০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
শব্দে শব্দে বিভাজনের বিরুদ্ধে: সাহিত্য উৎসবে সহাবস্থানের সন্ধান পঞ্চান্নে স্বয়ম্বর, মধ্যবয়সে বিদ্রোহ: সোনোরা ঝা উপন্যাসে নারীর আকাঙ্ক্ষার নতুন ভাষা এআইএমএসের লড়াইয়ে সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যর্থ হলে ভরসা গবেষণা ও দ্রুত শনাক্তকরণ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু, শ্বশুরের করা হত্যা মামলা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে: তারেক রহমান রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সকালে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন বাংলাদেশ ডেইরি বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, দুধ উৎপাদন ও মান বাড়ানোর লক্ষ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কারের টালমাটাল ১৮ মাস, বদলে যাচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থার চিত্র বড় করপোরেট ঋণে লাগাম, বন্ড বাজারে ঝুঁকতে হবে শিল্পগোষ্ঠীগুলো: গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর

ইতিহাস পাঠ্যক্রমে নারীর ভূমিকা কম গুরুত্ব পাচ্ছে: নতুন গবেষণা

পাঠ্যপুস্তকে নারীর অনুপস্থিতি

ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে ইতিহাস শিক্ষায় নারীর অবদান প্রায় উপেক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, এলিজাবেথ প্রথম বা অ্যান বোলিন ছাড়া নারীদের উল্লেখ খুব কম পাওয়া যায়। মূলত রাজপরিবারের কিছু নারী ও ভোটাধিকার আন্দোলনের নেত্রী এমেলিন প্যাঙ্কহার্স্ট ও এমিলি ডেভিসন ছাড়া ইতিহাসে নারীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

গবেষণার ফলাফল

নারীবাদী সংগঠন “End Sexism in Schools”-এর গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার প্রথম তিন বছরে (Key Stage 3) শেখানো ইতিহাস পাঠের ৫৯ শতাংশে নারীদের একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। মাত্র ১২ শতাংশ পাঠ নারীদের নিয়ে ছিল, আর ২৯ শতাংশে নারীর নাম এসেছে অন্য প্রসঙ্গে।

যেসব ক্ষেত্রে নারীর কথা বলা হয়েছে, সেখানে তাদেরকে বেশিরভাগ সময় ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘জ্যাক দ্য রিপার’-এর হাতে নিহত নারীদের ইতিহাস পড়ানো হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্লেচলি পার্কের নারী কোড ভাঙা বিশেষজ্ঞদের সাফল্য উপেক্ষিত থেকেছে। গবেষকরা বলছেন, ইতিহাসে উপেক্ষিত নারীদের অবদান—যেমন ১৩৮১ সালের কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী জোহানা ফেররের কথা—উল্লেখ করলে শিক্ষাঙ্গনে নারী বিদ্বেষ কমাতে সহায়তা করবে।

What Schools Teach About Women's History Leaves a Lot to Be Desired

সমতার পাঠের প্রয়োজনীয়তা

সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেবি ব্রাজিল বলেন, “নারীদের প্রতিনিধিত্বশীল ইতিহাস পাঠ শুধু অতিরিক্ত সংযোজন নয়, বরং এটি ইতিহাসের যথার্থতা ও ন্যায্য শিক্ষার বিষয়। যদি তা না হয়, তাহলে আমরা জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে উপেক্ষা করছি এবং অতীতের বিকৃত চিত্র পড়াচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “ফলে মেয়েরা ইতিহাসের সাথে নিজেদের মিল খুঁজে পায় না, ছেলেরা সহমর্মিতা ও ইতিবাচক রোল মডেল থেকে বঞ্চিত হয়, আর পুরো সমাজ একটি বিকৃত ঐতিহাসিক ধারণা উত্তরাধিকারসূত্রে পায় যা নারী বিদ্বেষকে বাড়িয়ে তোলে।”

লেখকদের মতামত

খ্যাতনামা লেখক কেট মোস, যিনি ‘উইমেনস প্রাইজ ফর ফিকশন’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা, বলেন, “আমাদের সেই সব নারী ও মেয়েদের ইতিহাসে ফিরিয়ে আনতে হবে যাদের অবদান কখনো লিপিবদ্ধ হয়নি। নারী ও পুরুষ মিলে পৃথিবী গড়েছে—জনসংখ্যার অর্ধেকের সাফল্যকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।”

School history lessons minimise the role of women, report finds | History | The Guardian

নীতি পরিবর্তনের দাবি

সংগঠনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় পাঠ্যক্রমে নারীদের ভূমিকা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং পরীক্ষার বোর্ডগুলোকে বিভিন্ন যুগের আরও বেশি নারীর নাম প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে। বর্তমানে জাতীয় পাঠ্যক্রমে শুধু এলিজাবেথ প্রথম ও মেরি প্রথমের নাম রয়েছে। ২০২৩ সালে GCSE এবং A লেভেল ইতিহাস পরীক্ষার প্রশ্নে নারীর উপস্থিতি ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।

