১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
এআইএমএসের লড়াইয়ে সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যর্থ হলে ভরসা গবেষণা ও দ্রুত শনাক্তকরণ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু, শ্বশুরের করা হত্যা মামলা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে: তারেক রহমান রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সকালে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন বাংলাদেশ ডেইরি বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, দুধ উৎপাদন ও মান বাড়ানোর লক্ষ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কারের টালমাটাল ১৮ মাস, বদলে যাচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থার চিত্র বড় করপোরেট ঋণে লাগাম, বন্ড বাজারে ঝুঁকতে হবে শিল্পগোষ্ঠীগুলো: গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে আগামী সপ্তাহে বিজিবির অভিযানে ২০২৫ সালে ১৯ হাজার ৮০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

স্থানীয় কীটনাশক উৎপাদনে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে

বাংলাদেশে স্থানীয় কীটনাশক উৎপাদকরা এখন কঠিন সংকটে পড়েছেন। কারণ, দেশে তৈরি কীটনাশকের কাঁচামালে করের হার বিদেশি প্রস্তুত পণ্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এতে স্থানীয় কারখানাগুলো উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং দেশের আত্মনির্ভরশীলতার পথে বড় বাধা তৈরি করছে।


কর-ভারের কারণে স্থানীয় উৎপাদনে ধস

দেশে তৈরিকৃত কীটনাশক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আমদানিকৃত শেষ পণ্যে যেখানে মাত্র ৫ শতাংশ কর দিতে হয়, সেখানে স্থানীয় উৎপাদকদের কাঁচামাল আমদানিতে দিতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত কর। এই বিশাল ব্যবধানের ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক কারখানা কম সক্ষমতায় চলছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।


কৃষকের খরচ বাড়ছে

শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কাঁচামালে যদি কর ছাড় দেয়া হয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদকরা খুচরা বাজারে অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমাতে পারবেন। এতে কৃষকদের জন্য কীটনাশকের খরচ কমে যাবে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়বে।


নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা স্থবির

স্থানীয় উৎপাদকরা বারবার সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে করের এই বৈষম্য দূর করার দাবি তুলেছেন। Bangladesh Agrichemical Manufacturing Association (BAMA)-এর সভাপতি কে এস এম মোস্তফিজুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি।


সভার অংশগ্রহণকারীরা

ওই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস) মোহাম্মদ মুবিনুল কবির। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


স্থানীয় শিল্পের হতাশা

উৎপাদকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এনবিআর আমদানিকারকদের এত সুবিধা দিচ্ছে, অথচ স্থানীয় শিল্পের কথা বিবেচনায় নিচ্ছে না। তাদের মতে, কর কাঠামো সংশোধন করা হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নীতিমালার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম এক চিঠিতে জানিয়েছেন—স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাঁচামাল আমদানিতে করমুক্তির পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। এ সময় “স্থানীয় কীটনাশক উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ” শীর্ষক এক বৈঠকে ১১টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের কীটনাশক শিল্প বর্তমানে করের ভারে চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। আমদানিকারকদের তুলনায় স্থানীয় উৎপাদকরা কর ও উৎপাদন ব্যয়ে পিছিয়ে পড়ছেন, যার প্রভাব পড়ছে কৃষক ও কৃষি খাতেও। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, কর কাঠামো সংস্কারই এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ, যা দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও সাশ্রয়ী ও আত্মনির্ভরশীল পথে এগিয়ে নিতে পারে।


#কীটনাশক #স্থানীয়উৎপাদন #বাংলাদেশঅর্থনীতি #কৃষিখাত #NBR #BAMA #বাণিজ্যমন্ত্রণালয় #করনীতি #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

এআইএমএসের লড়াইয়ে সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যর্থ হলে ভরসা গবেষণা ও দ্রুত শনাক্তকরণ

স্থানীয় কীটনাশক উৎপাদনে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে

০২:৩৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে স্থানীয় কীটনাশক উৎপাদকরা এখন কঠিন সংকটে পড়েছেন। কারণ, দেশে তৈরি কীটনাশকের কাঁচামালে করের হার বিদেশি প্রস্তুত পণ্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এতে স্থানীয় কারখানাগুলো উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং দেশের আত্মনির্ভরশীলতার পথে বড় বাধা তৈরি করছে।


কর-ভারের কারণে স্থানীয় উৎপাদনে ধস

দেশে তৈরিকৃত কীটনাশক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আমদানিকৃত শেষ পণ্যে যেখানে মাত্র ৫ শতাংশ কর দিতে হয়, সেখানে স্থানীয় উৎপাদকদের কাঁচামাল আমদানিতে দিতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত কর। এই বিশাল ব্যবধানের ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক কারখানা কম সক্ষমতায় চলছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।


কৃষকের খরচ বাড়ছে

শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কাঁচামালে যদি কর ছাড় দেয়া হয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদকরা খুচরা বাজারে অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমাতে পারবেন। এতে কৃষকদের জন্য কীটনাশকের খরচ কমে যাবে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়বে।


নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা স্থবির

স্থানীয় উৎপাদকরা বারবার সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে করের এই বৈষম্য দূর করার দাবি তুলেছেন। Bangladesh Agrichemical Manufacturing Association (BAMA)-এর সভাপতি কে এস এম মোস্তফিজুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি।


সভার অংশগ্রহণকারীরা

ওই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস) মোহাম্মদ মুবিনুল কবির। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


স্থানীয় শিল্পের হতাশা

উৎপাদকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এনবিআর আমদানিকারকদের এত সুবিধা দিচ্ছে, অথচ স্থানীয় শিল্পের কথা বিবেচনায় নিচ্ছে না। তাদের মতে, কর কাঠামো সংশোধন করা হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নীতিমালার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম এক চিঠিতে জানিয়েছেন—স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাঁচামাল আমদানিতে করমুক্তির পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। এ সময় “স্থানীয় কীটনাশক উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ” শীর্ষক এক বৈঠকে ১১টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের কীটনাশক শিল্প বর্তমানে করের ভারে চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। আমদানিকারকদের তুলনায় স্থানীয় উৎপাদকরা কর ও উৎপাদন ব্যয়ে পিছিয়ে পড়ছেন, যার প্রভাব পড়ছে কৃষক ও কৃষি খাতেও। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, কর কাঠামো সংস্কারই এখন সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ, যা দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও সাশ্রয়ী ও আত্মনির্ভরশীল পথে এগিয়ে নিতে পারে।


#কীটনাশক #স্থানীয়উৎপাদন #বাংলাদেশঅর্থনীতি #কৃষিখাত #NBR #BAMA #বাণিজ্যমন্ত্রণালয় #করনীতি #সারাক্ষণরিপোর্ট