০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ভালোবাসার ভিড়েও কেন মানুষ একা? নিঃসঙ্গতার বীজ লুকিয়ে থাকে শৈশবের অদৃশ্য ক্ষতে যেখানে পাহাড়ই শিল্পশালা: লাদাখের আকাশছোঁয়া প্রান্তরে শিল্পের নতুন ভাষা পুরুষের চোখে নারীর প্রতিচ্ছবি: গভীর বিশ্লেষণের শক্তি, সময়ের সঙ্গে সংলাপের অপূর্ণতা স্ক্রিনের ক্লান্তি ছেড়ে আবার চিঠির টানে তরুণেরা: হাতে লেখা খামে ফিরছে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি শুল্ক কমতেই চীনে ফিরছে মার্কিন কোম্পানিগুলোর উৎপাদন পরিকল্পনা ভারতের কলেজে ভর্তির স্বপ্ন এখন ব্যয়বহুল, বাড়ছে পরিবারের আর্থিক চাপ টানা ধাক্কায় অনোয়ারের জোট, নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে মালয়েশিয়া প্রতিবাদের ময়দানে এক সাংবাদিকের যাত্রা: কৌতূহল, সংশয় ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন নগরায়ণের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে বেঙ্গালুরুর ঐতিহ্যবাহী ফলের ঝুড়ি, সংকটে দেশি ফল ও সবজির চাষ যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় বাধা: চিকিৎসা চলছে, কিন্তু সরকারি সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪২)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • 138

মোটামুটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে এশিয়া মহাদেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

আনাতোল অবশ্য একটি ছোট্ট ক্ষেত্রে ইংরেজের আদেশ অমান্য করেছিলেন। কুর্মিটোলার ‘বাসা’য় দশ বছর বয়সের এক বালক আনাতোলের আদালীর কাজ করত। সেই আদালী ছেলেটি একবার আনাতোলের জীবন রক্ষা করেছিল- ওঁর জুতার ভেতরে একটি ছোট্ট বিষাক্ত সাপ লুকিয়েছিল, ছেলেটি সাপটিকে মেরে ফেলে এবং নিজের গর্ব প্রদর্শনের জন্য মেরে ফেলা সাপটিকে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল।

ছেলেটি এতো সামান্য ইংরেজি জানত যে তার সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে বেশ কঠিনই ছিল তবে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মৃত্যুর পরে ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট হলে ছেলেটি জানতে চেয়েছিল যে ট্রম্যান রুজভেল্টের ছেলে কিনা- এবং আনাতোল ছেলেটির প্রশ্ন ঠিক বুঝতে পেরেছিলেন। ঢাকা ত্যাগের পূর্বে এই আদালী ছেলেটিকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে অন্তত ছোটোখাটো কিছু একটা উপহার দেয়ার অদম্য ইচ্ছার কাছে আনাতোল আত্মসমর্পন করেন। নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে নিজের ‘অ্যালার্ম ক্লক’টি আর্দালী ছেলেটির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসের ছয় ও নয় তারিখে যথাক্রমে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুই ধরনের দুটো মার্কিন বোমার যথাক্রমে ইউরেনিয়াম-২৩৫ ও প্লুটোনিয়াম-২৩৯, নিক্ষেপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফ্রন্টের তথা জাপানের আত্মসমর্পনকে ত্বরান্বিত করে। মোটামুটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে এশিয়া মহাদেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। সেইসঙ্গে বিশ্বায়িত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেরও অবসান ঘটে।

১৯৪৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, চীনের জাতীয়তাবাদী সরকারের অস্থায়ী রাজধানী নানকিং-য়ে চীনে থেকে যাওয়া জাপানি কমান্ডারদের ও জেনেরালিসিমৌ চিয়াং কাই শেকের প্রতিনিধিদলের মধ্যে “অ্যাক্ট অব সারেন্ডার- চায়না থিয়েটার” স্বাক্ষরিত হয়। এই সই-সাবুদের মাধ্যমে চীনা থিয়েটারের জাপানি বাহিনী আত্মসমর্পন করে এবং চীন সুদীর্ঘ বছর পরে ফরমোজার (তাইওয়ান) সার্বভৌম ক্ষমতা পুনরায় ফিরে পায়।

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালোবাসার ভিড়েও কেন মানুষ একা? নিঃসঙ্গতার বীজ লুকিয়ে থাকে শৈশবের অদৃশ্য ক্ষতে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪২)

০৯:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

মোটামুটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে এশিয়া মহাদেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

আনাতোল অবশ্য একটি ছোট্ট ক্ষেত্রে ইংরেজের আদেশ অমান্য করেছিলেন। কুর্মিটোলার ‘বাসা’য় দশ বছর বয়সের এক বালক আনাতোলের আদালীর কাজ করত। সেই আদালী ছেলেটি একবার আনাতোলের জীবন রক্ষা করেছিল- ওঁর জুতার ভেতরে একটি ছোট্ট বিষাক্ত সাপ লুকিয়েছিল, ছেলেটি সাপটিকে মেরে ফেলে এবং নিজের গর্ব প্রদর্শনের জন্য মেরে ফেলা সাপটিকে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল।

ছেলেটি এতো সামান্য ইংরেজি জানত যে তার সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে বেশ কঠিনই ছিল তবে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মৃত্যুর পরে ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট হলে ছেলেটি জানতে চেয়েছিল যে ট্রম্যান রুজভেল্টের ছেলে কিনা- এবং আনাতোল ছেলেটির প্রশ্ন ঠিক বুঝতে পেরেছিলেন। ঢাকা ত্যাগের পূর্বে এই আদালী ছেলেটিকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে অন্তত ছোটোখাটো কিছু একটা উপহার দেয়ার অদম্য ইচ্ছার কাছে আনাতোল আত্মসমর্পন করেন। নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে নিজের ‘অ্যালার্ম ক্লক’টি আর্দালী ছেলেটির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসের ছয় ও নয় তারিখে যথাক্রমে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুই ধরনের দুটো মার্কিন বোমার যথাক্রমে ইউরেনিয়াম-২৩৫ ও প্লুটোনিয়াম-২৩৯, নিক্ষেপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফ্রন্টের তথা জাপানের আত্মসমর্পনকে ত্বরান্বিত করে। মোটামুটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে এশিয়া মহাদেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। সেইসঙ্গে বিশ্বায়িত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেরও অবসান ঘটে।

১৯৪৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, চীনের জাতীয়তাবাদী সরকারের অস্থায়ী রাজধানী নানকিং-য়ে চীনে থেকে যাওয়া জাপানি কমান্ডারদের ও জেনেরালিসিমৌ চিয়াং কাই শেকের প্রতিনিধিদলের মধ্যে “অ্যাক্ট অব সারেন্ডার- চায়না থিয়েটার” স্বাক্ষরিত হয়। এই সই-সাবুদের মাধ্যমে চীনা থিয়েটারের জাপানি বাহিনী আত্মসমর্পন করে এবং চীন সুদীর্ঘ বছর পরে ফরমোজার (তাইওয়ান) সার্বভৌম ক্ষমতা পুনরায় ফিরে পায়।

(চলবে)