০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ভারতের ‘বর্ষাকাল’: গণতন্ত্রে নতুন জাগরণের ইঙ্গিত নিট-সংকটের প্রতিবাদে ভারতের তরুণদের উত্থান, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে নতুন বার্তা শনির বলয় থেকে কণা সংগ্রহ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট কিউডেঙ্গা টিকা নিয়ে নতুন সতর্কতা, ডেঙ্গু না হওয়া শিশুদের ঝুঁকি কতটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অনশন, মন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলন চলবে: আইসা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি-পেলেটগান ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছে, প্রশ্ন রাহুল গান্ধীর বার্ধক্য নয়, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ ভঙ্গুরতা: দীর্ঘজীবনের সঙ্গে সুস্থ থাকার নতুন সমীকরণ আসামে মন্ত্রীর মেয়ের বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী ২১ বছরেই বিধায়ক হওয়ার সুযোগ চান রেভন্ত রেড্ডি, তরুণদের রাজনীতিতে আনতে নতুন উদ্যোগ পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপ, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ‘একটিও ফাঁস হয়নি’

শিয়ালবাড়ি অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের মরদেহ শনাক্তে প্রয়োজন হতে পারে ডিএনএ পরীক্ষা

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার শিয়ালবাড়িতে অবস্থিত এনআর গার্মেন্টস কারখানা ও সংলগ্ন রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৬টি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা দ্রুতই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ধার করা মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মরদেহগুলোর চেহারা এতটাই দগ্ধ যে কোনোভাবেই শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তল্লাশি অভিযান শেষে আমরা পোশাক কারখানার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। তাদের মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে গেছে, কোনোভাবেই চেনা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভবনের ছাদ সম্পূর্ণভাবে টিন ও চাটাই দিয়ে ঢাকা ছিল এবং ছাদে যাওয়ার দরজার গ্রিলের দুই পাশে দুটি তালা লাগানো ছিল, যা এখনো বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। “এ কারণেই শ্রমিকরা উপরে পালানোর কোনো সুযোগ পাননি,” বলেন তিনি।

বিষাক্ত ধোঁয়ায় মৃত্যুর আশঙ্কা

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, “রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে বিষাক্ত সাদা ধোঁয়া বের হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধোঁয়ার প্রভাবে শ্রমিকরা অচেতন হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানে একজন স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়েছেন, তবে কোনো ফায়ার সার্ভিস সদস্য আহত হননি। “এখনও পর্যন্ত কারখানার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,” তিনি জানান।

নিয়ন্ত্রণে আসেনি রাসায়নিক গুদামের আগুন

ঘটনাস্থলে অন্তত ১২টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ করছে। গার্মেন্টস অংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রাসায়নিক গুদামের আগুন তখনও জ্বলছিল বলে জানান তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “ওই গুদামে ছয় থেকে সাত ধরনের রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষিত ছিল। এসব রাসায়নিকের প্রকৃতি অনুযায়ী আগুন পুরোপুরি নিভাতে সময় লাগবে।”

শনাক্তে সময় লাগবে

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ যে প্রত্যেকের পরিচয় নির্ধারণের একমাত্র উপায় হবে ডিএনএ পরীক্ষা। এদিকে স্থানীয়রা জানান, ভবনে থাকা কর্মীরা আগুন লাগার পর বের হতে না পেরে চিৎকার করছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ঘন ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়।

শিয়ালবাড়ির এই অগ্নিকাণ্ড আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কীভাবে মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে রাখা রাসায়নিক ও ভবনের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ।

#অগ্নিকাণ্ড #শিয়ালবাড়ি #মিরপুর #ফায়ারসার্ভিস #ডিএনএপরীক্ষা #কারখানাদুর্ঘটনা #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ‘বর্ষাকাল’: গণতন্ত্রে নতুন জাগরণের ইঙ্গিত

শিয়ালবাড়ি অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের মরদেহ শনাক্তে প্রয়োজন হতে পারে ডিএনএ পরীক্ষা

০১:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার শিয়ালবাড়িতে অবস্থিত এনআর গার্মেন্টস কারখানা ও সংলগ্ন রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৬টি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা দ্রুতই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ধার করা মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মরদেহগুলোর চেহারা এতটাই দগ্ধ যে কোনোভাবেই শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তল্লাশি অভিযান শেষে আমরা পোশাক কারখানার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। তাদের মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে গেছে, কোনোভাবেই চেনা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভবনের ছাদ সম্পূর্ণভাবে টিন ও চাটাই দিয়ে ঢাকা ছিল এবং ছাদে যাওয়ার দরজার গ্রিলের দুই পাশে দুটি তালা লাগানো ছিল, যা এখনো বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। “এ কারণেই শ্রমিকরা উপরে পালানোর কোনো সুযোগ পাননি,” বলেন তিনি।

বিষাক্ত ধোঁয়ায় মৃত্যুর আশঙ্কা

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, “রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে বিষাক্ত সাদা ধোঁয়া বের হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধোঁয়ার প্রভাবে শ্রমিকরা অচেতন হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানে একজন স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়েছেন, তবে কোনো ফায়ার সার্ভিস সদস্য আহত হননি। “এখনও পর্যন্ত কারখানার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,” তিনি জানান।

নিয়ন্ত্রণে আসেনি রাসায়নিক গুদামের আগুন

ঘটনাস্থলে অন্তত ১২টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ করছে। গার্মেন্টস অংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রাসায়নিক গুদামের আগুন তখনও জ্বলছিল বলে জানান তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “ওই গুদামে ছয় থেকে সাত ধরনের রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষিত ছিল। এসব রাসায়নিকের প্রকৃতি অনুযায়ী আগুন পুরোপুরি নিভাতে সময় লাগবে।”

শনাক্তে সময় লাগবে

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ যে প্রত্যেকের পরিচয় নির্ধারণের একমাত্র উপায় হবে ডিএনএ পরীক্ষা। এদিকে স্থানীয়রা জানান, ভবনে থাকা কর্মীরা আগুন লাগার পর বের হতে না পেরে চিৎকার করছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ঘন ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়।

শিয়ালবাড়ির এই অগ্নিকাণ্ড আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কীভাবে মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে রাখা রাসায়নিক ও ভবনের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ।

#অগ্নিকাণ্ড #শিয়ালবাড়ি #মিরপুর #ফায়ারসার্ভিস #ডিএনএপরীক্ষা #কারখানাদুর্ঘটনা #সারাক্ষণরিপোর্ট