০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদে ফেরার নতুন ইতিহাস: অর্ধশতাব্দী পর মানুষের মহাকাশযাত্রায় বড় পদক্ষেপ চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে দামার হ্যামলিনের জীবন বদলে দেওয়া হৃদরোগ সচেতনতার সংগ্রাম: বাঁচার লড়াই থেকে অন্যদের জীবন বাঁচানো পর্যন্ত আত্মার বন্ধুত্বের রহস্যে হারানো: ইমপারফেক্ট উইমেন-এর শোবিশ্লেষণ চাকরি ও শ্রমিকের সমন্বয়, তবে সন্তুষ্টি নেই কম্বোডিয়ার সাইবার অপরাধ দমন আইন প্যাম বন্ডি চেয়ার করেছিলেন মার্জিত বিদায়, কিন্তু ট্রাম্প চাইলেন তাকে বিদায় দিতে কিউবায় দুই হাজারের বেশি বন্দি মুক্তি যুদ্ধ থামাতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন পোপের

প্রেম-প্রতিশোধের নাটক: জোবায়েদকে হত্যায় উসকানির অভিযোগ বর্ষার বিরুদ্ধে

ঢাকার পুরান ঢাকার নূরবক্স লেন এলাকায় এক মর্মান্তিক প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ডের নতুন তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় জোবায়েদ নামের এক তরুণ প্রেমিকা বর্ষার দরজায় গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্ষা তাকে ফিরিয়ে দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই জোবায়েদ মারা যান।


প্রেমের দ্বন্দ্ব থেকে ঘৃণ্য হত্যার সূত্রপাত

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) নজরুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মহির ও বর্ষা প্রায় দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। পরে বর্ষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে জোবায়েদের। এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মহির।

বারবার মনোমালিন্য ও ঝগড়ার পর বর্ষা মহিরকে উসকানি দেন জোবায়েদকে হত্যা করতে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মহির তার বন্ধু আয়লানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দু’জন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বৌবাজার এলাকা থেকে ৫০০ টাকায় একটি সুইচগিয়ার-ছুরি কেনেন।


পরিকল্পিত হত্যার রাত

ঘটনার দিন বর্ষা মহিরকে জানিয়ে দেন কখন জোবায়েদ তার বাসায় প্রাইভেট পড়াতে আসবেন। নির্ধারিত সময়ে জোবায়েদ ভবনে প্রবেশ করতেই মহির তাকে বাধা দেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মহির ছুরিকাঘাত করেন জোবায়েদের গলায়।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, ওই ছুরিকাঘাতের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই জোবায়েদ মারা যান।

প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে জোবায়েদ হত্যা, পুলিশের নিরুৎসাহে এখনো হয়নি মামলা -  উন্নয়নসংবাদডটকম

শেষ মুহূর্তের আর্তনাদ ও বর্ষার ঠান্ডা প্রতিক্রিয়া

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মালিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষা স্বীকার করেছেন— জোবায়েদের শেষ কথা ছিল, “আমাকে বাঁচাও।”
কিন্তু বর্ষা নাকি জবাব দেন, “তুমি যদি এখান থেকে না যাও, আমি মহিরের সঙ্গে থাকতে পারব না।”
এই নির্মম প্রতিক্রিয়ার পর রক্তক্ষরণে জোবায়েদ প্রাণ হারান।


পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পরপরই পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, পল্টন ও বঙ্গশাল এলাকায় অভিযান চালায়। সোমবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মহির রহমান (১৯), বরজিস সাবনাম বর্ষা (১৯) এবং ফারদিন আহমেদ আয়লান (২০)।

হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার বঙ্গশাল থানার নূরবক্স লেন এলাকায়।

প্রেম, প্রতারণা ও প্রতিশোধের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তরুণদের সম্পর্কের জটিলতা ও সামাজিক নৈতিকতার প্রশ্ন। পুলিশ ইতিমধ্যে হত্যার পেছনের পরিকল্পনা, মানসিক প্রভাব ও প্ররোচনার দিকগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।


# ঢাকা হত্যাকাণ্ড, প্রেমঘটিত অপরাধ, জোবায়েদ হত্যা, বর্ষা-মহির মামলা, পুরান ঢাকা, সারাক্ষণ রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদে ফেরার নতুন ইতিহাস: অর্ধশতাব্দী পর মানুষের মহাকাশযাত্রায় বড় পদক্ষেপ

প্রেম-প্রতিশোধের নাটক: জোবায়েদকে হত্যায় উসকানির অভিযোগ বর্ষার বিরুদ্ধে

০৮:০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার পুরান ঢাকার নূরবক্স লেন এলাকায় এক মর্মান্তিক প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ডের নতুন তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় জোবায়েদ নামের এক তরুণ প্রেমিকা বর্ষার দরজায় গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্ষা তাকে ফিরিয়ে দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই জোবায়েদ মারা যান।


প্রেমের দ্বন্দ্ব থেকে ঘৃণ্য হত্যার সূত্রপাত

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) নজরুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মহির ও বর্ষা প্রায় দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। পরে বর্ষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে জোবায়েদের। এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মহির।

বারবার মনোমালিন্য ও ঝগড়ার পর বর্ষা মহিরকে উসকানি দেন জোবায়েদকে হত্যা করতে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মহির তার বন্ধু আয়লানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দু’জন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বৌবাজার এলাকা থেকে ৫০০ টাকায় একটি সুইচগিয়ার-ছুরি কেনেন।


পরিকল্পিত হত্যার রাত

ঘটনার দিন বর্ষা মহিরকে জানিয়ে দেন কখন জোবায়েদ তার বাসায় প্রাইভেট পড়াতে আসবেন। নির্ধারিত সময়ে জোবায়েদ ভবনে প্রবেশ করতেই মহির তাকে বাধা দেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মহির ছুরিকাঘাত করেন জোবায়েদের গলায়।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, ওই ছুরিকাঘাতের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই জোবায়েদ মারা যান।

প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে জোবায়েদ হত্যা, পুলিশের নিরুৎসাহে এখনো হয়নি মামলা -  উন্নয়নসংবাদডটকম

শেষ মুহূর্তের আর্তনাদ ও বর্ষার ঠান্ডা প্রতিক্রিয়া

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মালিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষা স্বীকার করেছেন— জোবায়েদের শেষ কথা ছিল, “আমাকে বাঁচাও।”
কিন্তু বর্ষা নাকি জবাব দেন, “তুমি যদি এখান থেকে না যাও, আমি মহিরের সঙ্গে থাকতে পারব না।”
এই নির্মম প্রতিক্রিয়ার পর রক্তক্ষরণে জোবায়েদ প্রাণ হারান।


পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পরপরই পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, পল্টন ও বঙ্গশাল এলাকায় অভিযান চালায়। সোমবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মহির রহমান (১৯), বরজিস সাবনাম বর্ষা (১৯) এবং ফারদিন আহমেদ আয়লান (২০)।

হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার বঙ্গশাল থানার নূরবক্স লেন এলাকায়।

প্রেম, প্রতারণা ও প্রতিশোধের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তরুণদের সম্পর্কের জটিলতা ও সামাজিক নৈতিকতার প্রশ্ন। পুলিশ ইতিমধ্যে হত্যার পেছনের পরিকল্পনা, মানসিক প্রভাব ও প্ররোচনার দিকগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।


# ঢাকা হত্যাকাণ্ড, প্রেমঘটিত অপরাধ, জোবায়েদ হত্যা, বর্ষা-মহির মামলা, পুরান ঢাকা, সারাক্ষণ রিপোর্ট