০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হারালে ভোটও হারায় বিশ্বাস বিদেশে বিনিয়োগের নতুন পথ, ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সামনে বাড়ছে বৈশ্বিক সুযোগ রুপির ওপর চাপ বাড়ছে, ডলারের বিপরীতে ১০০ ছোঁয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ভারত স্টিভ জবসের নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন, নতুন বইয়ে উঠে এলো অ্যাপলের নাটকীয় ইতিহাস মস্কোতে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রে বোরবনের সংকট, গুদামে জমে আছে কোটি কোটি ব্যারেল মদ রুপালি প্রজন্মের সঞ্চয় কীভাবে জাপানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাংলা নো না: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত জাগরণে ইন্দোনেশিয়ার নতুন মুখ ভেনেজুয়েলায় নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে মৃত্যুর কোলে মা

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি: চীনা সরবরাহকারীদের ওপর চাপ

ভিয়েতনাম সরকার দেশীয় সরবরাহকারীদের জন্য নতুন সুবিধা দিচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি কেনা ও প্রশিক্ষণের ব্যয়ভার বহন। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো চীনের মতো দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের প্রভাব হ্রাস করা।

১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া নতুন ডিক্রি ২০৫-এর আওতায় হ্যানয় ইলেকট্রনিক্স, পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে প্রণোদনা দিচ্ছে। বিশেষত ছোট ব্যবসাগুলোকে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মার্কিন শুল্কের প্রভাব

ভিয়েতনাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে—অ্যাপল থেকে শুরু করে জনপ্রিয় স্পোর্টস ব্র্যান্ড লুলুলেমন পর্যন্ত। তবে কাঁচামালের একটি বড় অংশ এখনো চীন থেকে আনা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। অর্থাৎ, যেসব পণ্য মূলত এক দেশে উৎপাদিত হলেও অন্য দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, সেগুলোতে এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। অন্যদিকে ভিয়েতনামী পণ্যে সাধারণত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

ডিক্রি ২০৫-এর প্রণোদনা

নতুন নীতিতে গবেষণা, সফটওয়্যার এবং সার্টিফিকেশনের ব্যয়ের ৫০ শতাংশ এবং পরামর্শ ও ব্র্যান্ড নিবন্ধনের ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার বহন করবে। তবে এই সুবিধা কেবল তাদের জন্য, যারা ইনপুট বা কাঁচামাল উৎপাদন করে—যেমন কাপড়, ব্যাটারি বা টায়ার—যা পরবর্তীতে অন্য পণ্যে ব্যবহৃত হয়।

ভিয়েতনামী আইন সংস্থা ইন্দোচাইন কাউন্সেলের পার্টনার ফাম থি থান লান, নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, “স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভিয়েতনামী কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।”

তবে তিনি যোগ করেন, “একই সঙ্গে এই নীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের, এমনকি চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও সহযোগিতা উৎসাহিত করছে। অর্থাৎ ভিয়েতনামের লক্ষ্য পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়, বরং বৈচিত্র্য আনা এবং শিল্পমূল্য বাড়ানো।”

বাণিজ্য চুক্তিতে ধাক্কা

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হঠাৎ শুল্ক ঘোষণায় তা ভেস্তে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ভিয়েতনামী আলোচকরা ভেবেছিলেন শুল্ক হবে প্রায় ১১ শতাংশ, কিন্তু ট্রাম্প ২০ শতাংশ ঘোষণা করায় বড় ধাক্কা খেয়েছে হ্যানয়। প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, এর বিনিময়ে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্ক দেবে।

নিক্কেই-এর গবেষণা অনুযায়ী, ভিয়েতনামি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট শুল্কহার আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেনি।

ছোট ব্যবসার অংশগ্রহণের শর্ত

ভিয়েতনামে কর্মরত ভিলাফ আইন সংস্থার সহযোগী এসকো ক্যাটে বলেন, ডিক্রি ২০৫ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সশিপমেন্ট শুল্ক ঘোষণার আগেই তৈরি করা হচ্ছিল। তার মতে, নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো: যে প্রকল্পগুলো প্রণোদনা পাবে, সেগুলোর অন্তত একটি ছোট বা মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) থাকতে হবে।

তিনি বলেন, “এটি ইঙ্গিত করে যে মূল উদ্দেশ্যের একটি হলো কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর রেজল্যুশন ৬৮ বাস্তবায়ন করা, যেখানে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা এবং এসএমই-গুলোকে সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে।”