এই গবেষণা পরিষ্কার করে দেখিয়েছে, ইতিহাস শিক্ষায় নারীর অবদানকে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করলে শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং পুরো সমাজ একটি অসম ও পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস ধারণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শব্দে শব্দে বিভাজনের বিরুদ্ধে: সাহিত্য উৎসবে সহাবস্থানের সন্ধান

ইতিহাস পাঠ্যক্রমে নারীর ভূমিকা কম গুরুত্ব পাচ্ছে: নতুন গবেষণা

১১:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাঠ্যপুস্তকে নারীর অনুপস্থিতি

ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে ইতিহাস শিক্ষায় নারীর অবদান প্রায় উপেক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, এলিজাবেথ প্রথম বা অ্যান বোলিন ছাড়া নারীদের উল্লেখ খুব কম পাওয়া যায়। মূলত রাজপরিবারের কিছু নারী ও ভোটাধিকার আন্দোলনের নেত্রী এমেলিন প্যাঙ্কহার্স্ট ও এমিলি ডেভিসন ছাড়া ইতিহাসে নারীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

গবেষণার ফলাফল

নারীবাদী সংগঠন “End Sexism in Schools”-এর গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার প্রথম তিন বছরে (Key Stage 3) শেখানো ইতিহাস পাঠের ৫৯ শতাংশে নারীদের একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি। মাত্র ১২ শতাংশ পাঠ নারীদের নিয়ে ছিল, আর ২৯ শতাংশে নারীর নাম এসেছে অন্য প্রসঙ্গে।

যেসব ক্ষেত্রে নারীর কথা বলা হয়েছে, সেখানে তাদেরকে বেশিরভাগ সময় ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘জ্যাক দ্য রিপার’-এর হাতে নিহত নারীদের ইতিহাস পড়ানো হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্লেচলি পার্কের নারী কোড ভাঙা বিশেষজ্ঞদের সাফল্য উপেক্ষিত থেকেছে। গবেষকরা বলছেন, ইতিহাসে উপেক্ষিত নারীদের অবদান—যেমন ১৩৮১ সালের কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী জোহানা ফেররের কথা—উল্লেখ করলে শিক্ষাঙ্গনে নারী বিদ্বেষ কমাতে সহায়তা করবে।

What Schools Teach About Women's History Leaves a Lot to Be Desired

সমতার পাঠের প্রয়োজনীয়তা

সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেবি ব্রাজিল বলেন, “নারীদের প্রতিনিধিত্বশীল ইতিহাস পাঠ শুধু অতিরিক্ত সংযোজন নয়, বরং এটি ইতিহাসের যথার্থতা ও ন্যায্য শিক্ষার বিষয়। যদি তা না হয়, তাহলে আমরা জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে উপেক্ষা করছি এবং অতীতের বিকৃত চিত্র পড়াচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “ফলে মেয়েরা ইতিহাসের সাথে নিজেদের মিল খুঁজে পায় না, ছেলেরা সহমর্মিতা ও ইতিবাচক রোল মডেল থেকে বঞ্চিত হয়, আর পুরো সমাজ একটি বিকৃত ঐতিহাসিক ধারণা উত্তরাধিকারসূত্রে পায় যা নারী বিদ্বেষকে বাড়িয়ে তোলে।”

লেখকদের মতামত

খ্যাতনামা লেখক কেট মোস, যিনি ‘উইমেনস প্রাইজ ফর ফিকশন’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা, বলেন, “আমাদের সেই সব নারী ও মেয়েদের ইতিহাসে ফিরিয়ে আনতে হবে যাদের অবদান কখনো লিপিবদ্ধ হয়নি। নারী ও পুরুষ মিলে পৃথিবী গড়েছে—জনসংখ্যার অর্ধেকের সাফল্যকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।”

School history lessons minimise the role of women, report finds | History | The Guardian

নীতি পরিবর্তনের দাবি

সংগঠনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় পাঠ্যক্রমে নারীদের ভূমিকা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং পরীক্ষার বোর্ডগুলোকে বিভিন্ন যুগের আরও বেশি নারীর নাম প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে। বর্তমানে জাতীয় পাঠ্যক্রমে শুধু এলিজাবেথ প্রথম ও মেরি প্রথমের নাম রয়েছে। ২০২৩ সালে GCSE এবং A লেভেল ইতিহাস পরীক্ষার প্রশ্নে নারীর উপস্থিতি ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।

এই গবেষণা পরিষ্কার করে দেখিয়েছে, ইতিহাস শিক্ষায় নারীর অবদানকে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করলে শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং পুরো সমাজ একটি অসম ও পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস ধারণ করবে।