০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’ গাজায় যুদ্ধের নতুন ছায়া: থমকে গেছে পুর্ণগঠন,আবার শক্তি বাড়াচ্ছে হামাস রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি আত্মমুগ্ধ মানুষ? বিশ্বজুড়ে জরিপে চমকপ্রদ ফল কমেডি দুনিয়ায় বড় প্রত্যাবর্তন: নতুন সিরিজ ‘রেজি ডিঙ্কিন্স’ ফিরিয়ে আনছে ত্রিশ রকের সেই ঝড় আমেরিকার ‘রাজপরিবার’ কাহিনি: কেনেডি প্রেমগাথা সিরিজে বাস্তবের চেয়ে নাটকই বেশি? ওজন কমানোর বড়ি: চিকিৎসায় নতুন যুগ নাকি নতুন ঝুঁকি? মানুষের রক্তেই ঝুঁকছে মশা! বন ধ্বংসে বাড়ছে নতুন বিপদ রোজার রাতে আমিরাতের ‘ঘাবগা’ ঐতিহ্য: পরিবার-বন্ধুদের মিলনে ভরে ওঠে রাত তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা

জাকার্তার মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আতঙ্কে শহর, আহত ৫৫ জন

ভূমিকা

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি স্কুলের মসজিদে শুক্রবার নামাজের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন ১৭ বছর বয়সী ছাত্র, যিনি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় অস্ত্রোপচারের অধীনে রয়েছেন।


বিস্ফোরণের সময়কার পরিস্থিতি

ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর কেলাপা গাডিং এলাকায় অবস্থিত একটি স্কুল কমপ্লেক্সের মসজিদে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামাজ চলাকালীন হঠাৎ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্কুলের ক্যান্টিনকর্মী লুসিয়ানা (৪৩) বলেন, “আমরা হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনে বাইরে দৌড়ে যাই। প্রথমে মনে হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা সাউন্ড সিস্টেম বিস্ফোরিত হয়েছে। মুহূর্তেই সাদা ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যায়।”


সন্দেহভাজন ও তদন্ত

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশ প্রধান লিস্টিয়ো সিগিত প্রাবোও জানান, ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রই মূল সন্দেহভাজন। বিস্ফোরণের পর তিনিও গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে অস্ত্রোপচার চলছে।
ঘटनাস্থল থেকে পুলিশ একটি ‘খেলনা অস্ত্র’ উদ্ধার করেছে, যার গায়ে লেখা ছিল—“14 words. For Agartha” এবং “Brenton Tarrant: Welcome to hell।”

“14 words” হলো শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের একটি প্রচলিত স্লোগান। ব্রেন্টন ট্যারান্ট ছিলেন ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ভয়াবহ গণহত্যার অভিযুক্ত।
পুলিশ প্রধান বলেন, “আমরা এখনো যাচাই করছি—ওই ছাত্র কীভাবে অস্ত্রটি তৈরি করল, তার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কোথায় এটি তৈরি করা হয়েছিল।”


ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি

বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। কালো পোশাকধারী সশস্ত্র বাহিনী মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থান নেয় এবং সাঁজোয়া যান ও জরুরি টিম সেখানে মোতায়েন করা হয়।
মসজিদের বাইরের কাঠামোতে বড় কোনো ক্ষতি না হলেও ভিতরে জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং একটি দানবাক্স ও ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমানুয়েল তারিগান বলেন, “আমার সন্তানও এই স্কুলেই পড়ে। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি অনেকেই আহত, কারও মুখ বিকৃত হয়ে গেছে।”


ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ তথ্য

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে দুটি পৃথক বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কে দৌড়ে পালাচ্ছে, অনেকে কানে হাত চেপে রেখেছে বিস্ফোরণের শব্দ থেকে রক্ষা পেতে।


ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট

ইন্দোনেশিয়ায় অতীতে গির্জা ও পশ্চিমা স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু মসজিদে এমন বিস্ফোরণ বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ইসলামপন্থী উগ্রবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এই ঘটনার পর সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


জাকার্তার এই মসজিদ বিস্ফোরণ দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়, তবে তদন্ত চলছে।
আহতদের অধিকাংশকে স্থানীয় ইসলামী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সন্দেহভাজন ছাত্রের অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হচ্ছে।


#জাকার্তা #ইন্দোনেশিয়া #বিস্ফোরণ #স্কুলমসজিদ #সন্ত্রাসতদন্ত #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’

জাকার্তার মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আতঙ্কে শহর, আহত ৫৫ জন

১২:১৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

ভূমিকা

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি স্কুলের মসজিদে শুক্রবার নামাজের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন ১৭ বছর বয়সী ছাত্র, যিনি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় অস্ত্রোপচারের অধীনে রয়েছেন।


বিস্ফোরণের সময়কার পরিস্থিতি

ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর কেলাপা গাডিং এলাকায় অবস্থিত একটি স্কুল কমপ্লেক্সের মসজিদে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামাজ চলাকালীন হঠাৎ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্কুলের ক্যান্টিনকর্মী লুসিয়ানা (৪৩) বলেন, “আমরা হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনে বাইরে দৌড়ে যাই। প্রথমে মনে হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা সাউন্ড সিস্টেম বিস্ফোরিত হয়েছে। মুহূর্তেই সাদা ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যায়।”


সন্দেহভাজন ও তদন্ত

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশ প্রধান লিস্টিয়ো সিগিত প্রাবোও জানান, ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রই মূল সন্দেহভাজন। বিস্ফোরণের পর তিনিও গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে অস্ত্রোপচার চলছে।
ঘटनাস্থল থেকে পুলিশ একটি ‘খেলনা অস্ত্র’ উদ্ধার করেছে, যার গায়ে লেখা ছিল—“14 words. For Agartha” এবং “Brenton Tarrant: Welcome to hell।”

“14 words” হলো শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের একটি প্রচলিত স্লোগান। ব্রেন্টন ট্যারান্ট ছিলেন ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ভয়াবহ গণহত্যার অভিযুক্ত।
পুলিশ প্রধান বলেন, “আমরা এখনো যাচাই করছি—ওই ছাত্র কীভাবে অস্ত্রটি তৈরি করল, তার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কোথায় এটি তৈরি করা হয়েছিল।”


ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি

বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। কালো পোশাকধারী সশস্ত্র বাহিনী মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থান নেয় এবং সাঁজোয়া যান ও জরুরি টিম সেখানে মোতায়েন করা হয়।
মসজিদের বাইরের কাঠামোতে বড় কোনো ক্ষতি না হলেও ভিতরে জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং একটি দানবাক্স ও ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমানুয়েল তারিগান বলেন, “আমার সন্তানও এই স্কুলেই পড়ে। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি অনেকেই আহত, কারও মুখ বিকৃত হয়ে গেছে।”


ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ তথ্য

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে দুটি পৃথক বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কে দৌড়ে পালাচ্ছে, অনেকে কানে হাত চেপে রেখেছে বিস্ফোরণের শব্দ থেকে রক্ষা পেতে।


ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট

ইন্দোনেশিয়ায় অতীতে গির্জা ও পশ্চিমা স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু মসজিদে এমন বিস্ফোরণ বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ইসলামপন্থী উগ্রবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এই ঘটনার পর সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


জাকার্তার এই মসজিদ বিস্ফোরণ দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়, তবে তদন্ত চলছে।
আহতদের অধিকাংশকে স্থানীয় ইসলামী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সন্দেহভাজন ছাত্রের অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হচ্ছে।


#জাকার্তা #ইন্দোনেশিয়া #বিস্ফোরণ #স্কুলমসজিদ #সন্ত্রাসতদন্ত #সারাক্ষণরিপোর্ট