অর্থনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত

চলতি বছরের মে মাসে কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো রেজল্যুশন ৬৮ জারি করে। এতে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে থাকা ভিয়েতনামী অর্থনীতিকে বেসরকারি উদ্যোগের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

এইভাবে, ভিয়েতনাম একদিকে ট্রাম্পের শুল্ক চাপ সামলাতে চাচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হারালে ভোটও হারায় বিশ্বাস

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি: চীনা সরবরাহকারীদের ওপর চাপ

০৫:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভিয়েতনাম সরকার দেশীয় সরবরাহকারীদের জন্য নতুন সুবিধা দিচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি কেনা ও প্রশিক্ষণের ব্যয়ভার বহন। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো চীনের মতো দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের প্রভাব হ্রাস করা।

১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া নতুন ডিক্রি ২০৫-এর আওতায় হ্যানয় ইলেকট্রনিক্স, পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে প্রণোদনা দিচ্ছে। বিশেষত ছোট ব্যবসাগুলোকে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মার্কিন শুল্কের প্রভাব

ভিয়েতনাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে—অ্যাপল থেকে শুরু করে জনপ্রিয় স্পোর্টস ব্র্যান্ড লুলুলেমন পর্যন্ত। তবে কাঁচামালের একটি বড় অংশ এখনো চীন থেকে আনা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। অর্থাৎ, যেসব পণ্য মূলত এক দেশে উৎপাদিত হলেও অন্য দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, সেগুলোতে এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। অন্যদিকে ভিয়েতনামী পণ্যে সাধারণত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

ডিক্রি ২০৫-এর প্রণোদনা

নতুন নীতিতে গবেষণা, সফটওয়্যার এবং সার্টিফিকেশনের ব্যয়ের ৫০ শতাংশ এবং পরামর্শ ও ব্র্যান্ড নিবন্ধনের ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার বহন করবে। তবে এই সুবিধা কেবল তাদের জন্য, যারা ইনপুট বা কাঁচামাল উৎপাদন করে—যেমন কাপড়, ব্যাটারি বা টায়ার—যা পরবর্তীতে অন্য পণ্যে ব্যবহৃত হয়।

ভিয়েতনামী আইন সংস্থা ইন্দোচাইন কাউন্সেলের পার্টনার ফাম থি থান লান, নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, “স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভিয়েতনামী কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।”

তবে তিনি যোগ করেন, “একই সঙ্গে এই নীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের, এমনকি চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও সহযোগিতা উৎসাহিত করছে। অর্থাৎ ভিয়েতনামের লক্ষ্য পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়, বরং বৈচিত্র্য আনা এবং শিল্পমূল্য বাড়ানো।”

বাণিজ্য চুক্তিতে ধাক্কা

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হঠাৎ শুল্ক ঘোষণায় তা ভেস্তে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ভিয়েতনামী আলোচকরা ভেবেছিলেন শুল্ক হবে প্রায় ১১ শতাংশ, কিন্তু ট্রাম্প ২০ শতাংশ ঘোষণা করায় বড় ধাক্কা খেয়েছে হ্যানয়। প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, এর বিনিময়ে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্ক দেবে।

নিক্কেই-এর গবেষণা অনুযায়ী, ভিয়েতনামি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট শুল্কহার আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেনি।

ছোট ব্যবসার অংশগ্রহণের শর্ত

ভিয়েতনামে কর্মরত ভিলাফ আইন সংস্থার সহযোগী এসকো ক্যাটে বলেন, ডিক্রি ২০৫ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সশিপমেন্ট শুল্ক ঘোষণার আগেই তৈরি করা হচ্ছিল। তার মতে, নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো: যে প্রকল্পগুলো প্রণোদনা পাবে, সেগুলোর অন্তত একটি ছোট বা মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) থাকতে হবে।

তিনি বলেন, “এটি ইঙ্গিত করে যে মূল উদ্দেশ্যের একটি হলো কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর রেজল্যুশন ৬৮ বাস্তবায়ন করা, যেখানে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা এবং এসএমই-গুলোকে সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে।”

অর্থনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত

চলতি বছরের মে মাসে কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো রেজল্যুশন ৬৮ জারি করে। এতে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে থাকা ভিয়েতনামী অর্থনীতিকে বেসরকারি উদ্যোগের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

এইভাবে, ভিয়েতনাম একদিকে ট্রাম্পের শুল্ক চাপ সামলাতে চাচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।