০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
শান্তির শেষ সুযোগ, নাকি আরেকটি বিরতির যুদ্ধ? একটি পাকিস্তানি পরিবারের দুবাই-যাত্রার গল্প গ্রীষ্মে নীল রঙ আর টো-রিংয়ে মুগ্ধ অনন্যা পান্ডে ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে প্রথমবার মিরা আন্দ্রেয়েভা, কোস্তিউককে উড়িয়ে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে হরমুজ প্রণালি: বিকল্পের কল্পনা আর বাস্তবতার সীমারেখা চিকিৎসার গতি নয়, প্রয়োজন মানবিক গভীরতা নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে আস্থার সংকট: কৌশলগত অংশীদারত্ব কি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে? চট্টগ্রাম কারাগার চার ভাগের পরিকল্পনা, অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে নতুন ভাবনা মাদারীপুরে বাসচাপায় আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধে দীর্ঘ যানজট সীমান্তে পুশইন ব্যর্থ, তিন দিন পর ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

চাঁদা না দিলে মাছ লুট: ফেনীতে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি, জেলেদের বিক্ষোভ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দুই মৎস্য প্রকল্পে চাঁদা না দেওয়ায় ৫ কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। জেলেরা অভিযোগ করেছেন, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অস্ত্রধারীরা হামলা চালিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে দেয়।

চরাঞ্চলের ঘেরে ভয়াবহ হামলা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর খোন্দকার ও চর রামনারায়ণ এলাকার দুটি মৎস্য প্রকল্পে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা মাছের ঘেরে প্রবেশ করে প্রহরী ও শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর বাঁধ কেটে দিলে মাছ নদী ও পুকুরে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলেরা জানান, হামলাকারীরা আগে থেকেই ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু প্রকল্পের মালিক ও শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা প্রতিশোধ নিতে আসে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার মাছ লুট হয়ে যায়, যা প্রকল্প মালিকদের জন্য ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি বয়ে আনে।

মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি

রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা ও প্রকল্পের মালিকরা ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

দুইজন আটকমামলা দায়ের

ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেন—খননযন্ত্র চালক আপু ও তার সহকারী সোহেলকে—এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ধারা ১৫৪-এ একটি মামলা নেয় এবং অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে।

জেলেদের ক্ষোভ: পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

মৎস্য প্রকল্প মালিক সমিতির সভাপতি শেখ রাসেল অভিযোগ করেন, আগের লিখিত অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। বরং সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছিল। জেলেরা আরও বলেন, পুলিশ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং মামলা না নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ক্ষতির পরও টিকে থাকার লড়াই

ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা জানান, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় তারা আগেই বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। পরে ঋণ ও ধার নিয়ে নতুন করে মাছ চাষ শুরু করেন। নানা হুমকি ও চাঁদাবাজির পরও তারা দেশের মৎস্য খাতে অবদান রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এই হামলায় তাদের অনেকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পুলিশের আশ্বাস

ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা স্মারকলিপি পেয়েছি এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। মৎস্য খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও প্রশাসনিক উদাসীনতা বাংলাদেশের উপকূলীয় মৎস্য খাতে ভয়ানক হুমকি হয়ে উঠছে। জেলেদের মতে, সঠিক বিচার না হলে তারা এই খাত থেকে একে একে সরে যেতে বাধ্য হবেন।

#ফেনী #সোনাগাজী #চাঁদাবাজি #মাছ_লুট #মৎস্য_প্রকল্প #বাংলাদেশ_সংবাদ #ফেনী_জেলা_প্রশাসক #পুলিশ_তদন্ত #সারাক্ষণ_রিপোর্ট #ফেনী_খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

শান্তির শেষ সুযোগ, নাকি আরেকটি বিরতির যুদ্ধ?

চাঁদা না দিলে মাছ লুট: ফেনীতে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি, জেলেদের বিক্ষোভ

১২:৪২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দুই মৎস্য প্রকল্পে চাঁদা না দেওয়ায় ৫ কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। জেলেরা অভিযোগ করেছেন, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অস্ত্রধারীরা হামলা চালিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে দেয়।

চরাঞ্চলের ঘেরে ভয়াবহ হামলা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর খোন্দকার ও চর রামনারায়ণ এলাকার দুটি মৎস্য প্রকল্পে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা মাছের ঘেরে প্রবেশ করে প্রহরী ও শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর বাঁধ কেটে দিলে মাছ নদী ও পুকুরে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলেরা জানান, হামলাকারীরা আগে থেকেই ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু প্রকল্পের মালিক ও শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা প্রতিশোধ নিতে আসে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার মাছ লুট হয়ে যায়, যা প্রকল্প মালিকদের জন্য ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি বয়ে আনে।

মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি

রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা ও প্রকল্পের মালিকরা ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

দুইজন আটকমামলা দায়ের

ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেন—খননযন্ত্র চালক আপু ও তার সহকারী সোহেলকে—এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ধারা ১৫৪-এ একটি মামলা নেয় এবং অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে।

জেলেদের ক্ষোভ: পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

মৎস্য প্রকল্প মালিক সমিতির সভাপতি শেখ রাসেল অভিযোগ করেন, আগের লিখিত অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। বরং সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছিল। জেলেরা আরও বলেন, পুলিশ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং মামলা না নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ক্ষতির পরও টিকে থাকার লড়াই

ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা জানান, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় তারা আগেই বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। পরে ঋণ ও ধার নিয়ে নতুন করে মাছ চাষ শুরু করেন। নানা হুমকি ও চাঁদাবাজির পরও তারা দেশের মৎস্য খাতে অবদান রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এই হামলায় তাদের অনেকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পুলিশের আশ্বাস

ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা স্মারকলিপি পেয়েছি এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। মৎস্য খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও প্রশাসনিক উদাসীনতা বাংলাদেশের উপকূলীয় মৎস্য খাতে ভয়ানক হুমকি হয়ে উঠছে। জেলেদের মতে, সঠিক বিচার না হলে তারা এই খাত থেকে একে একে সরে যেতে বাধ্য হবেন।

#ফেনী #সোনাগাজী #চাঁদাবাজি #মাছ_লুট #মৎস্য_প্রকল্প #বাংলাদেশ_সংবাদ #ফেনী_জেলা_প্রশাসক #পুলিশ_তদন্ত #সারাক্ষণ_রিপোর্ট #ফেনী_খবর