০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বন্দর আব্বাসে যাত্রীঘাটে বিমান হামলা, কেশম দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির প্লান্ট ধ্বংস ইরান যুদ্ধ থামাতে চীন ও পাকিস্তানের পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব: মুসলিম বিশ্বের জন্য নতুন আশা? ঢাকার শ্যামপুরে স্টিল মিলে বয়লার বিস্ফোরণ, আটজন শ্রমিক দগ্ধ শান্তি আলোচনা ভেস্তে দিতে হামলা? ইরানের কূটনীতিক খারাজির বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হানা, স্ত্রী নিহত ফরিদপুরে রেললাইনে প্রাণ গেল যমজ শিশুর, ক্রোধে রেলপথ অবরোধ করলেন বাসিন্দারা ট্রাম্পের দাবি ‘লক্ষ্য প্রায় পূরণ’, তেহরানের পাল্টা জবাব: ইরান যুদ্ধের ৩৩তম দিনে কী হচ্ছে  ইরান যুদ্ধের আঁচ বাংলাদেশে: সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ধ্বংসাবশেষে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত ইরান যুদ্ধকে জ্বালানি যুদ্ধে পরিণত করতে সমর্থ হয়েছে দুবাইয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় ছোট ঘরে জীবন: নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান নতুন শান্তি আলোচনা, যুদ্ধবিরতি ও সীমান্ত খুলতে জোর চেষ্টা

হামাস গাজা শান্তি পরিকল্পনা না মানলে ইসরায়েল একাই যুদ্ধ শেষ করবে: নেতানিয়াহু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজায় চলমান সংঘাত শেষ করার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একে “সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম বড় দিন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প বলেন, “আজ শান্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। চলুন একে মধ্যপ্রাচ্যের চিরস্থায়ী শান্তি বলি।” তিনি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদেরও ধন্যবাদ জানান, যারা এই চুক্তিকে সম্ভব করেছেন।

 ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা

ট্রাম্প জানান, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভাগ্যের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের দায়িত্ব দিচ্ছি। তারা চাইলে এ সুযোগে নিজেদের ভবিষ্যৎ শান্তির দিকে এগিয়ে নিতে পারবে।”

নেতানিয়াহুর সতর্কতা: পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে কঠোর ব্যবস্থা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা গাজায় যুদ্ধ শেষ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

তিনি উল্লেখ করেন, যদি হামাস চুক্তি মেনে নেয়, তবে ধীরে ধীরে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে হামাস অস্বীকার করলে বা শর্ত না মানলে ইসরায়েল একাই যুদ্ধ শেষ করবে। নেতানিয়াহুর ভাষায়, “এটি সহজ পথে হতে পারে, আবার কঠিন পথেও হতে পারে। কিন্তু শেষ করা হবেই।”

নেতানিয়াহু আরও বলেন, চলতি মাসে দোহায় যে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল তা কাতারের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং হামাসকে লক্ষ্য করেই অভিযান হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুররহমান আল থানিকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

 গাজা শান্তি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো

হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত “গাজা সংঘাত শেষের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা”-তে বলা হয়েছে:

* গাজাকে সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলে রূপ দেওয়া হবে, যাতে প্রতিবেশীদের জন্য কোনো হুমকি না থাকে।
* গাজা পুনর্গঠিত হবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা হবে।
* দুই পক্ষ চুক্তিতে রাজি হলেই যুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হবে।
* ইসরায়েল সম্মত সীমারেখায় সরে যাবে এবং বন্দি বিনিময়ের প্রস্তুতি নেবে।
* এ সময় পর্যন্ত সব সামরিক অভিযান, বোমাবর্ষণ স্থগিত থাকবে।

 বন্দি বিনিময় ও মুক্তির শর্ত

* চুক্তি কার্যকরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ফেরত দেওয়া হবে।
* সব জিম্মি ফেরত এলে ইসরায়েল ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১,৭০০ গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে, যাদের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক করা হয়েছিল, এর মধ্যে নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত।
* প্রতিটি মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিলে গাজার ১৫টি মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হবে।
* যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সম্মত হবে এবং অস্ত্র ত্যাগ করবে, হামাসের সেই সদস্যদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে।
* যারা গাজা ছাড়তে চাইবে, তাদের নিরাপদে অন্য দেশে পাঠানো হবে।

 মানবিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা

* জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্যান্য নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে গাজায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করবে।
* যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজা একটি অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে। এতে যোগ্য ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।
* নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা “বোর্ড অব পিস” পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে। এটি নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যান্য বিশ্বনেতাদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেমন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
* ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে গাজা পরিচালিত হবে, সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর তারাই দায়িত্ব নেবে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, “কেউ গাজা ছাড়তে বাধ্য হবে না। যারা থাকতে চাইবে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে একটি উন্নত গাজা গড়ার।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দর আব্বাসে যাত্রীঘাটে বিমান হামলা, কেশম দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির প্লান্ট ধ্বংস

হামাস গাজা শান্তি পরিকল্পনা না মানলে ইসরায়েল একাই যুদ্ধ শেষ করবে: নেতানিয়াহু

০৪:০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজায় চলমান সংঘাত শেষ করার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একে “সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম বড় দিন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প বলেন, “আজ শান্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। চলুন একে মধ্যপ্রাচ্যের চিরস্থায়ী শান্তি বলি।” তিনি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদেরও ধন্যবাদ জানান, যারা এই চুক্তিকে সম্ভব করেছেন।

 ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা

ট্রাম্প জানান, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভাগ্যের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের দায়িত্ব দিচ্ছি। তারা চাইলে এ সুযোগে নিজেদের ভবিষ্যৎ শান্তির দিকে এগিয়ে নিতে পারবে।”

নেতানিয়াহুর সতর্কতা: পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে কঠোর ব্যবস্থা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা গাজায় যুদ্ধ শেষ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

তিনি উল্লেখ করেন, যদি হামাস চুক্তি মেনে নেয়, তবে ধীরে ধীরে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে হামাস অস্বীকার করলে বা শর্ত না মানলে ইসরায়েল একাই যুদ্ধ শেষ করবে। নেতানিয়াহুর ভাষায়, “এটি সহজ পথে হতে পারে, আবার কঠিন পথেও হতে পারে। কিন্তু শেষ করা হবেই।”

নেতানিয়াহু আরও বলেন, চলতি মাসে দোহায় যে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল তা কাতারের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং হামাসকে লক্ষ্য করেই অভিযান হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুররহমান আল থানিকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

 গাজা শান্তি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো

হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত “গাজা সংঘাত শেষের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা”-তে বলা হয়েছে:

* গাজাকে সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলে রূপ দেওয়া হবে, যাতে প্রতিবেশীদের জন্য কোনো হুমকি না থাকে।
* গাজা পুনর্গঠিত হবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা হবে।
* দুই পক্ষ চুক্তিতে রাজি হলেই যুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হবে।
* ইসরায়েল সম্মত সীমারেখায় সরে যাবে এবং বন্দি বিনিময়ের প্রস্তুতি নেবে।
* এ সময় পর্যন্ত সব সামরিক অভিযান, বোমাবর্ষণ স্থগিত থাকবে।

 বন্দি বিনিময় ও মুক্তির শর্ত

* চুক্তি কার্যকরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ফেরত দেওয়া হবে।
* সব জিম্মি ফেরত এলে ইসরায়েল ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১,৭০০ গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে, যাদের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক করা হয়েছিল, এর মধ্যে নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত।
* প্রতিটি মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিলে গাজার ১৫টি মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হবে।
* যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সম্মত হবে এবং অস্ত্র ত্যাগ করবে, হামাসের সেই সদস্যদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে।
* যারা গাজা ছাড়তে চাইবে, তাদের নিরাপদে অন্য দেশে পাঠানো হবে।

 মানবিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা

* জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্যান্য নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে গাজায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করবে।
* যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজা একটি অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে। এতে যোগ্য ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।
* নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা “বোর্ড অব পিস” পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে। এটি নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যান্য বিশ্বনেতাদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেমন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
* ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে গাজা পরিচালিত হবে, সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর তারাই দায়িত্ব নেবে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, “কেউ গাজা ছাড়তে বাধ্য হবে না। যারা থাকতে চাইবে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে একটি উন্নত গাজা গড়ার।”