০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

আদানি পাওয়ারকে পাওনা পরিশোধে দেরি, বিপর্যয়ের শঙ্কা

পাওনা পরিশোধে উদ্বেগ

ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল) প্রায় ৫০ কোটি ডলার (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন) বকেয়া আদায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সারদানা সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থসচিবকে চিঠি দিয়ে দ্রুত পাওনা পরিশোধের অনুরোধ জানান।

অর্থসচিবকে চিঠি

চিঠিতে তিনি জানান, পুনর্মিলনী বিবরণী অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) যে পরিমাণ সুদ মেনে নিয়েছে, তার ভিত্তিতেই সব বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করা প্রয়োজন।

অনিল সারদানা উল্লেখ করেন, ২৩ জুন বিপিডিবি এক বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব পাওনা, এমনকি সুদসহ, পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এখনও কোনো নির্দিষ্ট অর্থপ্রদানের সময়সূচি জানানো হয়নি।

আংশিক অর্থপ্রদান

তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর আদানি মাত্র ৬২.৪৪ মিলিয়ন ডলারের একটি অর্থপ্রদানের পরামর্শপত্র পেয়েছে। সেটিও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দ্রুত নিশ্চয়তার অপেক্ষায় আছে। তবে এই অর্থপ্রদান সম্পন্ন হলেও প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বকেয়া রয়ে যাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রভাব

চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাওনা পরিশোধে দেরি হওয়ায় বিপিডিবির প্রতিশ্রুতি ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অনিয়মিত অর্থপ্রবাহের কারণে ভারতের গোদ্দা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। নিয়মিত অর্থপ্রদান আর্থিক স্থিতি ও অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অপরিহার্য।

বিপিডিবির বক্তব্য

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, তারা নিয়মিতভাবে আদানিকে অর্থপ্রদান করার চেষ্টা করছে। এ বছরের জুন মাসে তারা কোম্পানিকে ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে, যা মার্চ মাস পর্যন্ত সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পাওনা মেটানোর জন্য।

কর্মকর্তা আরও বলেন, আদানি প্রাথমিকভাবে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া দাবি করেছিল। তবে বিপিডিবির হিসেবে তা প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ

২০১৫ সালের এক চুক্তির আওতায় আদানি পাওয়ার লিমিটেড বাংলাদেশের জন্য ভারতের গোদ্দা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এপ্রিল ২০২৩ থেকে এই সরবরাহ শুরু হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি বড় উৎসে পরিণত হয়েছে।

মাসিক বিল ও বকেয়া

চিঠিতে অনিল সারদানা উল্লেখ করেন, কোম্পানি অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বকেয়া ছাড়াও বিপিডিবি বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিল মেটাচ্ছে। বিপিডিবির কর্মকর্তা জানান, আদানির নিয়মিত মাসিক বিল প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধে অনিশ্চয়তা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আর্থিক স্থিতি উভয়কেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। নিয়মিত ও সময়মতো অর্থপ্রদানই এ সংকট সমাধানের মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আদানি পাওয়ারকে পাওনা পরিশোধে দেরি, বিপর্যয়ের শঙ্কা

১১:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাওনা পরিশোধে উদ্বেগ

ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল) প্রায় ৫০ কোটি ডলার (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন) বকেয়া আদায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সারদানা সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থসচিবকে চিঠি দিয়ে দ্রুত পাওনা পরিশোধের অনুরোধ জানান।

অর্থসচিবকে চিঠি

চিঠিতে তিনি জানান, পুনর্মিলনী বিবরণী অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) যে পরিমাণ সুদ মেনে নিয়েছে, তার ভিত্তিতেই সব বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করা প্রয়োজন।

অনিল সারদানা উল্লেখ করেন, ২৩ জুন বিপিডিবি এক বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব পাওনা, এমনকি সুদসহ, পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এখনও কোনো নির্দিষ্ট অর্থপ্রদানের সময়সূচি জানানো হয়নি।

আংশিক অর্থপ্রদান

তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর আদানি মাত্র ৬২.৪৪ মিলিয়ন ডলারের একটি অর্থপ্রদানের পরামর্শপত্র পেয়েছে। সেটিও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দ্রুত নিশ্চয়তার অপেক্ষায় আছে। তবে এই অর্থপ্রদান সম্পন্ন হলেও প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বকেয়া রয়ে যাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রভাব

চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাওনা পরিশোধে দেরি হওয়ায় বিপিডিবির প্রতিশ্রুতি ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অনিয়মিত অর্থপ্রবাহের কারণে ভারতের গোদ্দা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। নিয়মিত অর্থপ্রদান আর্থিক স্থিতি ও অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অপরিহার্য।

বিপিডিবির বক্তব্য

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, তারা নিয়মিতভাবে আদানিকে অর্থপ্রদান করার চেষ্টা করছে। এ বছরের জুন মাসে তারা কোম্পানিকে ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে, যা মার্চ মাস পর্যন্ত সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পাওনা মেটানোর জন্য।

কর্মকর্তা আরও বলেন, আদানি প্রাথমিকভাবে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া দাবি করেছিল। তবে বিপিডিবির হিসেবে তা প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ

২০১৫ সালের এক চুক্তির আওতায় আদানি পাওয়ার লিমিটেড বাংলাদেশের জন্য ভারতের গোদ্দা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এপ্রিল ২০২৩ থেকে এই সরবরাহ শুরু হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি বড় উৎসে পরিণত হয়েছে।

মাসিক বিল ও বকেয়া

চিঠিতে অনিল সারদানা উল্লেখ করেন, কোম্পানি অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বকেয়া ছাড়াও বিপিডিবি বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিল মেটাচ্ছে। বিপিডিবির কর্মকর্তা জানান, আদানির নিয়মিত মাসিক বিল প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধে অনিশ্চয়তা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আর্থিক স্থিতি উভয়কেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। নিয়মিত ও সময়মতো অর্থপ্রদানই এ সংকট সমাধানের মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।