিমধ্যেই কাচিন প্রদেশে গিয়ে সম্পদের প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেডিকশন মার্কেটে গোপন তথ্যের খেলা, ইরান হামলা থেকে মাদুরো গ্রেপ্তার—উঠছে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ

ভারতের মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তির প্রচেষ্টা

১২:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চীনের রপ্তানি সীমিতকরণে বিকল্প খোঁজে ভারত

চীন এ বছর থেকে ভারতসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রক্রিয়াজাত বিরল খনিজ রপ্তানি কঠোরভাবে সীমিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ জন্য দেশটির খনিজ মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কাচিন স্বাধীনতা বাহিনী (কেআইএ) নিয়ন্ত্রিত খনি থেকে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ

চারজন ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভারত কেআইএর সহায়তায় বিরল খনিজ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইআরইএল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিডওয়েস্ট অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস—যারা গত বছর সরকারের অর্থায়নে বাণিজ্যিকভাবে বিরল খনিজ চুম্বক উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে—এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ভারত এই নমুনা ঘরোয়া পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখতে চায়, সেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভারী বিরল খনিজ রয়েছে কিনা, যা ইলেকট্রনিক যানবাহন ও উন্নত সরঞ্জামে ব্যবহৃত চুম্বক তৈরিতে কাজে লাগানো যায়।

জুলাই মাসে অনলাইন বৈঠক

জুলাইয়ে অনলাইনে আয়োজিত এক বৈঠকে খনিজ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে আইআরইএল, মিডওয়েস্ট এবং অন্তত আরও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল বিরল এক দৃষ্টান্ত যেখানে দিল্লি সরাসরি অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

কেআইএর প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি

কেআইএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভারতের জন্য খনিজ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। পাশাপাশি, তারা বৃহৎ পরিসরে খনিজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে সম্মত হয়েছে। এই তথ্যগুলো সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

সরকারি প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত

ভারতের পররাষ্ট্র ও খনিজ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে আইআরইএল ও মিডওয়েস্ট থেকেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কেআইএর মুখপাত্রকেও পাওয়া যায়নি।

চীনের প্রভাব ও ভারতের সীমাবদ্ধতা

যদিও বিরল খনিজ পৃথিবীতে যথেষ্ট রয়েছে, তবে এগুলোকে চুম্বকে রূপান্তরের প্রযুক্তি প্রায় একচেটিয়াভাবে চীনের হাতে। চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত চাপ বাড়াতে রপ্তানি সীমিত করেছে।

ভারতও এদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩১ আগস্ট জানান, তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে বিরল খনিজ খনির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কোনো চুক্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি এবং জান্তা সরকারের পক্ষ থেকেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিল্প পর্যায়ে সক্ষমতার অভাব

ভারতের এখনো শিল্প পর্যায়ে বিরল খনিজ পরিশোধন ও চুম্বক তৈরির পরিকাঠামো নেই। এ কারণে আইআরইএল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের চেষ্টা করছে।

ভারতের অবস্থান

একজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ভারতের আগ্রহ কোনো গোপন বিষয় নয়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানেই সম্ভব ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এ ধরনের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

গত ডিসেম্বরে আইআরইএল ইতিমধ্যেই কাচিন প্রদেশে গিয়ে সম্পদের প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়েছিল।