০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন, ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবছেন ট্রাম্প ইরানি উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাতে সমুদ্রে চলাচল নিষিদ্ধ করল বাহরাইন কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: সেনা ক্যাম্পে আঘাত, আহত ১০ সেনাসদস্য বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি, হুথিদের সক্রিয়তায় শিপিং সংকট আরও গভীর ইসরায়েলের দিকে হুথিদের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, উত্তেজনায় নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: হুথিদের হামলা, মার্কিন মেরিন মোতায়েন, ইরান ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে মার্কিন বাহিনীর ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি, কয়েক সপ্তাহের পরিকল্পনা—অনিশ্চয়তায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের দাবি খুলনায় ট্রেনের ধাক্কায় ব্যক্তিগত গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে, আহত ৪: অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো নিরাপদ ডিজিটাল সংযোগে বড় পদক্ষেপ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পার্টনার নেটওয়ার্ক নির্দেশিকা জারি

ভারতের মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তির প্রচেষ্টা

চীনের রপ্তানি সীমিতকরণে বিকল্প খোঁজে ভারত

চীন এ বছর থেকে ভারতসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রক্রিয়াজাত বিরল খনিজ রপ্তানি কঠোরভাবে সীমিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ জন্য দেশটির খনিজ মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কাচিন স্বাধীনতা বাহিনী (কেআইএ) নিয়ন্ত্রিত খনি থেকে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ

চারজন ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভারত কেআইএর সহায়তায় বিরল খনিজ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইআরইএল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিডওয়েস্ট অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস—যারা গত বছর সরকারের অর্থায়নে বাণিজ্যিকভাবে বিরল খনিজ চুম্বক উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে—এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ভারত এই নমুনা ঘরোয়া পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখতে চায়, সেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভারী বিরল খনিজ রয়েছে কিনা, যা ইলেকট্রনিক যানবাহন ও উন্নত সরঞ্জামে ব্যবহৃত চুম্বক তৈরিতে কাজে লাগানো যায়।

জুলাই মাসে অনলাইন বৈঠক

জুলাইয়ে অনলাইনে আয়োজিত এক বৈঠকে খনিজ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে আইআরইএল, মিডওয়েস্ট এবং অন্তত আরও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল বিরল এক দৃষ্টান্ত যেখানে দিল্লি সরাসরি অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

কেআইএর প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি

কেআইএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভারতের জন্য খনিজ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। পাশাপাশি, তারা বৃহৎ পরিসরে খনিজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে সম্মত হয়েছে। এই তথ্যগুলো সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

সরকারি প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত

ভারতের পররাষ্ট্র ও খনিজ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে আইআরইএল ও মিডওয়েস্ট থেকেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কেআইএর মুখপাত্রকেও পাওয়া যায়নি।

চীনের প্রভাব ও ভারতের সীমাবদ্ধতা

যদিও বিরল খনিজ পৃথিবীতে যথেষ্ট রয়েছে, তবে এগুলোকে চুম্বকে রূপান্তরের প্রযুক্তি প্রায় একচেটিয়াভাবে চীনের হাতে। চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত চাপ বাড়াতে রপ্তানি সীমিত করেছে।

ভারতও এদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩১ আগস্ট জানান, তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে বিরল খনিজ খনির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কোনো চুক্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি এবং জান্তা সরকারের পক্ষ থেকেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিল্প পর্যায়ে সক্ষমতার অভাব

ভারতের এখনো শিল্প পর্যায়ে বিরল খনিজ পরিশোধন ও চুম্বক তৈরির পরিকাঠামো নেই। এ কারণে আইআরইএল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের চেষ্টা করছে।

ভারতের অবস্থান

একজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ভারতের আগ্রহ কোনো গোপন বিষয় নয়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানেই সম্ভব ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এ ধরনের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

গত ডিসেম্বরে আইআরইএল ইতিমধ্যেই কাচিন প্রদেশে গিয়ে সম্পদের প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন, ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবছেন ট্রাম্প

ভারতের মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তির প্রচেষ্টা

১২:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চীনের রপ্তানি সীমিতকরণে বিকল্প খোঁজে ভারত

চীন এ বছর থেকে ভারতসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য প্রক্রিয়াজাত বিরল খনিজ রপ্তানি কঠোরভাবে সীমিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ জন্য দেশটির খনিজ মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কাচিন স্বাধীনতা বাহিনী (কেআইএ) নিয়ন্ত্রিত খনি থেকে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ

চারজন ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভারত কেআইএর সহায়তায় বিরল খনিজ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইআরইএল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিডওয়েস্ট অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস—যারা গত বছর সরকারের অর্থায়নে বাণিজ্যিকভাবে বিরল খনিজ চুম্বক উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে—এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ভারত এই নমুনা ঘরোয়া পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখতে চায়, সেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভারী বিরল খনিজ রয়েছে কিনা, যা ইলেকট্রনিক যানবাহন ও উন্নত সরঞ্জামে ব্যবহৃত চুম্বক তৈরিতে কাজে লাগানো যায়।

জুলাই মাসে অনলাইন বৈঠক

জুলাইয়ে অনলাইনে আয়োজিত এক বৈঠকে খনিজ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে আইআরইএল, মিডওয়েস্ট এবং অন্তত আরও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল বিরল এক দৃষ্টান্ত যেখানে দিল্লি সরাসরি অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

কেআইএর প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি

কেআইএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভারতের জন্য খনিজ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। পাশাপাশি, তারা বৃহৎ পরিসরে খনিজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে সম্মত হয়েছে। এই তথ্যগুলো সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

সরকারি প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত

ভারতের পররাষ্ট্র ও খনিজ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে আইআরইএল ও মিডওয়েস্ট থেকেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কেআইএর মুখপাত্রকেও পাওয়া যায়নি।

চীনের প্রভাব ও ভারতের সীমাবদ্ধতা

যদিও বিরল খনিজ পৃথিবীতে যথেষ্ট রয়েছে, তবে এগুলোকে চুম্বকে রূপান্তরের প্রযুক্তি প্রায় একচেটিয়াভাবে চীনের হাতে। চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত চাপ বাড়াতে রপ্তানি সীমিত করেছে।

ভারতও এদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩১ আগস্ট জানান, তিনি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে বিরল খনিজ খনির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কোনো চুক্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি এবং জান্তা সরকারের পক্ষ থেকেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিল্প পর্যায়ে সক্ষমতার অভাব

ভারতের এখনো শিল্প পর্যায়ে বিরল খনিজ পরিশোধন ও চুম্বক তৈরির পরিকাঠামো নেই। এ কারণে আইআরইএল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের চেষ্টা করছে।

ভারতের অবস্থান

একজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ভারতের আগ্রহ কোনো গোপন বিষয় নয়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানেই সম্ভব ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এ ধরনের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

গত ডিসেম্বরে আইআরইএল ইতিমধ্যেই কাচিন প্রদেশে গিয়ে সম্পদের প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়েছিল।